প্রজাবৎসল জমিদার আনন্দ রায়ের স্মৃতি রক্ষায় ব্যবস্থা নিন

কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার গোবিন্দপুর ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামের রায়বাহাদুর আনন্দ রায় চৌধুরী দানবীর ও প্রজাবৎসল জমিদার হিসেবে খ্যাত ছিলেন। শতবর্ষের ঐতিহ্যবাহী কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের প্রতিষ্ঠাতাও তিনি। তাদের জমিদারি বেশ বড় ছিল। চারপাশের গ্রামগুলোতে অনেক সম্পত্তি ছিল। তারা বিভিন্ন স্থানে স্কুল-কলেজ প্রতিষ্ঠা করেছেন, কিন্তু তাদের সম্পত্তি এখন এলকাবাসীর দখলে। দেখার কেউ নেই, কারণ তার উত্তরসূরি কেউ নেই এখানে। ভারতে বসবাসরত আনন্দ রায় চৌধুরীর বংশধররা কয়েক বছর পরপর এসে পিতৃপুরুষের ভিটা দেখে যান। বাড়ির সামনে ভূমি অফিস থাকা সত্ত্বেও বেদখল হয়ে যাচ্ছে তার সম্পত্তি। তার কিছু সম্পত্তি অর্পিত হিসেবে জেলা প্রশাসনের নামে রেকর্ড রয়েছে। কিছু তাদের বংশধররা বিনিময় করেছেন। আর কিছু সম্পত্তি বিভিন্ন মানুষের দখলে চলে গেছে।
ফলে হারিয়ে যাচ্ছে আনন্দ রায়ের ঐতিহ্য। যেই আনন্দ রায় এতকিছু করছেন কুমিল্লার জন্য তার স্মৃতি কি
রক্ষা করা যায় না?
আনন্দ রায় চৌধুরীর প্রপৌত্র অশোক কুমার সিংহ ১৯৬৩ সালে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের মেলাঘর এলাকার ছমেদ আলী ভূঁইয়ার সঙ্গে কিছু সম্পত্তি বিনিময় করেন। তখন এখানে জমিদারির অনেক সম্পত্তি ও ভবন ছিল। শানবাঁধানো ঘাট ছিল। এসব এখন ধ্বংস হয়ে গেছে। তারা এখন একটি ভবনে থাকেন। এটি আনন্দ রায়ের মূল বসতদালান ছিল। বেশ পুরোনো ও জরাজীর্ণ হয়ে যাওয়ায় দোতলা ভবনের ওপরের অংশ ভেঙে একতলা রেখে ওপরে টিন দিয়ে এখন তারা বসবাস করছেন।
পত্রিকার প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানতে পারি, ‘১৯৬৩ সালের পর বিভিন্ন সময়ে ভুয়া কাগজ তৈরি করে স্থানীয়রা অবৈধভাবে ভোগদখল শুরু করেন। আনন্দ রায় চৌধুরীর বাড়ির পাশেই তার মায়ের স্মৃতিবিজড়িত মঠ। মঠের উপরিভাগ চুরি হয়ে গেছে, এখন ধ্বংসপ্রায়। স্থানীয়রা এখানে লাকড়ি রাখেন। বসতবাড়ির সামনে অন্দরমহলের একটি ধ্বংসপ্রায় তোরণ এখনও ইতিহাসের সাক্ষী। ঠিক কতটুকু সম্পত্তি বেদখল হয়ে রয়েছে, তার হিসাব পাওয়া যায়নি। মঠের দক্ষিণ, পূর্ব ও পশ্চিম পাশের বিশাল খালি মাঠ দখল করে রেখেছেন গ্রামের মানুষ। মঠের উত্তর পাশের খালি জায়গায় গ্রামের লোকজন ধানপাট শুকায়। তবে ভোগদখলকারীরা কেউ কেউ নিজেদের পক্ষে কাগজ থাকারও দাবি করেন। এ বিষয়ে তাদের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে কেউ রাজি হননি। শুধু আইনের লোকের কাছেই কথা বলবেন, অন্য কারও সঙ্গে নয়, এমনটাই বলেছেন তারা।’
আনন্দ রায় চৌধুরী ১৮৯৯ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর ভিক্টোরিয়া কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন। বাবা রাম দুলাল রায়ের প্রথম ছেলেসন্তান তিনি। জš§ ১৮৬৩ সালের ২৪ নভেম্বর। মৃত্যু ১৯২০ সালের ৮ নভেম্বর। দয়ালু জমিদার হিসেবে তিনি প্রজাদের মন জয় করতে পেরেছিলেন। লাকসাম এলাকার কৃষি উন্নয়নে তার অবদান রয়েছে। তিনি ভারতের বিভিন্ন স্থান থেকে উচ্চফলনশীল ধান সংগ্রহ করে নিজের বাড়িতে এনে চাষাবাদ করতেন। ফলন ভালো হলে ওই বীজ কৃষকের মাঝে বিলি করতেন। আনন্দ রায় চৌধুরী কুমিল্লার জন্য গৌরব ও সম্মানের। স্মৃতি রক্ষা করতে তার নামে এলাকায় অন্তত একটি পাঠাগারও করা যেতে পারে। প্রশাসন যেন নীরব। তাদের পক্ষ থেকে কোনো উদ্যোগও নেই। এখনই সময় তার স্মৃতি রক্ষা করা। প্রশাসন চাইলে খুব সহজেই তা করা সম্ভব।

শতাব্দী জুবায়ের
শিক্ষার্থী, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়

[email protected]