প্রস্তাবিত বাজেট কর্মসংস্থানমুখী নয়

ইআরএফের মতবিনিময়

নিজস্ব প্রতিবেদক: আগামী অর্থবছরের (২০১৮-১৯) প্রস্তাবিত বাজেটে সাধারণ বেকারের পাশাপাশি শিক্ষিত ও তরুণ বেকারদের জন্য কোনো বিনিয়োগ কৌশল দেওয়া হয়নি, যা আর্থিক অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধির পথে অন্তরায়। বাজেটের আকার বড় হলেও এতে কর্মসংস্থানের কোনো কৌশল দেওয়া হয়নি। বাজেট কর্র্মসংস্থানমুখী নয়, মেগা প্রজেক্টমুখী। বজেটে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতকে উপেক্ষা করা হয়েছে। বাজেট-পরবর্তী সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় এমন কথা বলেন বক্তারা।
গতকাল রাজধানীর পল্টনে ইআরএফ কার্যালয়ে গণতান্ত্রিক বাজেট আন্দোলন ও ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) যৌথভাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময়ের আয়োজন করে। গণতান্ত্রিক বাজেট আন্দোলনের সহ-সভাপ্রধান আসগর আলী সাবরীর সঞ্চালনায় বাজেট বিশ্লেষণ উপস্থাপন করেন গবেষণা সম্পাদক মনোয়ার মোস্তফা। এতে বক্তব্য দেন গণতান্ত্রিক বাজেট আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক এআর আমান, অর্থনীতিবিদ এমএম আকাশ, ইআরএফ সভাপতি সাইফুল ইসলাম দিলাল, স্বাস্থ্য অধিকার আন্দোলনের সভাপতি ডা. রশিদ ই মাহবুব, বিজনেস ইনিশিয়েটিভ লিডিং চেঞ্জের (বিল্ড) সিইও ফেরদৌস আরা বেগম প্রমুখ।
মূল প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় বৃদ্ধির কারণে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, খাদ্য-পুষ্টিসহ সামাজিক ও মানবিক উন্নয়ন খাতে বাজেট প্রতিবছর কমছে। এতে দেশে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি হচ্ছে না, আয় বৈষম্য বাড়ছে।
অর্থনীতিবিদ এমএম আকাশ বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়নের পেছনে রয়েছে জনগণের কঠোর পরিশ্রম। এতে সরকারের বিশেষ কোনো কৃতিত্ব নেই। অর্থনৈতিক উন্নয়নে কৃষি, তৈরি পোশাক খাত, প্রবাসী আয় ও এসএমই খাতের অবদান এখানে মুখ্য। বর্তমান সরকার এখন যে অবকাঠামোভিত্তিক উন্নয়ন দর্শন চিন্তা করছে, তা আদৌ সফল হবে না, যদি কর্মসংস্থানের জন্য দক্ষ জনগোষ্ঠী তৈরি করা না যায়। আর দক্ষ মানবসম্পদ গঠনে দরকার মানসম্মত সাধারণ ও কারিগরি শিক্ষা, স্বাস্থ্যের মতো সামাজিক ও মানবিক উন্নয়ন খাতে তুলনামূলক বেশি বরাদ্দ। কিন্তু সরকার করছে তার উল্টোটি। তাই এ বাজেট কর্মসংস্থানমুখী নয় বরং মেগা প্রজেক্টমুখী বলা যেতে পারে।
ইআরএফ সভাপতি সাইফুল ইসলাম দিলাল বলেন, বাজেটে নি¤œবিত্ত ও মধ্যবিত্তের ওপর চাপ বাড়বে। জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক সালাহউদ্দিন বাবলু বলেন, আমরা যদি স্বর্ণের বাজারমূল্যের সঙ্গে বাজেটের আর্থিক মূল্যের হিসাব করি, তাহলে দেখব যে, বঙ্গবন্ধু যে বাজেট দিয়েছিলেন, সে তুলনায় বর্তমান বাজেটের পরিমাণ অনেক কম। জনগণের করের টাকায় ব্যাংক খাতের দায় শোধের সমালোচনা করেন তিনি।
বিল্ডের সিইও ফেরদৌস আরা বেগম বলেন, তাড়াহুড়ো করে অ্যাডহক ভিত্তিতে সরকার বিনিয়োগ-সংক্রান্ত যেসব সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, তার জন্য সামনে বিপদে পড়তে হবে। মাত্র এক বছরের মাথায় পরিবেশবান্ধব শিল্পে দুই শতাংশ কর বৃদ্ধিরও সমালোচনা করেন তিনি। এছাড়া তিনি আরও বলেন, যানজট নিরসনে কোনো বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা নেই; অথচ এর কারণে আমরা জিডিপি হারাচ্ছি।