সারা বাংলা

ফণীর আশঙ্কায় গোপালগঞ্জে তড়িঘড়ি বোরো কাটা শুরু

প্রতিনিধি, গোপালঞ্জ:ঘূর্ণিঝড় ফণীর ছোবলে ক্ষতির আশঙ্কায় পাকা বোরো ধানসহ অন্যান্য ফসল তাড়াহুড়ো করে ঘরে তোলার চেষ্টা করছেন গোপালগঞ্জে কৃষকেরা। জেলার প্রায় ৭০ ভাগ জমির বোরো ধান পেকে গেছে; এর মধ্যে ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কায় গোপালগঞ্জের বোরো চাষিদের কপালে পড়েছে দুশ্চিন্তার ভাঁজ।
গতকাল শুক্রবার দুপুর থেকে গোপালগঞ্জে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি শুরু হলে কৃষকেরা তড়িঘড়ি করে ধান কাটতে শুরু করলেও শেষ পর্যন্ত সব ফসল ঘরে তুলতে পারবেন কি নাÑতা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।
কাশিয়ানী উপজেলার শিল্টা গ্রামের কৃষক সাকায়েত হোসেন বলেন, ‘আমার ১০ বিঘা জমির পুরো ধান পেকে গেছে। কিন্তু কৃষানের অভাবে ঘূর্ণিঝড়ের আগে কাটতে পারছি না। ধান নিয়ে চরম আতঙ্কে আছি, জানি না কি হবে।
কাশিয়ানী উপজেলার জোতকুরা গ্রামের কৃষক মো. মোসলেম মোল্যা বলেন, ‘১০ জন ধান কাটা কৃষান নিয়েছি। আকাশে মেঘ দেখা যাচ্ছে এবং গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি শুরু হচ্ছে। আল্লাহই জানে ধান ঠিকমতো ধান কাটতে পারব কি না। শুনছি সিডরের চেয়েও বড় ঝড় হবে। তাই পাকা ধান নিয়ে চিন্তায় আছি।
গোপালগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণের ভারপ্রাপ্ত ডিডি কৃষিবিদ হরলাল মধু বলেন, চলতি বোরো মৌসুমে জেলার পাঁচ উপজেলার ৬৮টি ইউনিয়ন ও চারটি পৌরসভার ৭৭ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। ইতোমধ্যে এ জেলার ৫০ ভাগ ধান কাটা হয়েছে। আর মাত্র কয়েকদিন পর শুরু হবে পুরো দমে ধান কাটা ও মাড়াই উৎসব। এমন সময় ঘূর্ণিঝড় আঘাত করলে বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। তাই কৃষি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে ৮০ ভাগ পাকা বোরো ধান কাটতে এবং ভুট্টা, চীনা বাদামসহ পরিপক্ব সব ফসল ঘরে তুলতে কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে বলে জানান।

সর্বশেষ..