সারা বাংলা

ফণীর প্রভাবে বৃষ্টি চাঁপাইনবাবগঞ্জে আমের জন্য আশীর্বাদ

ফারুক আহমেদ চৌধুরী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ: ঘূর্ণিঝড় ফণীর অবস্থান ও গতিপথ অনুযায়ী শনিবার চাঁপাইনবাবগঞ্জ দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারে বলে তথ্য দিয়েছিল আবহাওয়া অধিদফতর। আশঙ্কা করা হচ্ছিল, এ সুপার সাইক্লোন চাঁপাইনবাবগঞ্জের ওপর দিয়ে ঘণ্টায় ১৪০ থেকে ১৫০ কিলোমিটার গতিবেগে বয়ে যেতে পারে, যা নিয়ে ব্যাপক উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় ছিলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের আমচাষিরা।
তবে গতকাল শনিবার দুপুরে গতিপথ বদলে ফণী চাঁপাইনবাবগঞ্জ এড়িয়ে সিরাজগঞ্জের ওপর দিয়ে বয়ে গেছে। আর চাঁপাইনবাবগঞ্জে শুক্রবার বিকাল থেকে শনিবার দুপুর পর্যন্ত ভারি বৃষ্টি হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় এ অঞ্চলে বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে প্রায় ৬৭ মিলিমিটার। ফলে ক্ষতির আশঙ্কা কেটে গিয়ে আশীর্বাদ হয়ে দেখা দিয়েছে বৃষ্টি।
আমচাষি ও কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, এপ্রিলের শেষ সপ্তাহজুড়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জে দাবদাহে আমে ব্যাপকভাবে বালাইয়ের উপদ্রব শুরু হয়। বোঁটা শুকিয়ে ঝরে পড়ারও ব্যাপক শঙ্কা দেখা দিয়েছিল। তবে ফণীর প্রভাবে যে বৃষ্টি হয়েছে, তা আমের জন্য ব্যাপক উপকারী।
শিবগঞ্জ উপজেলার আমচাষি ও রফতানিকারক ইসমাইল হোসেন খান শামিম জানান, ঘূর্ণিঝড় ফণী আঘাত হানলে আমের ব্যাপক ক্ষতি হতো। এ নিয়ে উদ্বেগ-আতঙ্কে দিন কেটেছে সবার। তবে কোনোরকম ঝড় ছাড়াই ফণীর প্রভাবে শুধু বৃষ্টি হওয়ায় এখন স্বস্তিতে জেলার আম ব্যবসায়ী ও বাগান মালিকরা।
ভোলাহাট উপজেলার আমচাষি আবদুস সাত্তার জানান, মুকুল আসার পর থেকেই বৃষ্টির দেখা মেলেনি। সেচপাম্পের মাধ্যমে বাগানে পানি দিতে হয়েছে। সেটাও প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। পানি না পাওয়ায় আম বড় হচ্ছিল না। ফলে সময়মতো আম নামানো নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলেন। এই বৃষ্টি সেই দুশ্চিন্তা দূর করে দিয়েছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ আম গবেষণা কেন্দ্রের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. শফিকুল ইসলাম জানান, ফণীর প্রভাবে শুধু বৃষ্টি হওয়ায় এটি আমের জন্য আশীর্বাদ। দীর্ঘদিন বৃষ্টি না হওয়ায় আমে রোগ-বালাই দেখা দিয়েছিল। বৃষ্টি হওয়ায় এখন আম দ্রুত বড় হবে এবং ঝরে পড়বে না।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্র জানিয়েছে, চলতি বছর চাঁপাইনবাবগঞ্জে প্রায় ৩২ হাজার হেক্টর জমির বাগান থেকে তিন লাখ টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

সর্বশেষ..