সম্পাদকীয়

প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের থেকে কাক্সিক্ষত সেবা প্রত্যাশিত

আমাদের পুলিশ বাহিনীর রয়েছে গৌরবোজ্জ্বল অতীত, আছে আত্মত্যাগের দৃষ্টান্ত। বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী এ সংস্থার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস অনেক কম। পুলিশ দুষ্টের দমন ও শিষ্টের লালন করবে এটিই প্রত্যাশা। সে হিসেবে আমাদের পুলিশ জনবান্ধব হয়ে ওঠেনি। বিপদে পড়লেও পুলিশকে এড়িয়ে চলেন সাধারণ মানুষ। চিহ্নিত কিছু ঘটনা পুলিশকে বিব্রত করে। স্যার না বলে ভাই সম্বোধন করায় ওসির বেদম পিটুনির শিকার হয়েছেন সাহায্যপ্রার্থী। অনেকেই বলেন, মানুষকে মানুষ মনে করে না পুলিশ। স্বতঃপ্রবৃত্ত হয়ে পুলিশও যদি কোনো জরিপ পরিচালনা করে, তাতেও উঠে আসবে পুলিশের প্রতি সাধারণ মানুষের নেতিবাচক ধারণা। এটি কিন্তু একদিনে হয়নি।
পুলিশ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বা উপরের নির্দেশ পালন করে মাত্র এমন কথা বলারও সুযোগ নেই। কারণ সাধারণ মানুষ এখন বোঝেন, কোনটি উপরের নির্দেশ। প্রকাশ্যে পুলিশের সদস্যরা এমন কিছু ঘটনায় জড়িত হচ্ছেন, সেটির জন্য এ সংস্থাকে লজ্জায় পড়তে হচ্ছে।
গতকাল শেয়ার বিজের ‘কিছু ওসি-ডিসি নিজেদের জমিদার মনে করেন: হাইকোর্ট’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। উচ্চ আদালতের এ মন্তব্যে সাধারণ মানুষের মতোই প্রতিফলিত হয়েছে।
ফেনীতে মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহানের বক্তব্যের ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলার শুনানিতে আদালত আরও বলেন, ভুক্তভোগী (নুসরাত) থানায় যাওয়ার পর তাকে সুরক্ষা দেওয়া হলে হয়তো ঘটনা এতদূর যেত না। তৎকালীন ওসি পুলিশ কর্মকর্তাদের ভাবমূর্তি নষ্ট করেছেন বলে মন্তব্য করেন আদালত।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের অবদান স্বীকার করে আমরা বলছি, কিছু অসাধু সদস্যের জন্য পুরো প্রতিষ্ঠানের দুর্নাম হচ্ছে। অথচ পুলিশের পক্ষ থেকে প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা দৃশ্যমান নয়। আগে বলা হতো, বেতন স্বল্পতা পুলিশকে অপরাধপ্রবণ করে তুলেছে। এখন এটি বলার সুযোগ নেই। এখন ইয়াবা ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ছে পুলিশ। চলার পথে অথবা বাসায় কাউকে তল্লাশি করার পর ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট পুলিশকে নিজের থানায় রিপোর্ট করতে হয়। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কাছে অবৈধ কিছু পাওয়া না গেলে ‘অবৈধ কিছু পাওয়া যায়নি’ মর্মে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে লিখিত অনুলিপি দিতে হবে। অথচ এখন এক ব্যবসায়ীর দোকানে বা ব্যাগে ইয়াবা রেখে ব্যক্তিকে ফাঁসানোর চেষ্টায় দৃষ্টান্ত রয়েছে পুলিশের বিরুদ্ধে।
আমরা মনে করি, আইন লঙ্ঘনকারী পুলিশের বিরুদ্ধে নেওয়া ব্যবস্থা যথেষ্ট নয় বলেই অপরাধ কমছে না। অপরাধ দমনের দায়িত্বে নিয়োজিত প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের মধ্যে যারাই অপরাধে লিপ্ত হবে, তাদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নিয়ে রাষ্ট্রীয় সংস্থাটির গৌরবোজ্জ্বল অতীত ফিরিয়ে আনা হবে বলে আমাদের প্রত্যাশা।

সর্বশেষ..