প্রতারণা বন্ধে উদ্যোগী হতে হবে সব পক্ষকেই

‘সাভারে বিকাশ নম্বর হ্যাক করে প্রতারণা: অভিযোগ করেও প্রতিকার পাচ্ছেন না ভুক্তভোগীরা’ শিরোনামে যে খবর ছাপা হয়েছে গতকালের শেয়ার বিজে, তা অনেক পাঠকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে থাকবে। প্রতিবেদক এতে যে বাস্তবতা তুুলে ধরেছেন, তা উদ্বেগজনক বৈকি। তিনি জানিয়েছেন, গ্রাহককে বিকাশ অফিসের পরিচয় দিয়ে প্রতারকরা বিকাশ নম্বর হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের কৌশল চর্চা করছে। সবচেয়ে মারাত্মক হলো, এ ব্যাপারে নাকি পুলিশকে জানিয়েও লাভ হচ্ছে না। বিকাশ কর্তৃপক্ষও এ ধরনের প্রতারণা রোধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণের বেলায় অনেকটা নীরব। অথচ মোবাইল ব্যাংকিংয়ে প্রতারণা রোধে তাদের অধিক সহযোগিতাই প্রত্যাশা করেন সবাই।
বিকাশ শুধু নয়, মোবাইল ব্যাংকিং সেবা প্রদানকারী প্রায় প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ রয়েছে এবং প্রতারণার ঘটনা একেবারেই ঘটেনি, তেমন মোবাইল ব্যাংকিং সেবা বোধকরি একটাও নেই। তবু বারবার বিকাশের প্রসঙ্গ ওঠে এজন্য যে, দেশে এ ধরনের সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বিকাশই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে জনপ্রিয়। খেয়াল করার বিষয়, সহজে ব্যবহারযোগ্য হওয়ায় কার্যক্রম চালুর প্রায় শুরু থেকে এ সেবাটি ঘিরে বিভিন্ন প্রতারণার ঘটনা চলে আসছে। বায়োমেট্রিক সিম রেজিস্ট্রেশনের আগে ‘জিনের বাদশা’ কর্তৃক ব্যাপকভাবে ব্যবহƒত হয়েছে এ সার্ভিস। অবৈধভাবে রেমিট্যান্স আনয়নে বিকাশ ব্যবহারের অভিযোগ এখনও বিদ্যমান। তারপর জঙ্গি কার্যক্রমে অর্থায়ন তো রয়েছেই, বিকাশ নাকি জুয়াড়িদেরও প্রিয় লেনদেন মাধ্যম। তবে রেমিট্যান্স আনয়ন বা জঙ্গি অর্থায়ন অথবা বিকাশের মাধ্যমে জুয়া খেলা যে ধরনের অপরাধ; একই সেবার সহায়তায় সংঘটিত প্রতারণার ঘটনা প্রকৃতিগতভাবে ভিন্ন। বিকাশের মাধ্যমে প্রতারণার মাত্রাও বেশি। ফলে মোবাইল ব্যাংকিং সেবার সার্বিক অপব্যবহার রোধ, বিশেষত এ প্রতারণার ঘটনা রোধে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক হওয়া উচিত ছিল আরও বেশি। এক্ষেত্রে পারস্পরিক সমন্বয় ও সহযোগিতার যে প্রয়োজন ছিল, তার ঘাটতিও আলোচ্য অপরাধপ্রবণতা কিছুটা উসকে দিয়েছে বললে ভুল হবে না।
দুর্ভাগ্য বলতে হয়, বিকাশের মাধ্যমে প্রতারণার ঘটনায় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি উত্থাপন করলে পুলিশ দেখিয়ে দেয় বিকাশ কর্তৃপক্ষকে; বিকাশ ইঙ্গিত করে বাংলাদেশ ব্যাংকের দিকে। পুলিশের বক্তব্য হচ্ছে, তারা ব্যবস্থা নিতে গেলে বিকাশ কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে সাড়া মেলে না। ফলে তাদের পক্ষে প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা নেওয়া কীভাবে সম্ভব? কারও কারও মতে, বিকাশ কর্তৃপক্ষ বোধহয় মনেপ্রাণে বিশ্বাস করেÑতাদের কাজ শুধু মুনাফা আহরণ; প্রতারণা ঘটে থাকলে তা সামলাবে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ অবস্থায় আমরা মনে করি, একে অন্যের ঘাড়ে বোঝা চাপিয়ে দেওয়াটা কোনো সমাধান নয়। প্রতারণা রোধে প্রতিটি পক্ষেরই সক্রিয় অংশগ্রহণ কাম্য। এখানে যেমন গ্রাহকের সচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়োজন রয়েছে; তেমনই করণীয় রয়েছে পুলিশ, বিকাশ কর্তৃপক্ষ ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের। লক্ষণীয়, আগে বিকাশে প্রতারণা ঘটত ‘আপনার নম্বরে ভুলক্রমে ক্যাশইন হয়েছে’Ñএমন কথা বলে। কালের পরিক্রমায় ও বায়োমেট্রিক রেজিস্ট্রেশনের পর থেকে সে কৌশলে অনেকটা পরিবর্তন এসেছে। যদিও পুরোপুরি সম্ভব নয় বলেই অনেকের অভিমত, তবু বিকাশেও হ্যাকিংয়ের অপচেষ্টা বাড়ছে এখন। এ অবস্থায় মোবাইল ব্যাংকিংয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিটি পক্ষ সজাগ না থাকলে ওই ধরনের ঘটনার মাত্রা বাড়বে। ফলে সচেতনতামূলক কর্মসূচি বৃদ্ধির পাশাপাশি এক্ষেত্রে দ্রুত উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে হবে নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষকে।