বাণিজ্য সংবাদ

প্রস্তাবিত বাজেট জনমুখী ও ব্যবসা সহায়ক

বাজেট প্রতিক্রিয়ায় এফবিসিসিআই

নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রস্তাবিত বাজেটকে জনকল্যাণমুখী ও ব্যবসা সহায়ক অভিহিত করে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই বলেছে, তা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন পরিকল্পনার বাস্তবায়নকে ত্বরান্বিত করবে বলে তারা আশা করছে। জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনের দুদিন পর গতকাল শনিবার বাজেট-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে এর ২০টি ইতিবাচক দিক তুলে ধরে এফসিসিসিআই বলেছে, তারা বাজেট নিয়ে আরও বিশ্লেষণ করবেন, ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন সংগঠনগুলোর মতামতের ভিত্তিতে বিস্তারিত প্রস্তাবনা পরে অর্থমন্ত্রীকে দেবে। রাজধানীর মতিঝিল ফেডারেশন ভবনে এফবিসিসিআর এ সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার বৃহস্পতিবার ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেট সংসদে প্রস্তাব করেছে। পাঁচ লাখ ২৩ হাজার কোটি টাকার এ বাজেট আগেরটির চেয়ে ১৮ শতাংশ বড়।
আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ায় এফবিসিসিআই বাজেট নিয়ে সন্তোষ জানিয়ে বলেছে, প্রস্তাবিত বাজেট যেমন ব্যবসা সহায়ক, তেমনি জনকল্যাণমুখী। শুধু ঘাটতি পূরণে দেশের ব্যাংক ঋণের ওপর নির্ভরতা কমাতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠনটি।
প্রস্তাবিত বাজেটকে কেন ব্যবসাবান্ধব বলছেন- সাংবাদিকদের এ প্রশ্নে এফবিসিসিআইর সহসভাপতি ও বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, অতীতের বাজেটগুলোর সঙ্গে তুলনা করলে এ বাজেটে কিছু কিছু ক্ষেত্রে ব্যবসার সুযোগ-সুবিধা বেড়েছে। কিছু ক্ষেত্রে সমস্যা থাকলেও তা আলোচনার মাধ্যমে সংশোধনের সুযোগ এখনও আছে। লিখিত বক্তব্যের বাইরে এফবিসিসিআই নেতারা বলেছেন, বড় আকারের এ বাজেট বাস্তবায়নে যেন ব্যবসায়ীরা হয়রানির শিকার না হয়।
সংবাদ সম্মেলনে এফবিসিসিআই সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম বলেন, সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী, গবেষণা ও উন্নয়ন, উদ্ভাবন, আইসিটি, অবকাঠামো, আর্থ-সামাজিক, দারিদ্র্য বিমোচন, মানবসম্পদ, শিক্ষা, কৃষি, স্বাস্থ্য খাতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ায় এবারের বাজেট যুগোপযোগী হয়েছে।
বাজেটের ইতিবাচক দিক তুলে ধরে তিনি বলেন, যুব সমাজকে উদ্যোক্তা বানাতে ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ, মুক্তিযোদ্ধা, বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা, অসচ্ছল প্রতিবন্ধীসহ বিভিন্ন সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য সুবিধা বৃদ্ধি একটি মানবিক উদ্যোগ।
এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, যোগাযোগ ব্যবস্থাসহ অন্যান্য অবকাঠামো উন্নয়নের বিষয়ে বাজেটে যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে তা বিনিয়োগ, শিল্পায়ন এবং কর্মসংস্থান প্রক্রিয়াকে গতিশীল করবে। এ ধরনের অবকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রে পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) আরও ভূমিকা রাখবে। নতুন বাজেটে ঘাটতি পূরণে ব্যাংক খাতের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে বৈদেশিক উৎস ইনফ্রাস্ট্রাকচারাল ফান্ডস ও অন্যান্য ফিনান্সিয়াল টুলস’র ওপর জোর দেওয়ার অনুরোধ জানান তিনি।
১০ শতাংশ প্রতিবন্ধী জনশক্তির বিপরীতে প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য কর রেয়াত সুবিধা সামাজিক দায়িত্বশীলতার চর্চাকে উৎসাহিত করবে বলে মনে করেন শেখ ফাহিম। তিনি বলেন, ২০২৪ সাল পর্যন্ত কর অবকাশ সুবিধা শিল্পকে উৎসাহিত করবে। তৈরি পোশাক রফতানির ক্ষেত্রে এক শতাংশ প্রণোদনা দেওয়া এবং হ্রাস করা করের হার বহাল রাখার সিদ্ধান্ত রফতানি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বিশেষ সহায়ক হবে। এছাড়া ক্যানসারের ওষুধ ও চিকিৎসার জন্য ব্যবহৃত গ্যাস তৈরির কাঁচামালের শুল্ক হার কমানো হয়েছে যা স্বাস্থ্য খাতের জন্য ইতিবাচক।
বাজেটে শিক্ষার মানোন্নয়নে ও আধুনিক কারিকুলাম গঠনের উদ্যোগগুলোর প্রশংসা করার পাশাপাশি প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থার কারিকুলামে কর-মূসক পরিশোধে নাগরিক দায়িত্ববোধ, ভোকেশনাল ট্রেনিং, ইন্টারনেট অব থিংস বা আইওটি, কোডিংকে অন্তর্ভুক্ত করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
রাজস্ব আয়ের যে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে তা সহজ, স্বচ্ছ এবং ধারাবাহিকতা বজায় রেখে আদায় করা হবে এবং হয়রানিমুক্ত হবে বলে আশা করছে এফবিসিসিআই।

 

সর্বশেষ..