প্লাস্টিক ব্যবহার বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়ান

মঙ্গলবার রাজধানীতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের (পবা) পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, প্রতিদিন রাজধানী ঢাকায়ই জমছে প্রায় দুই কোটি পলিথিন ব্যাগ। এসব শুধু পরিবেশের ক্ষতি নয়, জলাবদ্ধতাও সৃষ্টি করছে রাজধানীতে। এ তথ্য উদ্বেগের। বস্তুত ২০১০ সালে সামগ্রিকভাবে দেশে প্লাস্টিক ব্যবহারের পরিমাণ ছিল সাড়ে সাত লাখ মেট্রিক টন। এখন সেটি আরও বেড়ে উঠেছে। পলিথিন ব্যাগের অধিকাংশই পুনর্ব্যবহার ও পুনঃচক্রায়ন না করে যত্রতত্র ফেলায় পরবর্তী সময়ে তা গিয়ে পড়ছে খাল, নদী ও সমুদ্রে। জলজ প্রাণীর মাধ্যমে তা পুনরায় মানুষের খাদ্যচক্রে ঢুকছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। এতে মানবস্বাস্থ্যের ঝুঁকি শুধু বাড়ছে না, পরিবেশের অন্যান্য উপাদান আর বাস্তুসংস্থানেও পড়তে পারে এর প্রভাব। জমির উর্বরতা হ্রাসের ফলে উৎপাদন কমে গেলে ক্ষতিগ্রস্ত হবে অর্থনীতি। আমরা মনে করি, সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে প্লাস্টিকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে সরকারের পদক্ষেপ নেওয়া দরকার। তাতে সামগ্রিকভাবে পরিস্থিতির কিছুটা হলেও উন্নতি হবে। অনেকে অবশ্য মনে করেন, আইনের কঠোর প্রয়োগের মাধ্যমে প্লাস্টিক উৎপাদন ও তার ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ সম্ভব। পাটপণ্যের ব্যবহার বাড়ানোর লক্ষ্যেও এমন বক্তব্য দেন কেউ কেউ। তাদের কথায় যুক্তি হয়তো রয়েছে। তবে এক্ষেত্রে বাস্তবতা উপলব্ধির জন্য পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রীর বক্তব্যও মনে রাখা দরকার। একই দিনে রাজধানীতে আয়োজিত আরেক অনুষ্ঠানে তিনি বলেছেন, আইন প্রয়োগের মাধ্যমে প্লাস্টিকের উৎপাদন বন্ধ করা সম্ভব নয়; কারণ আমাদের জনবল নেই। সন্দেহ নেই, অবকাঠামোগত আরও বাধা রয়েছে এক্ষেত্রে। আমরা মনে করি, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট দফতরে জনবল ও অবকাঠামোগত সংকট নিরসনের পদক্ষেপ নেওয়া দরকার পরিবেশ, জনজীবন ও অর্থনীতির স্বার্থেই। রাজধানীসহ সারা দেশে প্রায় ১ হাজার ২০০ কারখানায় পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর পলিথিন ব্যাগ তৈরি হচ্ছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে পবা আয়োজিত অনুষ্ঠানে। বিদ্যমান আইন প্রয়োগের শিথিলতায়ও পলিথিন ব্যাগের ব্যবহার অনেকটা বেড়েছে বলে উল্লেখ করেছেন পরিবেশ অধিদফতরের সাবেক এক কর্মকর্তা। এটা অপ্রত্যাশিত। এতে পরোক্ষভাবে উৎসাহিত হয় প্লাস্টিকপণ্য, বিশেষত পলিথিন উৎপাদন সংশ্লিষ্টরা। ব্যবসায়ীদের এমন কর্মকাণ্ড থেকে নিবৃত্ত করতে বিদ্যমান আইনের যথাযথ প্রয়োগের পাশাপাশি রাজনৈতিক কমিটমেন্টও থাকা দরকার। দৈনন্দিন জীবনে প্লাস্টিকপণ্যের মধ্যে পলিথিনের ব্যবহার এতই বিস্তৃত যে, বিদ্যমান আইন আরও কঠোর করলেও একে নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন। এ অবস্থায় জনসচেতনতা সৃষ্টির বিকল্প নেই। আমাদের বিশ্বাস, এ ধরনের পণ্যের স্বাস্থ্য, পরিবেশ ও অর্থনৈতিক ঝুঁকি জনসাধারণকে বোঝানো গেলে এর ব্যবহার বৃদ্ধির প্রবণতা নিয়ন্ত্রণে রাখা যাবে। এ লক্ষ্যে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি উন্নয়ন সংস্থাগুলোর পদক্ষেপও প্রত্যাশিত। নতুন প্রজš§ যাতে এ বিষয়ে এখন থেকেই সচেতন হয়ে ওঠে, সে ব্যাপারে উপযুক্ত পদক্ষেপ নেওয়া হলে ভবিষ্যতে এটির ব্যবহার কমে আসবে বলেই ধারণা। সর্বোপরি, প্লাস্টিকপণ্যের ব্যবহার নিরুৎসাহিত করতে মানুষকে দিতে হবে উপযুক্ত, আকর্ষণীয় ও ব্যয়সাশ্রয়ী বিকল্প। সেটি নিশ্চিতের জন্যও অব্যাহত রাখা চাই গবেষণা।