প্রতীক কাচারিঘর ও শিশুপার্ক

নেই রাজা, নেই সে রাজপ্রথা। অবসান হয়েছে অনেক আগেই তাদের জোতদারি। জমিদারের জমিদারি না থাকলেও কালের সাক্ষী হয়ে ঐতিহ্য বহন করছে কুড়িগ্রাম নাগেশ্বরী উপজেলার ভিতরবন্দ জমিদারের কাচারিঘরটি। জেলা শহর হতে ১৬ কিলোমিটার দূরে অবস্থান এই কাচারিঘরের।
ঘরটির দৈর্ঘ্য ৪০ ফিট, প্রস্থ ৩০ ফুট, উচ্চতা ৪৫ ফুট। রেললাইনের খুঁটি, টিন, কাঠ, সিমেন্ট ও বালু ব্যবহার করে বিশেষ ভঙ্গিতে জমিদারের বৈঠকখানা হিসেবে এই কাচারিঘরটি নির্মাণ করা হয়েছিল। আনুমানিক নির্মাণ সাল ১৮০০ সালের শেষের দিক। ইতিহাস অনুযায়ী, নওগাঁর বালিহার জমিদারপুত্র রামরাম ভিতরবন্দ পরগনার জমিদারি লাভ করে এখানে বসতি স্থাপন করেন। তিনি নির্মাণ করেন ভিতরবন্দ জমিদারবাড়ি। জমিদার ধীরেন্দ্রকান্ত রায় চৌধুরীর বিধবা পতœী প্রতিভাবালা দেবী চৌধুরানি জমিদারি প্রথা বিলোপের পরও অবশিষ্ট সব সম্পত্তি আগলে রাখেন। ১৯৮৬ সালে মৃত্যুবরণ করেন তিনি।
জমিদারের বাড়ি সংলগ্ন স্থাপনা ও বেশকিছু জমি দখল করে নেয় স্থানীয় প্রভাবশালীরা। দখলকারীরা দখল পাকাপোক্ত করতে জমিদারবাড়ির সুদৃশ্য দালানকোঠা ভেঙে নিশ্চিহ্ন করে ফেলেছে। তারপরও জমিদারবাড়ির কাচারিঘর, গোবিন্দা জিউমন্দির ও তৎসংলগ্ন একটি পুকুরসহ অন্য দেবোত্তর সম্পত্তি শেষ অবধি টিকে আছে।
কাচারিঘরটি বর্তমানে ইউনিয়ন পরিষদ অফিস হিসেবে ব্যবহƒত হচ্ছে। খন্দকার আমিনুর ইসলাম বাচ্চু চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে ২০১৬ সালে জমিদারের কাচারিঘর সংলগ্ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের সামনের ফাঁকা জায়গায় শিশুপার্ক স্থাপনের উদ্যোগ নেন। পর্যায়ক্রমে এ শিশুপার্কটি একটি দর্শনীয় স্থানে রূপান্তর করেন চেয়ারম্যান বাচ্চু। জমিদারবাড়ির ঐতিহ্য বহন করতে ভিতরবন্দ শিশুপার্ক এখন সবার নজরে আসছে। শিশুপার্কে ডায়নোসর, হারগিলা, চিল, শকুন, হাতি, বাঘ, সিংহ, বক, ময়ূর, জিরাপ, জেবরা, ঈগল, উটপাখি, হরিণ, শাপলা, কাঁঠাল, দোয়েলসহ অনেক ভাস্কর্য স্থান পেয়েছে। পার্কে লাগানো হয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির ফুল ও ফলের গাছ। শিশুদের খেলার সামগ্রী ও দর্শনার্থীর বসার ব্যবস্থা রয়েছে। পাহাড়সহ ঝরনা ও নির্মাণাধীন পলাশী যুদ্ধ, ৫২’র ভাষা আন্দোলন, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ ও বিখ্যাত ব্যক্তিদের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস সংবলিত ঘটনাবলির বিবরণ রয়েছে। এ পার্কে ঘুরলেই যে কোনো শিক্ষার্থী তাৎক্ষণিক সাধারণ জ্ঞানের ৫০ নম্বর প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবেন।

আমানুর রহমান খোকন