সম্পাদকীয়

ফণীতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষককে সহায়তা দেওয়া হোক

৩৫ জেলায় ঘূর্ণিঝড় ফণীর প্রভাব পড়েছে। ৫৫ হাজার ৬০৯ হেক্টর জমির অধিকাংশ বোরো ধান হার্ড ডাফ ও পরিপক্ব অবস্থায় বাতাসে হেলে পড়ায় দুই শতাংশ ক্ষতির আশঙ্কায় রয়েছে। তিন হাজার ৬৬০ হেক্টর জমিতে মাচা ভেঙে ও বাতাসের তোড়ে প্রায় ৯ শতাংশ শাকসবজি ক্ষতির আশঙ্কায় রয়েছে। ৬৭৭ হেক্টর জমির অধিকাংশ ভুট্টা মোচা অবস্থায় বাতাসে হেলে পড়ায় ১৫ শতাংশ ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। দুই হাজার ৩৮২ হেক্টর জমির পাট দমকা হাওয়ায় হেলে বা ভেঙে পড়েছে, তাতে পাঁচ শতাংশ ক্ষতির ঝুঁকিতে পড়েছে। ফসলের এই ক্ষতিতে বাজার প্রভাবিত না হওয়া যে অভয় দিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী তা সুখকর হলেও ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের পাশে দাঁড়ানো এখন অপরিহার্য।
দৈনিক শেয়ার বিজে গতকাল ‘ফণীতে ক্ষতিগ্রস্ত ৬৩ হাজার হেক্টর জমির ফসল’ শীর্ষক প্রতিবেদন ছাপা হয়। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এ ক্ষয়ক্ষতি প্রাথমিকভাবে উপশমে জমিতে আটকে যাওয়া পানি দ্রুত অপসারণ, ৮০ শতাংশ পরিপক্ব ধান কেটে ফেলা, হেলে পড়া ধান দ্রুত কেটে ফেলা, আউশ ক্ষেতের ফাঁকা স্থান পূরণ, পানবরজের বেড়া নির্মাণ এবং লতা কাঠিতে তুলে দেওয়া, সবজি ক্ষেতের মাচা মেরামত ও পানি নিষ্কাশনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যা ইউনিয়নে কর্মরত কৃষি কর্মকর্তারা কৃষকদের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করবে। কিন্তু এসব পরামর্শ কৃষকের দোরগোড়ায় কতখানি পৌঁছবে সে বিষয়ে কোনো তদারকির ব্যবস্থা রাখা হয়নি। তাছাড়া ফণী আক্রান্ত কৃষকদের অন্যান্য আর্থিক ক্ষতিতে অসমর্থ হয়ে পড়ায় ফসলের এই প্রাথমিক ক্ষতি প্রশমনে বিপৎকালীন আর্থিক কিংবা সরকারি উদ্যোগে কারিগরি সহায়তা দেওয়া যেতে পারে। নইলে সরকারের এসব পরামর্শ কৃষকরা কাজে লাগাতে পারবে না।
তবে বীজ, সার ও আর্থিক সহায়তা দেওয়া এবং পরবর্তী খরিপ মৌসুমে রোপা আমন ধানের বীজ-চারা উৎপাদন ও বিতরণে কৃষিমন্ত্রীর দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস কৃষকদের আশান্বিত করবে বলে আমরা বিশ্বাস করি। তবুও একেক কৃষকের কৃষিজমির পরিমাণ ও তার শতকরা হারে ক্ষতির পরিমাণে ভিন্নতা রয়েছে। সেদিক দিয়ে অনেক কৃষক শোচনীয় ক্ষতির মধ্যে পড়ে গেছে। তাদের এ ধরনের দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতিপূরণের উদ্যোগে পুনর্বাসন করা সম্ভব নয়। সেক্ষেত্রে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর নিশ্চয় কৃষকের মনোবল ফিরিয়ে এনে দেশের কৃষি অর্থনীতির চাকা শক্তিশালী করতে নিবিড়ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের পাশে দাঁড়াবে এবং একেক কৃষকের ক্ষতির মাত্রা অনুযায়ী আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা দেবে বলে আমাদের প্রত্যাশা।

সর্বশেষ..