প্রথমবার মেলায় কয়েদিদের তৈরি পণ্য

দেশের ৬৪টি জেলায় একটি করে জেলখানা রয়েছে। এছাড়া গাজীপুরে রয়েছে আরও চারটি বিশেষ জেলখানা। সব মিলে ৬৮টি জেলখানায় নানা অপরাধে সাজাপ্রাপ্ত কয়েদিদের বাস। তাদের পরিশুদ্ধ করে সমাজে ফিরিয়ে আনার জন্য কাজ করে বাংলাদেশ জেল কর্তৃপক্ষ। কয়েদিরা নানা মেয়াদে কারাদণ্ড ভোগ করেন। অপরাধের সাজা হিসেবে কাউকে দেওয়া হয় সশ্রম কারাদণ্ড। সশ্রম কারাদণ্ডপ্রাপ্ত কয়েদিদের কোনো না কোনো কাজ করতে হয় জেলখানায়। দক্ষতা ও সক্ষমতা অনুযায়ী তারা এসব কাজ করেন। কয়েদিদের দিয়ে জেলখানায় নানা ধরনের সৃজনশীল কাজ করানো হয়। আসবাব থেকে শুরু করে খাদ্যদ্রব্য তৈরি করেন তারা। সেসব পণ্য এবার বাণিজ্যমেলায় বিক্রির জন্য নিয়ে এসেছে বাংলাদেশ জেল কর্তৃপক্ষ।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, একটি সংরক্ষিত প্যাভিলিয়নে দেশের ৩৮ কারাগার থেকে কয়েদিদের তৈরি বিক্রিযোগ্য জিনিসপত্র আনা হয়েছে। মেলার দুই সপ্তাহ পার হয়ে গেছে। ইতোমধ্যে ওইসব পণ্যের বড় অংশ বিক্রিও হয়ে গেছে।

বাংলাদেশ জেলের ওই প্যাভিলিয়নে গিয়ে দেখা গেছে, মূলত কাঠ, বেত, পাট ও কাগজ দিয়ে তৈরি তাদের বেশিরভাগ পণ্য। এর মধ্যে রয়েছে ফার্নিচার, মোড়া, কলের ব্যাগ, নানা রকম নকশা, শোপিস, পুঁতির তৈরি নানা কারুকাজ, বেতের চেয়ার, টেবিল, সোফা, পাপোশ, কাগজের তৈরি ফুলদানি, ডায়েরি, নোটবুকসহ শতাধিক ধরনের পণ্য। এর মধ্যে ১০ টাকা থেকে শুরু করে অর্ধলক্ষ টাকা মূল্যের পণ্যও রয়েছে।

কক্সবাজার জেলে কর্মরত হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মনসুর আহমেদ নিয়োজিত রয়েছেন বাণিজ্যমেলায় ওইসব পণ্য বিক্রির কাজে। তিনি জানান, প্রথমবারের মতো মেলায় এসেছে বাংলাদেশ জেল। সব পণ্য হাতে তৈরি, সূক্ষ্ম ও নিখুঁত। এরই মধ্যে বিপুল পরিমাণ পণ্য বিক্রি হয়ে গেছে। এখানে বিক্রির কাজে নিয়োজিত রয়েছেন জেল বিভাগে কর্তরত ২৫ কর্মচারী। এ খাতে যেসব পণ্য আনা হয়েছে, সেগুলোর মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে স্থানীয়ভাবে। যে জেলার পণ্য, সে জেলার কাঁচামালের মূল্য হিসেবেই দাম ধরা হয়েছে। যেহেতু কারিগরদের এ কাজে কোনো মজুরি দেওয়া হয়নি; সেহেতু শুধু কাঁচামালের মূল্যই এখানে ধরা হয়েছে। ফলে এসব পণ্যের দাম তুলনামূলক কম।