ফল বিক্রি করে লেখাপড়া ও আত্মনির্ভরশীলতা অর্জন

তাপস কুমার: ওরা অপেক্ষায় থাকে ফলের এ মৌসুমের। বছরের এ সময়টি বন্ধ থাকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। ছুটিটুকু আয়েশে কাটিয়ে না দিয়ে এর অনন্য ব্যবহার করে তারা। পবিত্র মাহে রমজান ও গ্রীষ্মের লম্বা ছুটিকে কাজে লাগিয়ে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে আম, জাম, লেবু, বাঙ্গিসহ বিভিন্ন মৌসুমি ফলের ব্যবসায় নামে তারা। বলছি নাটোরের
লালপুর উপজেলার বিভিন্ন স্কুল-কলেজের কয়েকশ শিক্ষার্থীর কথা।
উপজেলার গোপালপুর, লালপুর, ওয়ালিয়া, বিলমাড়িয়া, সালামপুর, কলসনগর, ধুপইলসহ বিভিন্ন বাজারে শিক্ষার্থীরা প্রতি বছরের মতো এবারও মৌসুমি ফল বিক্রি করছে। এখান থেকে যা আয় হয় তা সংসার ও লেখাপড়ার কাজে ব্যয় করে তারা। এ সময় ফল বিক্রির ওপর নির্ভর করে তাদের ঈদুল ফিতরের আনন্দ ও ঈদ পরবর্তী পড়াশোনার খরচের ব্যয়ভার বহন করা।
সালামপুরের ৮ম শ্রেণির শিক্ষার্থী জামিল জানায়, এক মাসের ছুটিতে বাড়তি কিছু রোজগারের জন্য প্রতিদিন সে ও তার এলাকার কয়েকজন শিক্ষার্থী দিনের একটা সময়ে দাঁড়িপাল্লা, চট ও কয়েকটি ক্যারেটে বিভিন্ন মৌসুমি ফল নিয়ে আশেপাশের বাজারে বিক্রি করে আসছে। এতে তাদের বেশ ভালো লাভ হয়, এ বাড়তি আয় দিয়ে ঈদের কেনাকাটাসহ লেখাপড়ার কাজে খরচ করে থাকে তারা।
লালপুর এলাকার এইচএসসি পরীক্ষার্থী সাগর মাহমুদ জানায়, সে ছাড়াও আরও অনেক শিক্ষার্থী প্রতি বছর রমজান ও গ্রীষ্মের ছুটিকে কাজে লাগাতে মৌসুমি ফল ব্যবসায় নেমে পড়ে। এই এক মাসের ব্যবসার যা আয় হয়, তা লেখাপড়ার খরচের পেছনে ব্যয় করা হয়।
পঞ্চম শ্রেণিপড়–য়া শিক্ষার্থী রিহাব আলী জানায়, ‘পুরা জ্যৈষ্ঠ মাস ছুটি থাকায় স্কুলে যেতে হয় না। তাই এ সময় লেখাপড়ার পাশাপাশি গ্রাম থাইকা জাম কিনে আইনা আড়তে বেচি, এখান থেকে যে আয় হয় তা সংসারে ও লেখাপড়ার কাজে খরচ করি।’
কলেজপড়–য়া একজন শিক্ষার্থী চয়ন জানান, তারা খুদে বিক্রেতাদের থেকে মৌসুমি ফল কিনে পার্শ্ববর্তী ঈশ্বরদীর মুলাডুলি বাজারে বড় পাইকারদের কাছে বিক্রি করে। এগুলো ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করেন পাইকাররা।
জেলা শিক্ষা অফিসার রমজান আলী আকন্দ পরিশ্রমী এসব শিক্ষার্থীদের সাধুবাদ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা সময় নষ্ট না করে এখন থেকেই যে আয়বর্ধক কর্মকাণ্ডে নিজেদের সম্পৃক্ত করেছে, সেটি অন্যদের জন্য দৃষ্টান্ত। এমন চর্চা অব্যাহত থাকলে শিক্ষার পাশাপাশি তারা আত্মনির্ভরশীলতায় বলীয়ান হবে।