বিশ্ব প্রযুক্তি

ফাইভজি অনুমতি পেতে ‘নো-স্পাই’ চুক্তি করতে রাজি হুয়াওয়ে

শেয়ার বিজ ডেস্ক: চীনের টেলিকম কোম্পানি হুয়াওয়ের ফাইভজি নেটওয়ার্ক উন্নয়নের অনুমতি দেওয়া নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, ব্রিটেনসহ গোটা ইউরোপে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র বলছে, প্রতিষ্ঠানটিকে এ অনুমতি দিলে চীন সরকার সে সুযোগ কাজে লাগিয়ে দেশগুলোতে নজরদারি চালাবে। তবে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে হুয়াওয়ে। প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান লিয়াং হু বলেছেন, প্রয়োজনে তারা ব্রিটেনসহ বিভিন্ন দেশের সরকারের সঙ্গে ‘নো-স্পাই’ চুক্তি করতে রাজি আছেন। খবর: বিবিসি।
হুয়াওয়ের যন্ত্রাংশে আগেই নিষেধাজ্ঞা দিয়ে রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড। ব্রিটেনকেও মোবাইলের সুপারফাস্ট নেটওয়ার্ক ফাইভজি নির্মাণে হুয়াওয়ের উপকরণে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। যুক্তরাষ্ট্র ও নিজ মন্ত্রিসভার জ্যেষ্ঠ সদস্যের নিরপত্তা হুমকির সতর্কতা সত্ত্বেও প্রতিষ্ঠানটির যন্ত্রাংশ স্বল্পপরিসরে প্রবেশাধিকার দিতে সম্প্রতি ব্রিটেনের ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল এ অনুমোদন দিতে সম্মত হয়। কাউন্সিলে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে। এতে শুধু এন্টেনার মতো ‘ননকোর’ উপকরণের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাজিদ জাভিদ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেরেমি হান্ট, প্রতিরক্ষামন্ত্রী ডেভিট উইলিয়ামসন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমন্ত্রী লিয়াম ফক্স ও আন্তর্জাতিক উন্নয়নমন্ত্রী পেনি মরডন্ট প্রতিষ্ঠানটির প্রবেশের বিষয়ে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেও মে অনুমোদন দেন।
এরপর ফাইভজি নেটওয়ার্ক উন্নয়নে চীনের টেলিকম কোম্পানি হুয়াওয়ের ওপর পক্ষপাতমূলক আচরণ না করার জন্য ব্রিটেনের প্রতি আহ্বান জানায় চীন। লন্ডনে চীনের রাষ্ট্রদূত লিউ শিয়াওমিং বলেন, জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় ব্রিটেনের স্বাধীনভাবে কাজ করা উচিত। অন্য দেশের চাপে হুয়াওয়ের প্রতি বৈষম্য করা ঠিক হবে না। স্বল্পপরিসরে (ননকোর উপকরণ) যন্ত্রাংশ প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার প্রতিক্রিয়ায় লিউ এ কথা বলেন।
বিশ্বে মোবাইল উপকরণ উৎপাদকারী হিসেবে বৃহত্তম হুয়াওয়ে। কিন্তু সম্প্রতি কোম্পানিটির বিরুদ্ধে চীন সরকারের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ এনে মিত্রদের তা বর্জন করার আহ্বান জানায় যুক্তরাষ্ট্র। তবে কোনোরকম অন্যায় কার্যক্রমের অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছে হুয়াওয়ে। প্রতিষ্ঠানটিকে দেশটির রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা সংস্থা অর্থ জোগায় বলে দাবি করেছে মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ। বেশ কিছুদিন ধরেই পশ্চিমা বিশ্বে অস্বস্তিতে রয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এরই মধ্যে সিআইএ’র এমন দাবি প্রতিষ্ঠানটিকে আরও চাপে ফেলবে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। সিআইএ জানিয়েছে, হুয়াওয়েকে অর্থের জোগান দেয় চীনের ন্যাশনাল সিকিউরিটি কমিশন, দ্য পিপলস লিবারেশন আর্মি ও চীনা গোয়েন্দা নেটওয়ার্কের তৃতীয় একটি শাখা।

সর্বশেষ..