প্রতিযোগিতায় টিকতে হিমশিম খাচ্ছে মৌলভিত্তির শেয়ার

মুস্তাফিজুর রহমান নাহিদ: পুঁজিবাজারের মন্দা অবস্থায় রীতিমতো দর বৃদ্ধির ঝলক দেখাচ্ছেন অপেক্ষাকৃত ছোট এবং স্বল্প মূলধনি কোম্পানি। কোনো বাচবিচার ছাড়াই বাড়ছে এসব কোম্পানির শেয়ারদর। পক্ষান্তরে এসব কোম্পানির সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকতে পারছে না বড় এবং মৌলভিত্তি সম্পন্ন কোম্পানি। ছোট কোম্পানির ধাক্কায় সংকুচিত হচ্ছে এসব প্রতিষ্ঠান। প্রতিনিয়তই পুঁজিবাজারে এমন পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে। গতকালও এর ব্যতিক্রম ছিল না। দিনজুড়ে আধিপত্য ছিল স্বল্প মূলধনি কোম্পানির।
গতকালের বাজারচিত্রে দেখা যায়, দর বৃদ্ধির দৌড়ে এগিয়ে ছিল সিঅ্যান্ডএ টেক্সটাইল। লেনদেনের শুরু থেকেই এ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর বাড়তে থাকে। এক সময় যা বিক্রেতা শূন্য হয়ে যায়। একই অবস্থা হয় সাভার রিফ্যান্টরিজ, আজিজ পাইপস এবং জুট স্পিনার্সের। এছাড়া অস্বাভাবিক দর বৃদ্ধি পায় লিগ্যাসি ফুটওয়্যর, রিজেন্ট টেক্সটাইল, এইচআর টেক্সটাইল, মোজাফফর হোসেন হোসেন স্পিনিং মিলসহ আরও কিছু কোম্পানি।
অন্যদিকে গতকালও দরপতন হয়েছে পুঁজিবাজারের সবচেয়ে শক্তিশালী খাত ব্যাংকের। এ খাতের ৩০ কোম্পানির মধ্যে দরপতন হয়েছে ১৯ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের। বাকি ১১ কোম্পানির মধ্যে ছয়টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর সামান্য বেড়েছে। আর অপরিবর্তিত ছিল পাঁচটি কোম্পানির শেয়ারের দর। একই অবস্থা আর্থিক খাতের। এ খাতের ২৩ কোম্পানির মধ্যে ১৮টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর কমেছে। জ্বালানি ও শক্তি খাতের অবস্থানও ছিল একই রকম। এ খাতের ১৮ কোম্পানির মধ্যে দর কমেছে ১৪টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের। একইভাবে কমেছে গ্রামীণফোন স্কয়ার ফার্মাসহ মৌলভিত্তিসম্পন্ন কোম্পানি এবং অধিকাংশ বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দর। এসব শেয়ার ছেড়ে কোনো বাচবিচার ছাড়া বিনিয়োগকারীরা ছুটেছেন ছোট এবং স্বল্প মূলধনি কোম্পানির পেছনে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, এক শ্রেণির বিনিয়োগকারী অধিক লাভের আশায় এসব কোম্পানিতে বিনিয়োগ করছেন। অর্থের জোগান দিতে তারা কম দরে ছেড়ে দিচ্ছেন মৌলভিত্তি সম্পন্ন কোম্পানির শেয়ার। এ অর্থ নিয়ে বিনিয়োগ করছেন ছোট ছোট কোম্পানি। যে কারণে ওইসব শেয়ারের দর বাড়ছে। পক্ষান্তরে কমে যাচ্ছে ভালো মানের শেয়ারদর। ফলে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছে এসব কোম্পানি।
এদিকে যারা মৌলভিত্তিসম্পন্ন কোম্পানি ছেড়ে স্বল্প সময়ে অধিক লাভের আশায় দুর্বল এবং ছোট কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগ করছেন তাদের ভবিষ্যৎ ভালো নয় বলে জানিয়েছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে এসব কোম্পানিতে বিনিয়োগ করা মানে লাভের চেয়ে লোকসানের ঝুঁকি অনেক বেশি। যারা রাতারাতি মূলধন দ্বিগুণ করার জন্য এসব কোম্পানিতে বিনিয়োগ করছেন তাদের পরিস্থিতি ভালো নাও হতে পারে।
এ প্রসঙ্গে ডিএসইর সাবেক প্রেসিডেন্ট শাকিল রিজভী বলেন, একটি কোম্পানির শেয়ারদর যতই বাড়–ক না কেন একটা সময় তার সঠিক দরে ফিরে আসবে। যারা কোম্পানির আর্থিক অবস্থা না দেখে কিংবা অন্যের কথায় বিনিয়োগ করেন তাদের বিষয়টি মাথায় রাখা দরকার। ঝুঁকি নিয়ে স্বল্প সময়ে অধিক লাভের চেয়ে অপেক্ষাকৃত ঝুঁকিমুক্ত শেয়ারে অধিকসময় অপেক্ষা করাও ভালো।
একই প্রসঙ্গে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, ছোট বা স্বল্প মূলধনি কোম্পানির যদি ভালো আউটসোর্সিং থাকে তাহলে ওই শেয়ারের দর বাড়তে পারে। তবে এসব কোম্পানিতে বিনিয়োগের আগে এর শেয়ারের পিই-রেশিও, ইপিএস এনএভিপিএস কেমন সেগুলো ভালো করে দেখে নেওয়া দরকার। কোম্পানিগুলোর যদি উৎপাদন ভালো না থাকে কিংবা শেয়ারের দর অতিমূল্যায়িত হয়ে যায় তবে ওই শেয়ার একসময় বিনিয়োগকারীর জন্য বিপদের কারণ হতে পারে।
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি তালিকাভুক্ত কিছু কোম্পানির শেয়ারদর অস্বাভাবিক হারে বাড়ছে। প্রতিষ্ঠানগুলোকে কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হচ্ছে না। গুজব রয়েছে এসব শেয়ার নিয়ে কারসাজি হচ্ছে। যার ফাঁদে পড়ছেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা।