সম্পাদকীয়

প্রাকৃতিক খাল ভরাট করে কারখানা নির্মাণ বন্ধ হোক

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এজন্য বনভূমি, জলাধার, পাহাড়,-পর্বত রক্ষার কথা বলা হচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে যে দেশগুলো, তার মধ্যে বাংলাদেশ শীর্ষস্থানীয়। সেক্ষেত্রে পরিবেশ ও জলাভূমি রক্ষায় আমাদের সবচেয়ে বেশি উদ্যোগী হওয়া উচিত। কিন্তু এক্ষেত্রে আমরা চূড়ান্ত ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছি। এর সর্বশেষ নিদর্শন চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের বারোমাসি খাল ভরাট করে কারখানা নির্মাণ করা। কাজটি করছে বিএসআরএমের মতো জায়ান্ট কোম্পানি। অথচ ভূমি মন্ত্রণালয়ের মানচিত্রেও খালটির অস্তিত্ব রয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। এরপরও কোম্পানিটি পরিবেশের ক্ষতি করে কারখানা নির্মাণ কোনোভাবেই প্রত্যাশিত নয়।
গতকালের দৈনিক শেয়ার বিজে ‘মিরসরাইয়ে খাল ভরাট করে বিএসআরএমের কারখানা’ শিরোনামে একটি বিশেষ প্রতিবেদন ছাপা হয়। এতে বলা হয়েছে, ইস্পাত খাতের মার্কেট লিডার খ্যাত বিএসআরএম মিরসরাইয়ের সোনাপাহাড় এলাকায় স্থাপন করেছে দেশের বৃহৎ বিলেট কাস্টিং প্লান্ট। কিন্তু এ প্লান্ট তৈরি করতে গিয়ে পাশের বারোমাসি খালের প্রায় এক কিলোমিটার ভরাট করে তা বেদখল করেছে। এতে খালটির পানিপ্রবাহে বাধা সৃষ্টির পাশাপাশি গতি পরিবর্তনের মাধ্যমে স্থানীয় কৃষকের ক্ষতি হচ্ছে। পাহাড়ি ঢলের পানি বের হতে না পারায় লোকালয় প্লাবিত হয়ে ঘরবাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ।
বিএসআরএমের কারণে ওই এলাকার পরিবেশ বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে সন্দেহ নেই। পাশাপাশি স্থানীয়রাও বড় ক্ষতির শিকার হচ্ছেন। দেশের শীর্ষস্থানীয় একটি কোম্পানির কাছ থেকে এ ধরনের কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই প্রত্যাশিত নয়। রাজধানীর পানি নিষ্কাশনের খালগুলোর অধিকাংশই এরই মধ্যে হারিয়ে গেছে। অন্য বড় শহরগুলোও একই পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে। এছাড়া সুন্দরবনসহ দেশের প্রাকৃতিক পরিবেশও বড় ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। এজন্য দেশের ভবিষ্যতের স্বার্থে পরিবেশ ও জলাধার রক্ষায় সবারই দায়িত্ব রয়েছে।
খবরে উল্লেখ করা হয়েছে, তালিকাভুক্ত কোম্পানি বিএসআরএম মিরসরাইয়ে দেশের বৃহৎ বিলেট কাস্টিং প্লান্ট স্থাপন করতে গিয়ে গোপনে বারোমাসি খাল ভরাট করে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা বিষয়টি স্বীকার করে বলেছেন, বারোমাসি খালে পানিপ্রবাহের কারণে এর সুফল পেতেন স্থানীয়রা। কিন্তু এখন তা সেখানকার অধিবাসীর ক্ষতির কারণ হচ্ছে। এর দায় বিএসআরএম এড়াতে পারে না। অথচ প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা এ নিয়ে দায়সারা গোছের বক্তব্য দিয়েছেন, যা অপ্রত্যাশিত। এভাবে প্রাকৃতিক খাল ভরাট করার বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতেই হবে। পাশাপাশি এ ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধে কঠোর অবস্থানও নিতে হবে। পরিবেশ ও জলাধার রক্ষায় কোনো ধরনের ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই বলে আমরা মনে করি।

সর্বশেষ..