করপোরেট টক

প্রিমিয়াম কফি হাউজ সেকেন্ড কাপ কফি

শরীরের পক্ষে ভালো কফি। তাই নানা স্বাদের কফি পান করতে কফিপ্রেমীরা ভিড় করেন ক্যাফে, কফি হাউজ কিংবা কফি শপে। এর মধ্যে শীর্ষস্থানীয় সেকেন্ড কাপ কফি। প্রতিষ্ঠানটির বিস্তারিত তুলে ধরেছেন জহিরউদ্দিন অভি। ছবি: শরীফুল ইসলাম

দেশের মানুষের ত্রয়ক্ষমতা বাড়ছে। বাড়ছে স্বাস্থ্যসচেতনতাও। খাদ্য ও পানীয়র বিষয়েও মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি বদলেছে। কয়েক বছরে বাঙালি মধ্যবিত্তের মাঝে কফির চাহিদা তুলনামূলক বেড়েছে। তাই দেশে এসেছে হরেক রকমের কফি ব্র্যান্ড। তরুণ সমাজ এখন আর আগের মতো চায়ের কাপে ঝড় তোলে না। এখন তাদের আড্ডার কেন্দ্রবিন্দু কফি হাউজ।
রাজধানীতে বেশ কয়েকটি কফি ব্র্যান্ড রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে কানাডিয়ান প্রিমিয়াম কফি হাউজ সেকেন্ড কাপ কফি। আর এ সেকেন্ড কাপের টানে প্রতিদিন বনানী ও ধানমন্ডি আউটলেটে হাজির হন তরুণরা।
সেকেন্ড কাপের বনানী আউটলেটটি করপোরেটদের পছন্দের একটি জায়গা। কামাল আতাতুর্ক অ্যাভিনিউর আওয়াল সেন্টারের সেকেন্ড কাপে বসে হাই অফিসিয়ালরা তাদের প্রয়োজনীয় কাজ সেরে ফেলেন কফি খেতে খেতে। অনেকে আবার এখানে অফিসিয়াল মিটিংও করেন। সেকেন্ড কাপের বন্ধুত্বপূর্ণ ও আন্তরিক সেবা আর মন ভোলানো কফির সাধ নিতে তারা বারবার আসেন এখানে।
রাজধানীর ধানমন্ডির আউটলেটটি যেন তরুণদের এক মিলনমেলার জায়গা। ১৯ নং রোডের ইন্টারন্যাশনাল ফুডকোর্ট যেন তরুণদের প্রাণকেন্দ্র। তাদের কাছে এটি আকর্ষণীয় আড্ডাস্থল হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেছে। ফুডকোর্টের ছয়তলায় সুবিন্যস্ত কফি হাউজে তারা আড্ডায় মাতিয়ে রাখেন মধ্যরাত পর্যন্ত। ধানমন্ডি আউটলেটটির প্রধান বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, এখানে রয়েছে বিশাল ওপেন স্পেস, ফ্রি ওয়াইফাই সুবিধা, স্মোকিং জোন ও লিফট। এখানে নিজের আসনটি পেতে তরুণদের মাঝে রীতিমতো প্রতিযোগিতা চলে। মুক্ত বাতাসে চাঁদ দেখতে দেখতে কফি খাওয়ার মজাই আলাদা!
ধানমন্ডিতে তারুণ্যের উচ্ছ্বাস দেখতে মধ্যবয়সীরাও ভিড় করেন এখানে। তখন তাদের স্মৃতিতে ফিরে আসে জীবনের ফেলে আসা অতীত। এ রকমই একজন নিয়মিত অতিথি হাসান সাহেব। তিনি প্রায়ই ধানমন্ডি সেকেন্ড কাপে আসেন। কফি খেতে খেতে তিনি দেখেন তরুণ-তরুণীদের আড্ডা। এটা তিনি বেশ উপভোগ করেন। মাঝেমধ্যে ওইসব তরুণের মিছিলে শামিল হতে পরিবারসহ চলে আসেন ইন্টারন্যাশনাল ফুডকোর্টে।
সেকেন্ড কাপের ধানমন্ডি যেহেতু তরুণদের পছন্দের জায়গা, সেহেতু এ আউটলেটটি নিয়ে তাদের আগ্রহের কমতি নেই। বনানী নিবাসী তরুণ সিফাত আহমেদ। তিনি প্রতি রাতেই ধানমন্ডির সেকেন্ড কাপে আসেন কফি খেতে আর আড্ডা দিতে। ইন্টারন্যাশনাল ফুডকোর্টের পরিবেশ, সেকেন্ড কাপের আতিথেয়তা ও কফির গন্ধ তাকে এখানে টেনে আনে। লালমাটিয়ার ফারজানা আলম বলেন, রাজধানীর সবচেয়ে মনোমুগ্ধকর কফি হাউজ সেকেন্ড কাপ।
সেকেন্ড কাপ কফিতে রয়েছেন দক্ষ ও আন্তরিক কর্মীরা। তারা খুব সুন্দরভাবে অতিথিদের আপ্যায়ন করতে জানেন।
ধানমন্ডির অধিবাসী সাবিনা ইসলাম সেকেন্ড কাপ সম্পর্কে মন্তব্য করে বলেন, সেকেন্ড কাপ আমার ব্র্যান্ড। আমার ভালোবাসা। ধানমন্ডির সেকেন্ড কাপ কফির ওপেন স্পেস আমাকে বারবার টেনে আনে। সারা দিনের কাজ শেষে এখানে এলে শান্তির খোঁজ পাওয়া যায়।


ফেসবুকে সরব

রাজধানীর বনানী ও ধানমন্ডির আউটলেট দুইটি এরই মধ্যে কফিপ্রেমীদের মনে স্থান করে নিতে সক্ষম হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও। এর মধ্যে উল্লেখ করা যায় ফেসবুকের কথা।
ফেসবুকে ভোক্তা সেবাদানের ক্ষেত্রে সেকেন্ড কাপ কফির র‌্যাটিং বেশ ভালো এবং এতে প্রতিষ্ঠানটির রেটিং পাঁচের মধ্যে চার দশমিক ছয়।
এ পেজে লাইক রয়েছে প্রায় ৫০ হাজার। নিয়মিত ফলো করেন প্রায় সমানসংখ্যক ফেসবুক ব্যবহারকারী।
ফেসবুক পেজে www.facebook.com/ secondcupbangladesh সেকেন্ড কাপ কফির বিভিন্ন পদ ও আয়োজন সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারবেন।

মন জয় করেছে কফিপ্রেমীদের…
কানাডিয়ান প্রিমিয়াম কফি ব্র্যান্ড সেকেন্ড কাপ কফি। প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৭৫ সালে। প্রাথমিক পর্যায়ে কানাডার টরন্টোতে স্বল্পপরিসরে ব্যবসা শুরু করে। বলা যায়, আমাদের দেশের টং দোকানের মতো ছিল শুরুটা। কানাডায় একে বলা হয় ‘কিয়সক’। শব্দটি ছোট আউটলেটকে রিপ্রেজেন্ট করে। তবে মানে ও গুণে অনন্য হওয়ায় ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ে পুরো কানাডায় ছোট ছোট আউটলেট হিসেবে।
এভাবে চলতে চলতে মাত্র পাঁচ বছরের মাথায় ১৯৮০ সালে সেকেন্ড কাপ কফি একটি নামকরা ব্র্যান্ডে পরিণত হয়। সংগত কারণে বাড়তে থাকে তাদের ব্যবসায়িক পরিধিও। এরপর অবশ্য দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হয় দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বাইরে বের হওয়ার জন্য। ২০০২ সালে বিশ্বজুড়ে ফ্র্যাঞ্চাইজি বিজনেস শুরু করে সেকেন্ড কাপ কফি। কানাডার বাইরে প্রথম আউটলেট চালু করা হয় দুবাইয়ে। বর্তমানে তাদের প্রায় ৩০০ আউটলেট রয়েছে বিশ্বজুড়ে।
বাংলাদেশে সেকেন্ড কাপ কফি যাত্রা করে ২০১৫ সালে। সেকেন্ড কাপ কফি শপে তিন ধরনের ড্রিংকস রয়েছে। এগুলো হচ্ছে বারিস্তা ক্রাফটেড পারফেক্ট কাপ, হ্যান্ডক্রাফট ক্লাসিকস ও ফ্রোজেন ফেভারিটস। বারিস্তা ক্রাফটেড সাত ধরনের বিন দিয়ে ব্রুড কফি তৈরি করা হয়। ঠাণ্ডা ও গরম হ্যান্ডক্রাফট ক্লাসিকসে রয়েছে মিল্ক বেইজড কফি। আর ফ্রোজেন ফেভারিটসে রয়েছে কফি ও কফিসহ চিল ড্রিংকসের নানা পদ। রয়েছে ক্রিমি, ডার্ক, হোয়াইট, ভ্যানিলা বিন ও ম্যাপল।
সেকেন্ড কাপ কফি বেশ কয়েক ধরনের কফি বিন নিয়ে কাজ করে। এগুলো সংগ্রহ করা হয় কানাডা থেকে। ফলে তাদের কফি স্বাদে ও মানে হয় অনন্য। তৃপ্তি পায় সব শ্রেণির কফিপ্রেমী।

কফিতে অনন্য…
স্বাস্থ্যসচেতন মানুষের কাছে জনপ্রিয় কফি। নানা স্বাদের কফি পান করতে তাই অনেকে ভিড় করেন ক্যাফে, কফি হাউজ কিংবা কফি শপে। রাজধানীতে এদের মধ্যে সেরা ‘সেকেন্ড কাপ কফি’। ২০১৫ সাল থেকে সফলতার সঙ্গে ব্যবসা পরিচালনা করছে প্রতিষ্ঠানটি। প্রিয় হয়ে উঠেছে কফিপ্রেমীদের কাছে।
সেকেন্ড কাপ কফিতে তরুণ থেকে বৃদ্ধ সবাই আসেন। প্রতিষ্ঠানটির দুইটি আউটলেট রয়েছে যথাক্রমে বনানী ও ধানমন্ডিতে। দুইটি আউটলেটেই বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, ব্যাংক কর্মকর্তা, বায়িং হাউজের কর্মকর্তা, বায়ার ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর আনাগোনা বেশি। অনেকেপরিবার-পরিজন নিয়েও এখানে আসেন।
বনানীর আউটলেটটি মূলত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও করপোরেট পিপলদের কথা চিন্তা করে খোলা হয়েছে। এর বাইরে বিদেশি ও স্থানীয় বাসিন্দারা রয়েছেন। তাই ভালো সাড়া পাচ্ছে আউটলেটটি। আউটলেটটির অধিকাংশ ক্রেতাই ব্যাংক ও বায়িং হাউজের কর্মকর্তা। আর ধানমন্ডির আউটলেটটিতে ব্যাংক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা আসেন।
মূলত দুইটি আউটলেটে আসা কাস্টমারদের বয়স ২০ থেকে ৬০-এর মধ্যে। ষাটোর্ধ্বরাও আসেন। এ কফি শপে ছোটখাট মিটিং সেরে নেওয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে। এখানে হ্যাং আউটের সুবিধা রয়েছে। একটু নিরিবিলি সময় কাটানো কিংবা আড্ডা দেওয়া যায় অনায়াসেই।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কফির অর্ডার করে দীর্ঘ সময় আড্ডায় বুঁদ হয়ে থাকেন অনেকে। কফি শপগুলো এমনই হওয়া উচিত বলে অভিমত দিয়েছেন ভোক্তারা।
সব আউটলেট সকাল ৯টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত খোলা থাকে।

ঠিকানা
বনানী আউটলেট
আওয়াল সেন্টার (দ্বিতীয় তলা)
৩৪, কামাল আতাতুর্ক অ্যাভিনিউ
বনানী বা/এ
ঢাকা-১২১৩

ধানমন্ডি আউটলেট
ইন্টারন্যাশনাল ফুড কোর্ট (ষষ্ঠ তলা)
৭৫৪/বি, সাত মসজিদ রোড
ধানমন্ডি, ঢাকা

সর্বশেষ..



/* ]]> */