প্রচ্ছদ প্রথম পাতা

প্রধান তথ্য নিরাপত্তা কর্মকর্তা পাচ্ছে না বাংলাদেশ ব্যাংক

শেখ শাফায়াত হোসেন: রিজার্ভ চুরির ঘটনার পর সমালোচনার মুখে সাইবার নিরাপত্তা ঢেলে সাজাতে নানামুখী পদক্ষেপ নিলেও প্রধান তথ্য নিরাপত্তা কর্মকর্তা (চিফ ইনফরমেশন সিকিউরিটি অফিসার) বা সিসো হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার মতো প্রার্থী খুঁজে পাচ্ছে না বাংলাদেশ ব্যাংক। ফলে প্রস্তাবিত সাইবার সিকিউরিটি ইউনিটের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ওই পদটি শূন্যই পড়ে থাকছে।
জানা গেছে, রিজার্ভ চুরির পর থেকে গত তিন বছরে সার্ভার ও ডেটা সেন্টার সংস্কার, কর্মকর্তাদের মধ্যে কম্পিউটার ও ইন্টারনেট ব্যবহারে সতর্কতা জারি, তথ্য-প্রযুক্তি পরিচালন ও ব্যবস্থাপনাসংশ্লিষ্ট বিভাগ দুটির দায়দায়িত্ব বণ্টন করাসহ নানামুখী পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে দু’দফা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পরও সাইবার সিকিউরিটি ইউনিটের সিসো পদে যোগ্যতাসম্পন্ন প্রার্থী খুঁজে পায়নি সংস্থাটি। সর্বশেষ গত ডিসেম্বরে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে ৩ জানুয়ারি পর্যন্ত আবেদনের সময় দেওয়া হয়।
জানা গেছে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহী পদ অর্থাৎ নির্বাহী পরিচালকের সমমর্যাদার পদটিতে (সিসো) আবেদনের জন্য যেসব যোগ্যতার কথা বলা হয়েছিল, তা পুরোপুরিভাবে পূরণ করতে পারছেন না কোনো প্রার্থীই।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক মো. সিরাজুল ইসলাম এ প্রসঙ্গে শেয়ার বিজকে বলেন, ‘মানবসম্পদ বিভাগ-১ থেকে নিয়োগের বিষয়টি তত্ত্বাবধান করা হচ্ছে। এখনও কোনো যোগ্য প্রার্থী পাওয়া যায়নি।’ এক্ষেত্রে নিয়োগের শর্তে কোনো পরিবর্তন আনা হবে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত করে এখনই কিছু বলতে পারছেন না তিনি।
২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্কে গচ্ছিত বাংলাদেশ ব্যাংকের বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভের অর্থ থেকে আট কোটি ১০ লাখ ডলার হাতিয়ে নেয় হ্যাকাররা। হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে বিশ্বে প্রথম কোনো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অর্থ চুরির ওই ঘটনায় সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে বড় ধরনের সমালোচনার মুখে পড়ে বাংলাদেশ ব্যাংক। এমনকি দেশের সামগ্রিক ব্যাংকিং ব্যবস্থার সাইবার নিরাপত্তাই সমালোচনার মুখে পড়ে। ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পাশাপাশি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোও সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিতে এ খাতে বিনিয়োগ বাড়ায়। আন্তর্জাতিক আর্থিক লেনদেনের বার্তা আদান-প্রদানের মাধ্যম সুইফটেরও অবকাঠামোগত বিনিয়োগ বাড়ানোর কারণে ২০১৬ সাল শেষে মুনাফা ৩১ শতাংশ কমে যায়।
সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে এমন উদ্বেগের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক তাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা জোরদারের জন্য সাইবার সিকিউরিটি ইউনিট গঠনের উদ্যোগ নেয়। গত বছর ওই ইউনিটের প্রধান কর্মকর্তা নিয়োগের জন্য দু’দফা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিও দেওয়া হয়। নিয়োগের ক্ষেত্রে যোগ্যতা চাওয়া হয় যে কোনো স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কম্পিউটার বিজ্ঞান প্রকৌশল (সিএসই) বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী বাংলাদেশি নাগরিক এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কমপক্ষে ১২ বছরের কর্মঅভিজ্ঞতা থাকতে হবে। তবে স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারীদের ক্ষেত্রে ১০ বছরের অভিজ্ঞতা থাকলেও আবেদনের সুযোগ রাখা হয়।
প্রার্থীর সর্বোচ্চ বয়সের কথা বলা হয় ৫৫ বছর। বেতন দেওয়া হবে মাসে চার লাখ টাকা। ওই বেতনের ওপর মূসক দেওয়ার দায়িত্ব নেবে বাংলাদেশ ব্যাংক।
দক্ষতার ক্ষেত্রে বলা হয়, কোনো কেন্দ্রীয় ব্যাংক, আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ব্যাংক, বড় ধরনের সরকারি বা বেসরকারি ব্যাংক, বড় ধরনের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা টেলিকমিউনিকেশ খাতের প্রতিষ্ঠানের নেটওয়ার্কের ডোমেইন ও তথ্য নিরাপত্তা এবং আইটি ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় কাজ করার ১০ বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। শেষের তিন বছর সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সর্বোচ্চ পদে অথবা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পদে কাজ করার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। এছাড়াও বর্তমান সময়ে তথ্যপ্রযুক্তির নিরাপত্তায় যত ধরনের ব্যবস্থাপনা রয়েছে, প্রায় সব ধরনের অভিজ্ঞতাই চাওয়া হয় ওই পদের প্রার্থীদের ক্ষেত্রে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, প্রধান তথ্য নিরাপত্তা কর্মকর্তা তার কাজের বিষয়টি সরাসরি গভর্নর, ডেপুটি গভর্নরদের কাছে রিপোর্ট করবেন। তিনি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের চলমান সাইবার নিরাপত্তা জোরদারকরণ কার্যক্রম এবং বার্ষিক পর্যালোচনা, সম্ভাব্য নিরাপত্তা হুমকির বিষয়ে প্রয়োজনীয় উন্নয়ন কার্যক্রম গ্রহণ করবেন। এছাড়াও বাংলাদেশ ব্যাংকের সব তথ্যপ্রযুক্তি সেবার প্রাসঙ্গিক জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিধান এবং সর্বোত্তম চর্চার মানদণ্ড নির্ধারণেও নিরন্তর কাজ করবেন প্রধান তথ্য নিরাপত্তা কর্মকর্তা।
গত বছরের আগস্টে এ বিষয়ে প্রথম বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে বাংলাদেশ ব্যাংক। সেবার আবেদনের শর্ত পূরণ করে এমন কোনো প্রার্থী না পাওয়ায় আবেদনের শর্ত কিছুটা শিথিল করে গত ডিসেম্বরে পুনরায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। এবারও কোনো প্রার্থী মেলেনি ওই পদটিতে।

সর্বশেষ..