প্রযুক্তিনির্ভর সেবা ও আমদানিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে মূসকে

প্রস্তাবিত বাজেটে বিসিআই’র প্রতিক্রিয়া

নিজস্ব প্রতিবেদক: বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট উপস্থাপনের জন্য বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজ (বিসিআই) অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতকে ধন্যবাদ জানিয়েছে। প্রস্তাবিত চার লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকার বাজেট মূল বাজেটের চার লাখ ২৬৬ কোটি টাকা। গতকাল শনিবার বিসিআই বোর্ডরুমে আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটের ওপর পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বিসিআই সভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বাবু সভাপতিত্ব করেন। সভায় বাজেটের বিভিন্ন দিক নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানানো হয়।
বিসিআই মনে করে, তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর সেবা ও আমদানি পর্যায়ে অগ্রিম মূসক বৃদ্ধি করা হয়েছে; এতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। অন্যদিকে ই-কমার্সে মূসক মুক্ত রাখা হয়েছে পক্ষান্তরে সরাসরি বিক্রয়ের ক্ষেত্রে মূসক বিদ্যমান থাকলে অসংগতি সৃষ্টি হবে।
বিসিআই মনে করে, প্রস্তাবিত বাজেটে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা সংশোধিত বাজেটের তুলনায় প্রায় ৩৩ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে। যা বাস্তবসম্মত নয়; এর ফলে উৎপাদনশীল খাতে ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। রাজস্ব আয়ের প্রবৃদ্ধি ১৫ শতংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার প্রস্তাব করা হয় বিসিআইয়র পক্ষ্য থেকে। বাজেটে রাজস্ব বৃদ্ধির কোনো ঘোষণা নেই, যার ফলে নিয়মিত করদাতাদের ওপরই চাপ বৃদ্ধি পাবে।
প্রস্তাবিত বাজেটে তামাকপণ্য শুল্ক-কর বৃদ্ধি করা হলেও রফতানিতে শুল্ক প্রত্যাহার করার প্রস্তাব করা হয়েছে, এটি অত্যন্ত জনস্বাস্থ্যবিরোধী একটি পদক্ষেপ। এর ফলে তামাক চাষ বৃদ্ধি পাবে জমির উর্বরতা আশঙ্কাজনক হারে হ্রাস পাবে এবং দেশের খাদ্য নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়বে। ২০৪০ সালের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার নির্দেশনা উপেক্ষিত হবে।
বাজেটে ব্যক্তি শ্রেণির করমুক্ত আয়সীমা আড়াই লাখ থেকে বাড়িয়ে সাড়ে তিন লাখে উন্নীত করার প্রস্তাব করা হয়।
বিসিআই মনে করে, রফতানি আয় ক্রমবর্ধিতহারে উন্নীত করার লক্ষ্যে রফতানি খাতের জন্য শুল্ক ও কর সুবিধা, আর্থিক সহায়তা ও বিভিন্ন রেয়াতি ব্যবস্থা প্রদানসহ সুনির্দিষ্ট রফতানি বাজেট প্রদানের জন্য বেসরকারি খাতের প্রস্তাব বাজেটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। ফলে বেসরকারি খাতের প্রস্তাবনা অনুযায়ী একটি রফতানি বাজেট প্রদানের জন্য পুনরায় অনুরোধ করা হয়। তবে সামনে বেশকিছু বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে ব্যাংকিং খাতের সমস্যা, বিনিয়োগের স্থবিরতা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি না হওয়া, স্বল্পোন্নত দেশ হতে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের প্রস্তুতি, চলতি হিসাবে ঘাটতি। এসব বড় বড় চ্যালেঞ্জের জন্য সুনির্দিষ্ট সংস্কার কর্মসূচি প্রয়োজন রয়েছে।
প্রস্তাবিত বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা, জ্বালানি, অবকাঠামো, যোগাযোগ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নারী উদ্যোগ ও গ্রামীণ অর্থনীতি উন্নয়ন অবকাঠামোসহ জাতীয় উন্নয়ন পরিকল্পনা অর্জনে যে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে তা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে বিসিআই দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে।
প্রস্তাবিত বাজেটে সামাজিক সুরক্ষার আওতা ও ভাতা বৃদ্ধি, পরিবহন ও যোগাযোগ, জ্বালানি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি ইত্যাদি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে, যা আর্থসামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।