সুশিক্ষা

ফকু ভাইয়ের বইগুলো শিল্পকলায়

যশোরের সাংস্কৃতিক মণ্ডলে ইকরামুল হক চৌধুরী ফকু ভাই নামে পরিচিত। সত্তরোর্ধ্ব মানুষটি সাংস্কৃতিক জগৎকে আঁকড়ে পড়ে রয়েছেন। শৈশবে স্কুলের নাটকে প্রথম অভিনয় করেন। আর ছাড়তে পারেননি এ জগৎটাকে। শিশু সংগঠক, পরিচালক, নাট্যকার ও অভিনেতা হিসেবে পরিচিতি তিনি। ১৯ বছর বয়সে বিষয়ভিত্তিক পড়ালেখায় মনোনিবেশ করেন। বাড়িতে গড়ে তোলেন গ্রন্থাগার। জীবনসায়াহ্নে এসে পরম মমতায় আগলে রাখা সেসব বই নিবেদন করলেন নতুন প্রজন্মের  জন্য।
যশোর শহরের চুড়িপট্টির হাজি আবদুল করিম সড়কের অধিবাসী ফকু ভাই। তার বাবা গোলাম আনোয়ার চৌধুরী ছিলেন ব্যবসায়ী। মা মেহেরুন নেছা ছিলেন গৃহিণী।
সম্প্রতি তিনি নিজের গ্রন্থাগারের চলচ্চিত্র, নাটক ও ফটোগ্রাফিবিষয়ক ৮৪টি বই তুলে দেন জেলা শিল্পকলা একাডেমির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাহমুদ হাসান বুলুর হাতে। আরও কিছু বই দান করেছেন যশোর ইনস্টিটিউট পাবলিক লাইব্রেরি ও ডায়মন্ড ক্লাবকে। ব্যক্তিগতভাবেও অনেককে বই উপহার দেন অকৃতদার মানুষটি।
১৯৪৫ সালের ৬ মার্চ জন্মগ্রহণ করেন ফকু ভাই। স্থানীয় নাট্যশিল্পী কালীপদ দাস ১৯৬০ সালে মোহনগঞ্জ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘সোনার মেডেল’ নামে একটি নাটক মঞ্চস্থ করান। তিনি এতে শিক্ষকের ভূমিকায় অভিনয় করেন।
ফকু ভাই বলেন, ডায়মন্ড ক্লাবের মাধ্যমে তিনি শিশুদের নিয়ে কাজ শুরু করেন। তাদের খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে পরিশুদ্ধ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে নানা ইভেন্ট আয়োজন করেন। শিশু একাডেমি, শিল্পকলা একাডেমিসহ বিভিন্ন সংগঠনের আয়োজনে শিশুরা পারদর্শী হয়ে উঠছে।
তিনি বলেন, ‘যে পেশায় থাকুন না কেন পড়ালেখার বিকল্প নেই। সেই ভাবনা থেকে ১৯৬৪ সালে বই কেনা শুরু করি। যেহেতু নিজে নাটকের মানুষ, তাই স্ক্রিপ্ট লেখা, পরিচালনা প্রভৃতি বিষয়ে জানার ঝোঁকটা বেশি ছিল। এজন্য নাটক, চলচ্চিত্র ও ফটোগ্রাফির বই দিয়ে সাজাতে থাকি নিজের লাইব্রেরি। এগুলো আমার সাংস্কৃতিক জীবনকে সমৃদ্ধ করতে সহায়ক হয়েছে। জীবনসায়াহ্নে এসে আর পড়ার অবসর নেই। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যেন এগুলো পাঠ করে নিজেদের সমৃদ্ধ করতে পারে, সেই ভাবনা থেকে বইগুলো শিল্পকলা একাডেমির লাইব্রেরিতে দিলাম।’
তার বইগুলোর মধ্যে রয়েছে, ‘চলচ্চিত্র আদি থেকে বর্তমান’, ‘ফিল্ম মেকারের ভাষা’, ‘ক্যামেরা কৌশল’, ‘নাটক লেখার মূল সূত্র’, ‘মঞ্চালোক’, ‘চলচ্চিত্রের টেকনিক ও টেকনোলজি’, ‘কেমন করে গল্প হয়’, ‘বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের ইতিহাস’, ‘মুভি ফটোগ্রাফি কী’, ‘সত্যজিতের চিত্রনাট্য’, ‘ক্যামেরা’, ‘ফটোগ্রাফি ও ডার্করুম’ প্রভৃতি।
যশোর শিল্পকলা একাডেমির সাধারণ সম্পাদক বলেন, ফকু ভাইয়ের জীবনটাই একটা গল্প। তিনি শিশুদের নিয়ে কাজ করেন, নাটক লেখেন এবং নাটক পরিচালনা ও অভিনয় করেন। দিনের অধিকাংশ সময় ব্যয় করেন যশোর ইনস্টিটিউট পাবলিক লাইব্রেরিতে। যশোরের সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে একজন নিবেদিতপ্রাণ সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে তিনি পরিচিত। তার সংগ্রহভাণ্ডার থেকে যেসব বই তিনি শিল্পকলা একাডেমিকে দিলেন, তা মহামূল্যবান। এগুলো শিল্পকলার লাইব্রেরিকে শুধু সমৃদ্ধ করবে না, এর সহযোগিতা নিয়ে নতুন প্রজন্ম নিজেদের প্রকৃত শিল্পী হিসেবে গড়ে তোলার রসদ পাবে।

মীর কামরুজ্জামান মনি, যশোর

 

সর্বশেষ..