প্রশিক্ষণ শুধু কর্মীকে নয়, এগিয়ে নেয় প্রতিষ্ঠানকেও

তৌহিদুল ইসলাম চঞ্চল: করপোরেট সেক্টর কিংবা বিভিন্ন ইন্ডাস্ট্রিতে প্রশিক্ষণ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এ নিয়ে তর্ক-বিতর্কও কম নেই। একজন প্রশিক্ষক হিসেবে আমি গর্ববোধ করি। একজন যোগ্য ও আদর্শ প্রশিক্ষকের প্রধান গুণ হলো সবসময় ইতিবাচক মনোভাব ধরে রাখার চেষ্টা করেন তিনি। এ লেখায় প্রশিক্ষণ, প্রশিক্ষক প্রভৃতি নিয়ে কিছু বলার চেষ্টা করব।

মূল বিষয়ে যাওয়ার আগে প্রশিক্ষণ সম্পর্কে কিছু মানুষের উক্তি তুলে ধরতে চাই, যা আমার পরবর্তী আলোচনাকে আরও সমৃদ্ধ করবে।

বিশ্ববিখ্যাত চলচ্চিত্র ‘টারমিনেটর’-এর নায়ক ও ক্যালিফোর্নিয়ার দুবার নির্বাচিত গভর্নর আর্নল্ড শোয়ার্জেনেগার বলেছেন, ‘প্রশিক্ষণ আমাদের কাজের চাপ থেকে সৃষ্ট জীবনীশক্তি দমনকারী বিষয়গুলোকে বহির্গমন পথ দেখায়।’

আমেরিকার একজন প্রখ্যাত ব্যবসায়ী ও লেখক রবার্ট কিয়োসাকি বলেছেন, ‘নিয়মানুবর্তিতা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আত্মবিশ্বাস গড়ে ওঠে।’

ওপরের উক্তিগুলোয় বোঝা যায় প্রশিক্ষণের গুরুত্ব কত। প্রশিক্ষণ কী, সে বিষয়ে কম-বেশি আমরা সবাই জানি। আমি স্বীকৃত একটি সংজ্ঞা উপস্থাপনের চেষ্টা করছিÑ ‘প্রশিক্ষণ হলো একটি সংগঠিত কর্মপ্রক্রিয়া, যা মূলত কোনো তথ্য অথবা নির্দেশনার প্রতি লক্ষ রেখে পরিচালিত হয় এবং সেক্ষেত্রে অংশগ্রহণকারীর দক্ষতা বৃদ্ধি করে অথবা তাকে কাক্সিক্ষত জ্ঞান অর্জনে সহযোগিতা করে।’

প্রশিক্ষণ কেমন হওয়া উচিত,  এটি কেন নেওয়া উচিত, সে বিষয়ে একটু আলোচনা করা যাক। উপরোল্লিখিত সংজ্ঞা থেকে এটি স্পষ্ট যে, আমি আমার সংস্থার সবার কাছে যে ধরনের আচরণ চাচ্ছি, যে ধরনের কাজ চাচ্ছি, তা অর্জন করতে হলে প্রথমে তাকে আমাকে জানাতে হবে আমি তার কাছে কী চাচ্ছি এবং তা কীভাবে করতে হবে। এই জানান দেওয়ার জন্যই যেটি প্রয়োজন, তা হলো প্রশিক্ষণ। সুতরাং  প্রশিক্ষণ দেওয়ার আগে প্রশিক্ষককে আগে জানতে হবেÑআমি কী করতে চাইছি, কেন চাইছি, এর প্রয়োজনীয়তা কী। এর ফলে আমার প্রতিষ্ঠানের কী লাভ হবে? অতঃপর প্রশিক্ষণার্থীরা যে জ্ঞান অর্জন করলেন, তা যেন তাদের কাজের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হয় এবং ধারাবাহিকতা বজায় থাকে, সেটি নিশ্চিত করা।

প্রশিক্ষণ কেমন হওয়া উচিত সে বিষয়ে আলোচনায় প্রথমেই বলতে চাই, ‘আমি যা চাইছি তেমন হওয়া উচিত!’

প্রশিক্ষক যদি চান, তার প্রশিক্ষণার্থীরা তাদের কাজে আরও দক্ষ হোক, আর কোম্পানির নীতিমালা ভালোভাবে জানুক তবে কী ধরনের প্রশিক্ষণ দিলে তারা শিখবে এবং কোন দক্ষতা বা যোগ্যতার প্রশিক্ষক প্রয়োজন, তা নির্ধারণ করেই কাজ করতে হবে।

মানসম্মত প্রশিক্ষণে অবশ্যপালনীয় বিষয় কিছু অবশ্যপালনীয় নিয়ম রাখা:  প্রশিক্ষণ দানের শুরুতেই প্রশিক্ষণার্থীদের স্বাগত জানানো, সবার পরিচয় বিনিময়, অতঃপর ট্রেনিং সেশন সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত ধারণা দেওয়া, যেন তারা ট্রেনিংয়ের উদ্দেশ্য সম্পর্কে একটি ধারণা পায়। এর সঙ্গে কোন কোন পর্বে তাদের দায়িত্বগুলো কী কী তা জানানো হতে পারে বিভিন্ন গ্রুপ ওয়ার্ক ও অনুশীলনে তাদের অংশগ্রহণের আগাম তথ্য দেওয়া। সঙ্গে তাদের ট্রেনিংয়ের সময়সূচি, মধ্যবর্তী বিরতি, জরুরি বহির্গমন পথ, রেস্ট রুম সম্পর্কে জানাতে হবে। প্রশিক্ষণকালে মোবাইল ফোনের ব্যবহার, ধূমপান, কথা বলা প্রভৃতি বিষয়ে কোনো নির্দেশনা থাকলে জানানো। মোট কথা করণীয় ও করণীয় নয় সম্পর্কে ধারণা দেওয়া। প্রশিক্ষণকালে প্রশিক্ষক যদি ক্যামেরা ব্যবহার করেন এবং ছবি তোলেন বা ভিডিও করেন সেক্ষেত্রে অংশগ্রহণকারীদের সম্মতি নেওয়া।

কার্যকর ও যুগোপযোগী ট্রেনিং ম্যাটেরিয়াল: যে বিষয়ের ওপর ট্রেনিং দেওয়া হবে এবং যে তথ্যগুলো ট্রেনিংয়ে বলা হবে, তার সবকিছুর হালনাগাদ যেন প্রশিক্ষকের উপস্থাপনায় থাকে। ধরা যাকÑ প্রশিক্ষক যেকোনো একটি আইন সম্পর্কে বলবেন এবং সদ্যই তার একটি সংশোধনী (আমেন্ডমেন্ট) হয়েছে, সে বিষয় অবশ্যই লক্ষ রাখতে হবে। প্রশিক্ষণার্থীদের কোনো হ্যান্ড আউট দিলে তা যেন উপস্থাপিত বিষয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য থাকে। ট্রেনিং ম্যাটেরিয়াল তৈরির আগে শ্রোতা-প্রশিক্ষণার্থীদের দক্ষতা ও তাদের জন্য কী ধরনের পদ্ধতি উপযোগী, তা নির্ধারণ ও সেই মতে প্রস্তুত করা। যেমন প্রশিক্ষক যদি কোনো প্রতিষ্ঠানের সাধারণ কর্মীদের জন্য ম্যাটেরিয়াল প্রস্তুত করেন, তবে উপস্থাপনা হতে হবে ছবি বা অন্যান্য ভিজুয়াল এলিমেন্টনির্ভর।

প্রযুক্তির ব্যবহার ও অন্য সুযোগসুবিধাদি: প্রযুক্তির ব্যবহার এখন সবখানেই হয়ে থাকে। যেমন প্রজেকশন করা। এক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে প্রশিক্ষককে স্ক্রিন এমনভাবে স্থাপন করতে হবে যেন সবচেয়ে পেছনের আসনে উপবিষ্ট ব্যক্তিও তা স্পষ্ট দেখতে পারেন। এর সঙ্গে অডিও ডিভাইস কিংবা লাউড স্পিকার ব্যবহার করা যেতে পারে, যেন সবাই সমভাবে কথা শুনতে পারে। অনেক সময় শব্দতরঙ্গ ঠিক ভাবে না পৌঁছালে প্রশিক্ষণার্থীরা কিছু শব্দ নাও শুনতে পারেন। হতে পারে তা তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ! প্রশিক্ষণের গুরুত্বভেদে ইন্টারনেট সুবিধা রাখা। এতে প্রশিক্ষক প্রশ্নের উত্তর তৎক্ষণাৎ দিতে পারবেন। আর প্রযুক্তির এ যুগে অনেক প্রশিক্ষণার্থীই চাইবে বিরতির সময় নিজেদের ই-মেইল চেক করা অথবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটু ঢুঁ মেরে আসা, যা তাদের কিঞ্চিৎ হলেও রিফ্রেশমেন্ট দেবে।

প্রশিক্ষণকক্ষের সাজসজ্জা ও আসন ব্যবস্থাপনা: কক্ষের রুমের লে আউট সিটিং আরেঞ্জমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। ট্রেইনার ও প্রজেক্টর স্ক্রিনকে ফোকাস করে এটি করতে হবে। যদি ট্রেনিংটি পূর্ণদিবসের জন্য হয় তবে আসনও খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। ট্রেনিং দেওয়ার জন্য কিছু স্পেশালাইজড চেয়ার থাকে, তা দেওয়া সম্ভব না হলেও অন্তত কয়েকটি চেয়ারের সঙ্গে একটি টেবিল যেন অবশ্যই থাকে সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে। চেয়ারগুলো অবশ্যই এরগোনমিক হতে হবে, যাতে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকলেও অবসাদ না আসে। একবারে শক্ত কাঠের চেয়ার কিংবা প্লাস্টিকের চেয়ার দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। রুমের লাইটিংয়ের ক্ষেত্রে খুব সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে, যেন তা প্রজেকশনে কোনো বাধা সৃষ্টি না করে। আবার সবাই যেন প্রয়োজনে তাদের হ্যান্ডআউট পড়তে পারে। রুম শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত রাখা, কিংবা সম্ভব না হলে পর্যাপ্ত বায়ু বহির্গমন ব্যবস্থা ও ফ্যানের ব্যবস্থা করা। ফ্যান অনেক সময় শব্দতরঙ্গকে বাধাগ্রস্ত করে। তাই সেটিও লক্ষ রাখতে হবে। একটি আন্তর্জাতিক মানের আদর্শ ট্রেনিংয়ে সাধারণত সর্বোচ্চ ২৫ অংশগ্রহণকারী রাখা হয়। প্রশিক্ষণস্থলে বিভিন্ন সাইনেজ নিশ্চিত করা, যেমন রুমের বাইরে একটি সাইনেজ যেখানে প্রশিক্ষণ-সংক্রান্ত তথ্য থাকতে পারে। রুমের ভেতরে বা বাইরে বিভিন্ন ব্যানার, ফেস্টুন প্রভৃতি। আর বহির্গমন পথের নির্দেশনাচিহ্ন থাকাও বাঞ্ছনীয়।

রিফ্রেশমেন্ট: দিনব্যাপী ট্রেনিংয়ের ক্ষেত্রে অন্তত তিনটি বিরতি দেওয়া এবং চা, কফি, স্ন্যাকস প্রভৃতি রিফ্রেশমেন্টের ব্যবস্থা করা। প্রয়োজনে দুপুরের খাবার সরবরাহ করা। ট্রেনিংয়ের বাজেটের সময় এই জিনিসগুলো অবশ্যই লক্ষ রাখতে হবে। প্রশিক্ষক যদি প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরেও প্রশিক্ষণ দেন, সেক্ষেত্রেও এটি একধরনের অনুপ্রেরণা (মোটিভেশন) হিসেবে কাজ করবে। সবকিছুর টাইমিং এমনভাবে রাখতে হবে যেন সবাই বিশ্রামের পর্যাপ্ত সময় পায়।

মতামত গ্রহণ: প্রশিক্ষণ শেষে লিখিত মত-মন্তব্য নেওয়া অতি গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। মৌখিকভাবে সামনাসামনি কিছু জিজ্ঞাসা করলে সেক্ষেত্রে সত্যিকার অভিমত নাও পাওয়া যেতে পারে। তাই লিখিত মতামত নেওয়া উচিত এবং অবশ্যই মনে রাখতে হবে, যেন নাম উল্লেখ করার কোনো অপশন না থাকে। এক্ষেত্রে প্রশিক্ষণার্থীরা নির্দ্বিধায় নিরপেক্ষ মতামত দেবে। তাদের প্রশ্ন করা যেতে পারে প্রশিক্ষণের কোন বিষয়টি আপনার ভালো লেগেছে এবং কেন, কোন বিষয়টি একটু পরিবর্তন করতে হবে বলে আপনি মনে করেন এবং কেন, আপনি ভবিষ্যতে আর কী ধরনের প্রশিক্ষণ আশা করেন। প্রশিক্ষকের ক্ষেত্রে তার উপস্থাপন কেমন লেগেছে, কোনো উন্নতির প্রয়োজন আছে কি না, আর বিষয়ের ওপর তার সম্যক জ্ঞান রয়েছে কি না এসব প্রশ্নের উত্তর প্রশিক্ষণকে আরও উন্নত করবে এবং প্রশিক্ষককে ধারাবাহিক উন্নতিতে সহযোগিতা করবে।

প্রশিক্ষকের দায়িত্ব ও যোগ্যতা প্রশিক্ষণের বিষয়ে পূর্বপ্রস্তুতি নিতে হবে প্রশিক্ষককে। এর সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয়গুলো সম্পর্কে ধারণা নিতে হবে। প্রশিক্ষণের উপস্থাপন পদ্ধতি হতে হবে স্বাভাবিক। সামনের শ্রোতাদের দক্ষতা ও যোগ্যতা চিন্তা করে সে অনুযায়ী তাদের বোধগম্য ভাষা ব্যবহার করা। উদাহরণ দিচ্ছি। ধরুন, লাইন সুপারভাইজারদের ট্রেনিং দেওয়া হচ্ছে, আর প্রশিক্ষক বেশিরভাগ বলছেন শব্দ ইংরেজিতে। এটি কতটা কার্যকর! কোনো মুদ্রাদোষ, যেমন একই কথা বারবার বলা, কোনো অশালীন শব্দ ব্যবহার, সামাজিক বা রাজনৈতিক বা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত, কাউকে ছোট করা, এক জায়গায় ঠায় দাঁড়িয়ে থাকা, নিজের স্ট্রেসকে দমন করার জন্য একই মুদ্রায় দাঁড়িয়ে থাকা, যেমনÑকোমরে হাত দিয়ে দাঁড়ানো, বারবার তর্জনী কিংবা যেকোনো একটি আঙ্গুল দেখানো, সবার সামনে চুল ঠিক করা, মাথায় হাত দেওয়া, হুট করে কারণ ছাড়াই উচ্চ স্বরে কথা বলা, সরাসরি কোনো প্রশিক্ষণার্থীকে হেয় করা, কারও প্রশ্নের উত্তর  জানা  নেই বলে পাশ কাটিয়ে যাওয়া প্রভৃতি থেকে বিরত থাকা। মনে রাখতে হবে, একজন প্রশিক্ষক যে সবজান্তা হবেন, এর কোনো কথা নেই। যা জানা নেই, তা সরাসরি স্বীকার করে অন্য কেউ জানলে তাকে বলতে সুযোগ দেওয়া, কিংবা পরে জানানো হবে, সে ব্যাপারে আশ্বস্ত করা। প্রশিক্ষণ চলাকালে প্রশিক্ষণার্থীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। মনে রাখতে হবে একটি প্রশিক্ষণে অনেকে থাকে উৎসাহী, অনেকে কখনও কখনও কথা বলেন এবং অনেকে চুপচাপ থাকেন। এইসব শ্রেণির সম অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে, অর্থাৎ তাদের মানসিকতা বুঝতে হবে। সবাইকে অংশগ্রহণ করাতে হলে আইস ব্রেকিং সেশন যেমনÑগেম, পরিচয় পর্ব, বিরতির সময় যোগাযোগ  প্রভৃতি গুরুত্বপূর্ণ।

প্রশিক্ষককে অবশ্যই প্রশিক্ষণকক্ষের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে রাখতে হবে, নইলে পুরো প্রশিক্ষণ পণ্ডশ্রম হবে। প্রশিক্ষককে প্রশিক্ষণের নিয়ন্ত্রণ রাখতে অতি উৎসাহী কেউ, এমন কেউ যে সবকিছুতেই কোনো না কোনো প্রশ্ন করেÑএ জাতীয় প্রশিক্ষণার্থীদের চিহ্নিত করে সেই মতে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। অন্যরাও যেন অংশগ্রহণ করে সেদিকে দৃষ্টি রাখতে হবে। প্রশিক্ষণের ম্যাটেরিয়ালের ক্ষেত্রে লক্ষ রাখতে হবে, তা যেন হুবহু অন্য কোনো প্রশিক্ষকের কোনো প্রেজেন্টেশনের সঙ্গে মিলে না যায়, কিংবা ইন্টারনেট থেকে প্রাপ্ত হুবহু কোনো প্রেজেন্টেশন। প্রশিক্ষণ সামগ্রী সরবরাহের ক্ষেত্রে কিছু কিছু বিতর্ক রয়েছে, যেমনÑঅনেক সময় প্রশিক্ষণ চলাকালে হার্ড কপি দিলে অনেক সময় প্রশিক্ষণার্থীরা লেকচারের দিকে না তাকিয়ে সেদিকে তাকিয়ে থাকেন। তবে যদি প্রথমেই তাদের এ ব্যাপারে নির্দেশনা দেওয়া হয় সেক্ষেত্রে  তাদের মনোযোগ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব। প্রয়োজনে ই-মেইলে পিডিএফ কপি পাঠানো যেতে পারে। সেক্ষেত্রে তাদের কপিরাইট সম্পর্কিত কোনো নির্দেশনা থাকলে তা জানিয়ে দিতে হবে। অনেক প্রশিক্ষণে কলম, প্যাড, ফোল্ডার প্রভৃতি স্মারক সরবরাহ করা হয়,  অংশগ্রহণকারীদের উৎসাহিত করে।

প্রশিক্ষণ শেষে অথবা প্রতিটি টপিকের গুরুত্ব অনুসারে প্রশ্ন-উত্তর পর্ব রাখতে হবে, যেন প্রশিক্ষণ কক্ষ থেকে সকলে একই জ্ঞান নিয়ে বের হতে পারে।

প্রশিক্ষণ শেষে মতামত গ্রহণ যা আগেই উল্লেখ করা হয়েছে। এটি প্রশিক্ষককে তার ম্যাটেরিয়াল বা উপস্থাপন এর উন্নতিতে সহযোগিতা করবে।

সময় ব্যবস্থাপনা বড় একটি বিষয়, যেমন পরিচিত পর্ব যেন দীর্ঘায়িত না হয় যা মূল প্রশিক্ষণকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দেয়। প্রশিক্ষণের শুরুতে আয়োজকের কোনো বক্তব্য থাকলে তা অবশ্যই ১/২ মিনিটের বেশি দীর্ঘ যেন না হয়। আর সময় অনুযায়ী সব সেশন ও বিরতি যেন ঠিকভাবে সম্পন্ন হয় সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে।

প্রশিক্ষণ পরবর্তী কাজ: ইন্টারনাল প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে প্রশিক্ষকের অনেক দায়িত্ব, যেমনÑপ্রশিক্ষণ-পরবর্তী প্রশিক্ষণার্থীদের খোঁজখবর রাখা। যে জ্ঞান তারা অর্জন করেছে তা সঠিক প্রয়োগ করছে কি না, সেদিকে লক্ষ রাখা। সে কেমন পারফরম্যান্স করছে, সে বিষয়ে তাকে জানানো ও তার উন্নতির বিষয়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা। প্রয়োজনে পুরস্কারের ব্যবস্থা করা।

আর এক্সটারনাল ট্রেনিংয়ের ক্ষেত্রে প্রশিক্ষক অবশ্যই তার সঙ্গে কোনো বিষয়ে বা কোনো প্রশ্ন থাকলে যোগাযোগের ক্ষেত্রে আশ্বস্ত করা উচিত ও প্রয়োজনে ই-মেইল অথবা ফোন নম্বর দেওয়া। কোনো প্রতিশ্রুতি দিয়ে থাকলে তা পূরণ করা প্রভৃতি।

প্রশিক্ষণের সাধারণ কিছু সুফল

কর্মীদের কাজের ক্ষেত্রে আস্থা ও দক্ষতা বৃদ্ধি করে, যা তাদের পদোন্নতি পেতে সহযোগিতা করে। কর্মীরা চাকরির নিশ্চয়তা পায় বা এক্ষেত্রে নিরাপত্তা বোধসংক্রান্ত অনুভূতি বৃদ্ধি করে। নিয়মানুবর্তিতা ও কোম্পানির প্রতি আনুগত্য বাড়ায়। কাজের ক্ষেত্রে উৎসাহ বৃদ্ধি পায়। দলবদ্ধ কাজকে উৎসাহিত করে। ভুলের সংখ্যা কমে। ফলে কোম্পানি লস টাইম বা পণ্যের ত্রুটিজনিত আর্থিক ক্ষতি লাঘব হয়। কর্মীদের উদ্ভাবনী শক্তি বৃদ্ধি করে। কর্মীদের অন্যত্র চলে যাওয়ার সম্ভাবনা কমিয়ে আনে। কর্মক্ষেত্রে সহযোগিতাপূর্ণ মনোভাব সৃষ্টি হয়, যার ফলে কোম্পানির সুনাম ও লাভ বেড়ে যায় ।

প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়নে প্রশিক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এর বিকল্প নেই। এক্ষেত্রে একটি উদাহরণ দিই। ধরুন, কোনো সংবাদমাধ্যমে সম্পাদকীয় পাতায় সম্পাদকীয় কলাম কেমন হবে, কিংবা মতামত বিশ্লেষণের লেখা নির্ধারণের ক্ষেত্রে কোন কোন বিষয় বিবেচনা করা হবে, সে সম্পর্কে কর্মরত সবার সুস্পষ্ট ধারণা নেই! সেক্ষেত্রে বড় ধরনের ভুল হওয়ার সম্ভাবনা আছে কি না? তবে এক্ষেত্রে সেই নির্দিষ্ট সংবাদমাধ্যমের এ-সংক্রান্ত কোনো নীতিমালা কিংবা গাইডলাইন আগেই জেনে নেওয়া জরুরি। মনে রাখতে হবে, যেকোনো প্রশিক্ষণই কর্মীকে কর্মক্ষেত্রে এগিয়ে নিতে সহায়তা করে। এর সুফল পায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানও।

 

মানবসম্পদ প্রশিক্ষক

chanchal.songÑgmail.com