সারা বাংলা

ফরিদপুরে পদ্মার পানি বেড়ে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

কেএম রুবেল, ফরিদপুর: ফরিদপুরের গোয়ালন্দ পয়েন্টে প্রতি মিনিটে বাড়ছে পদ্মা নদীর পানি। বর্তমানে বিপদসীমার ৩৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে পদ্মার পানি। এর ফলে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। জেলার চারটি উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নের ৫০ গ্রামের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। সদর, সদরপুর, চরভদ্রাসন ও ভাঙ্গা উপজেলার সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। বন্যার সময় আশ্রয়কেন্দ্র ছাড়াও সংশ্লিষ্ট স্কুল ও মাদ্রাসাগুলো খোলা রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গোয়ালন্দ পয়েন্টের গেজ রিডার ইদ্রিস আলী জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় ওই পয়েন্টে পদ্মা নদীর পানি ২৪ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৬টায় ওই পয়েন্টে পানি বিপদসীমার (আট দশমিক ৬৫) ৩৪ সেন্টিমিটার (আট দশমিক ৯৯) ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়।
গতকাল দুপুরে সদরের নর্থ চ্যানেল ইউনিয়নের কাইমদ্দিন মাতুব্বরের ডাঙ্গী গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে, ওই এলাকার কালুর বাজার থেকে পান্নুর দোকান পর্যন্ত যোগযোগের একমাত্র মাধ্যম সোয়া কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে পাকা সড়ক তলিয়ে গেছে। তার মধ্যে দিয়েই শিক্ষার্থী ও পথচারীরা চলাচল করছে।
কাইমদ্দিন মাতুব্বরের ডাঙ্গী গ্রামের নবম শ্রেণির ছাত্রী আয়শা পারভীন স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে রাস্তায় পানি উঠে যাওয়ায় যাতায়াতের সমস্যার কথা উল্লেখ করে জানায়, যেভাবে পদ্মার পানি বাড়ছে তাতে আজ হয়তো স্কুলে যেতে পারলাম, কাল কী হবে বলতে পারছি না। পানিতে স্রোতও অনেক বেশি। একই এলাকার গৃহবধূ মাজেদা বেগম জানান, দু-তিন দিনের পানি বেড়ে যাওয়ায় ছোট ছেলেমেয়েরা স্কুলে যেতে পারছে না। এখন যাদের নৌকা নেই তারা তো বাজারেরও যেতে পারছে না।
সদরের নর্থ চ্যানেল ইউপি চেয়ারম্যান মোস্তাকুজ্জামান জানান, বন্যার পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় ইউনিয়নের কাইমদ্দিন মাতুব্বরের ডাঙ্গী গ্রামে কালুর বাজার থেকে পান্নুর দোকান পর্যন্ত সোয়া কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে পাকা সড়কে এক কিলোমিটার অংশ তলিয়ে গেছে। এছাড়া মনসুরাবাদ এলাকায় মনসুরাবাদ মোড় থেকে রিয়াজউদ্দিনের বাড়ি পর্যন্ত ইট বিছানো সড়কটির অর্ধকিলোমিটার তলিয়ে গেছে।
মোস্তাকুজ্জমান আরও জানান, হঠাৎ করে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ইউনিয়নের চর নটাখোলা, কবিরপুর, নর্থ চ্যানেল ও ৪২৩৮ দাগ গ্রামের ৩০০ একর আউশ ধান ও ভুট্টো তলিয়ে গেছে। ইউনিয়নের কাইমুদ্দিন মাতুব্বরের ডাঙ্গী, পরান বিশ্বাসের ডাঙ্গী, আয়জদ্দিন মাতুব্বরের ডাঙ্গী ও শুকুর আলীর ডাঙ্গী গ্রামের ৩৫০ পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা সাইদুর রহমান জানান, পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নদী ভাঙনের শিকার হয়েছে সদরপুর উপজেলার ৪৫ এবং ভাঙ্গা উপজেলার ১৪টি পরিবার। তাদের বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ফলে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে মনিটরিং সেল চালু করা হয়েছে।
সিভিল সার্জন এনামুল হক জানান, পরিস্থিতি মোকাবিলা করার জন্য জেলায় ৯২টি মেডিক্যাল টিম গঠন করা হয়েছে। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রোকসানা রহমান জানান, ফরিদপুর এখনও বন্যাকবলিত জেলায় পরিণত হয়নি। তবে পানি বাড়ায় এ জেলার চারটি উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নের ৫০ গ্রামের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। দুর্গতদের সাহায্যের জন্য সদর ও সদরপুরে ১৫ টন করে চরভদ্রাসনে ১০ টন এবং ভাঙ্গায় দুই টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ওই চার উপজেলার সব সরকারি কর্মকর্তার ছুটি বাতিল করা হয়েছে। বন্যার সময় আশ্রয়কেন্দ্র ছাড়াও সংশ্লিষ্ট স্কুল ও মাদ্রাসাগুলো খোলা রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সর্বশেষ..



/* ]]> */