প্রশ্ন আসবে বাজেট বাস্তবায়নের সক্ষমতা নিয়ে

 

প্রতি রবি থেকে বৃহস্পতিবার পুঁজিবাজারের বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে এনটিভি ‘মার্কেট ওয়াচ’ অনুষ্ঠানটি সম্প্রচার করে। বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ বিবেচনায় তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ নিয়ে শেয়ার বিজের নিয়মিত আয়োজন ‘এনটিভি মার্কেট ওয়াচ’ পাঠকের সামনে তুলে ধরা হলো:

গত অর্থবছরের বাজেটের ৮০ শতাংশের মতো অর্জন করা সম্ভব হয়েছে। তারপরও যদি গতবারের থেকে এবারের বাজেটের আকার ২৫ শতাংশের মতো বৃদ্ধি করে দেখানো হয় তাহলে কিন্তু বাজেট বাস্তবায়নের সক্ষমতা নিয়ে মানুষের মধ্যে প্রশ্ন আসবে। গতকাল এনটিভির মার্কেট ওয়াচ অনুষ্ঠানে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। খুজিস্তা নূর-ই-নাহারীনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আলোচক ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স বিভাগের অধ্যাপক এম শাহজাহান মিনা এবং আইসিএবির পরিচালক মাহমুদ হোসেন, এফসিএ।
এম শাহজাহান মিনা বলেন, দেশের উন্নয়নের জন্য সরকার সব সময় চেষ্টা করে থাকে। আর এ চেষ্টা সফল করার জন্য প্রতি বছর বাজেট ঘোষণা করে। এবারের বাজেটের আকার আগের তুলনায় অনেক বড়। গত অর্থ বছরের তুলনায় এবার ২৫ শতাংশের মতো বেড়েছে। এ বাজেট অনুযায়ী, কাজ করতে হলে যে পরিমাণ টাকার দরকার সেই পরিমাণ টাকার সংস্থান কিন্তু আমাদের নেই। আমরা দেখেছি পুরো বাজেটে প্রায় ১২১ কোটি টাকার মতো ঘাটতি রয়ে গেছে। ঘাটতি পূরণের জন্য বিদেশি ঋণ, ব্যাংক খাত থেকে ঋণ নেওয়া এবং সঞ্চয়পত্র বিক্রয়ের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করা এ তিনটি সূত্রের কথা বলা হয়েছে। তবে সঞ্চয়পত্র বিক্রয়ের মাধ্যমে যে পরিমাণ অর্থ সংগ্রহের কথা বলা হয়েছে তা আমার মনে হয় চিন্তা-ভাবনা করে বলা হয়নি। এটি সম্ভবত ২৫ হাজার কোটি টাকার মতো বলা হয়েছে। কিন্তু গত বছরেই আমরা দেখেছি সরকার সঞ্চয়পত্র বিক্রয় করে ঋণ নিয়েছে প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকার ওপরে। কাজেই সঞ্চয়পত্র বিক্রয় করে গত বছরেই যেখানে ৫০ হাজার কোটি টাকার মতো ঋণ নিয়েছে সরকার সেখানে এবার মাত্র ২৫ হাজার কোটি টাকা দেখানোকে আমার অবাস্তব বলে মনে হচ্ছে। এখানে হয়তো মানুষকে বোঝান হচ্ছে, সঞ্চয়পত্র বিক্রয় করে খুব বেশি ঋণ আমরা নেব না এবং বিদেশি ঋণ ৫০ হাজার কোটি টাকার মতো বেশি দেখানো হচ্ছে। তাছাড়া বিদেশি ঋণের সুদের পরিমাণ খুবই কম এবং দেশীয় ঋণের সুদের পরিমাণ অনেক বেশি। যে কারণে এবার আমাদের মোট যে রেভিনিউ বাজেট আছে তার ২০ শতাংশ খরচ হবে সরকারি কর্মকর্তাদের বেতনের জন্য এবং বাকি ৮০ শতাংশ খরচ করা হবে শুধু যে ঋণটি আমরা এনেছি তার সুদ দেওয়ার জন্য। কাজেই এটি একটি সুস্থ বাজেটের লক্ষণ না। তাছাড়া গত অর্থবছরের বাজেটের ৮০ শতাংশের মতো অর্জন করা সম্ভব হয়েছে। তারপরও যদি গতবারের থেকে এবারের বাজেটের আকার ২৫ শতাংশের মতো বৃদ্ধি করে দেখানো হয় তাহলে কিন্তু বাজেট বাস্তবায়নের সক্ষমতা নিয়ে মানুষের মধ্যে প্রশ্ন আসবে।
মাহমুদ হোসেন বলেন, বাজেট হচ্ছে এক বছরের জন্য সরকারের একটি কর্মপরিকল্পনা। আমরা শুধু স্বল্পোন্নত দেশ থেকে নি¤œ মধ্যেম আয়ের দেশে পরিণত হলাম। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, প্রায় ৪২ হাজার কোটি টাকার মতো রফতানি আমাদের প্রভাবিত হবে এবং স্বল্প সুদে আমরা যে বৈদেশিক ঋণ পাই তা কমে যাবে। ইদানীং মানুষের মধ্যে আয়ের বৈষম্য অনেক বেড়ে যাচ্ছে। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নকে টেকসই করার জন্য বা এটিকে ধরে রাখার জন্য সে রকম কোনো পরিকল্পনা কিন্তু আসেনি। বাজেটে এনবিআরের কর আহরণ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৪ শতাংশ। সে ক্ষেত্রে ব্যক্তি শ্রেণির থেকে কর আদায় করার জন্য প্রায় ৫২ শতাংশের মতো একটি প্রবৃদ্ধি রেট ধরেছে যা কোনোভাবেই অর্জন করা সম্ভব নয়। অর্থমন্ত্রী এবার বলেছেন, মধ্যেম আয়ের যেসব লোকজন আছেন তাদের আর একটু ভালো জীবন যাত্রার ব্যবস্থা করবে। কিন্তু বাজেটের যে কর্মপরিকল্পনা সেখানে সে রকম কোনো সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না।

শ্রুতিলিখন: রাহাতুল ইসলাম