ফিচার

প্রিয়জনের সঙ্গে স্মৃতিবহুল ডিনার মানেই টনি রোমাস

প্রিমিয়াম রিবস অ্যান্ড স্টেকহাউজ মানেই অভিজাত টনি রোমাস। রাজধানীর সবচেয়ে অভিজাত, রুচিশীল ও বনেদি রেস্টুরেন্ট কোনটি? এ প্রশ্নের সঠিক উত্তর খুঁজতে হলে সবার আগে আপনাকে যেতে হবে গুলশানের টনি রোমাস রেস্টুরেন্টে। এখানে ঢুকলেই মনে হবে এটি যেন সেই মুঘল সম্রাটের কোনো ভোজনশালা! নিচতলায় সুবিন্যস্ত লবি, সুপরিসর ডাইনিং। দ্বিতীয় তলায় উঠতেই চোখে পড়বে বাদশাহী সিঁড়ি। এ সিঁড়ি দিয়ে ওপরে উঠলে চোখে পড়বে বিশাল ব্যাংকুয়েট হল। বিয়ে, জš§দিন, সামাজিক অনুষ্ঠানসহ করপোরেট মিটিংয়ের জন্য একদম পারফেক্ট টনি রোমাস।

টনি রোমাস আমেরিকান প্রিমিয়াম ব্র্যান্ড। রিবস ও স্টেকের জন্য বিশ্বখ্যাত রেস্টুরেন্ট এটি। শুরুতে বলে রাখা ভালো, এটি আমজনতার রেস্টুরেন্ট নয়। কেননা, নির্ভেজাল, স্বাস্থ্যকর প্রভৃতি গুণের পাশাপাশি দেশে বসে বিদেশি দামি খাবার খাওয়ার অনন্য স্থান টনি রোমাস। বোঝাই যাচ্ছে, এর দামও তুলনামূলক বেশি। তবে ভাবার কিছু  নেই; দামি খাবার হলেও আপনার মন ভরবে নিশ্চিত। টনি রোমাসের স্মৃতি অনেক দিন মনে থাকবে। এসব কারণে সপরিবারে রেন্টুরেন্টে খাওয়াকে স্মৃতিবহুল করতে হলে আপনাকে অবশ্যই যেতে হবে টনি রোমাসে।

টনি রোমাসের সবচেয়ে পছন্দের ডিশ বিফ রিবস। অস্ট্রেলিয়ান বিফের শতভাগ হালাল এ রিবস মূলত গরুর পাঁজরের মাংস। আমরা যেটাকে সিনার মাংস বলি। রিবস বলতে এটাকেই বোঝায়। তবে এর জন্য প্রয়োজন বিশেষ জাতের গরু। অস্ট্রেলিয়ায় অর্ডার দেওয়ার পর এ রিবস প্রক্রিয়াজাত করা হয়। তারপর এটি এয়ার কারগোতে আসে বাংলাদেশে। অতঃপর নির্দিষ্ট মেয়াদের মধ্যে এটি ক্রেতার সামনে হাজির করা হয়। এ কারণে এর স্বাদ ও মান আলাদা।

এরপর রয়েছে স্টেক। নানা পদের লোভনীয় স্টেকের কথা লিখতে গিয়ে মুখে লালা চলে এসেছে। এ স্টেকের কোনো তুলনা নেই। বাংলাদেশ তো দূরের কথা, এশিয়ার গরু দিয়ে এ স্টেক করা সম্ভব নয়।

টনি রোমাস নামি-দামি এক রেস্টুরেন্ট। মূলত কূটনীতিক ও ঢাকার এলিটদের পছন্দের রেস্টুরেন্ট এটি। তবে উচ্চ-মধ্যবিত্তদের নাগালে নিয়ে আসতে ফুড চেইন এশিয়া মাঝেমধ্যে বিশেষ অফার দিয়ে থাকে। আর এ অফার লুফে নিতে পারলে আপনিও উপভোগ করতে পারেন টনি রোমাসের খাবারের স্বাদ।

ওহ! হ্যাঁ, ঢাকার অভিজাত কাপলদের পছন্দের জায়গা টনি রোমাস। ঢাকার তরুণ ব্যবসায়ী হারিস কাইয়ুম। বান্ধবীকে নিয়ে নিয়মিত আসেন টনি রোমাসে। তিনি বলেন, নিরিবিলি ও অভিজাত পরিবেশ। খাবার উপভোগ করা ও প্রিয়জনের সঙ্গে সময় কাটানোর জন্য চমৎকার জায়গা এটি। তিনি আরও বলেন, এখানকার রিবস অতুলনীয়। ইউরোপ ও আমেরিকার টনি রোমাসের সঙ্গে ঢাকার টনি রোমাসের কোনো পার্থক্য নেই। বরং ঢাকার আতিথেয়তা বেশ আন্তরিক।

ঢাকার একটি বিদেশি বায়িং হাউজে কাজ করেন শামীমা বিনতে জাহান। তিনিও নিয়মিত লাঞ্চ করতে যান টনি রোমাসে। শামীমা বলেন, আমার ইতালিয়ান সহকর্মীরা এ রেস্টুরেন্টটির খবর দিয়েছেন। প্রথমদিকে দামটা একটু বেশি মনে হলেও খাবারের মান ও গুণ তাকে মুগ্ধ করেছে। এক কথায়, টনি রোমাসের খাবার স্বাস্থ্যকর ও সুস্বাদু। আর এখানের পরিবেশ মনোমুগ্ধকর। তাইতো বিশেষ কোনো অনুষ্ঠান হলেই বন্ধু-বান্ধবদের নিয়ে তিনি চলে আসেন টনি রোমাসে।

টনি রোমাসে রয়েছে মন ভোলানো সব স্টার্টার। একটি অন্যটির চেয়ে মজাদার ও আকর্ষণীয়। ড্রিংকসের ক্ষেত্রেও টনি রোমাসের রয়েছে বিশেষত্ব।

-জহিরুদ্দিন অভি

 

ঠিকানা : প্লট নং- এনইবি (৩বি), রোড ৭৪, গুলশান ২, ঢাকা (দুপুর ১২টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত খোলা থাকে)

ট্যাগ »

সর্বশেষ..



/* ]]> */