ফু-ওয়াং ফুডের পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন চেয়ে রিট

দুই শতাংশ শেয়ার না থাকার মাশুল

নিজস্ব প্রতিবেদক: কোম্পানির পরিচালকদের নির্দিষ্ট পরিমাণ শেয়ার না থাকায় পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ফু-ওয়াং ফুডের পর্ষদ পুনর্গঠন চেয়ে উচ্চ আদালতে রিট করেছেন একজন বিনিয়োগকারী। রিটে কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন করে সেখানে প্রকৃত বিনিয়োগকারীদের অন্তর্ভুক্তির আবেদন জানানো হয়। এ রিটের পরিপ্রেক্ষিতে ‘ফু-ওয়াং ফুডের পরিচালনা পর্ষদ কেন পুনর্গঠন হবে না’ তা জানতে চেয়ে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) বরাবর রুল জারি করেছেন আদালত।

উল্লেখ্য, নিয়ম অনুযায়ী পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানের পরিচালকদের কমপক্ষে দুই শতাংশ শেয়ার ধারণ করার কথা রয়েছে। কিন্তু ফু-ওয়াং ফুডের পরিচালনা পর্ষদের চার সদস্যের মধ্যে তিনজনেরই এ পরিমাণ শেয়ার নেই। এ পরিপ্রেক্ষিতে যেসব পরিচালকের দুই শতাংশের বেশি শেয়ার নেই, তাদের পরিবর্তে ওই পরিমাণ শেয়ার রয়েছে এমন ব্যক্তিদের দ্বারা পরিচালনা পর্ষদ গঠনে উচ্চ আদালতে রিট করেন জুয়েল শিকদার নামক ফু-ওয়াং ফুডের একজন বিনিয়োগকারী। এ আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত বুধবার  হাইকোর্টের বিচারপতি সালমা মাসুদ চৌধুরী ও বিচারপতি একেএম জহিরুল হকের দ্বৈত বেঞ্চ এক নির্দেশনা দেন। নির্দেশনায় জানতে চাওয়া হয়, কমিশনের আইন অনুযায়ী দুই শতাংশ শেয়ার ধারণে ব্যর্থরা কেন পরিচালক পদে থাকবেন? এখানে বিএসইসি, ডিএসই, সিএসই, জয়েন্ট স্টক এক্সচেঞ্জ, বিনিয়োগকারীর পরিষদ এবং ফু-ওয়াং ফুড কোম্পানি পরিচালনা পর্ষদের সবার কাছে এর ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।

জানতে চাইলে ফু-ওয়াং ফুড়ের কোম্পানি পরিচালক হালিম ঠাকুর শেয়ার বিজকে বলেন, ‘আমরা এখনও আদালতের কোনো কাগজপত্র হাতে পাইনি। সেজন্য আমাদের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা বলতে পারছি না। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পেলেই আমরা সিদ্ধান্তের কথা জানাতে পারব।’

অন্যদিকে বিষয়টি নিয়ে কথা বললে রিট আবেদনকারী জুয়েল শিকদার শেয়ার বিজকে বলেন, ‘এ প্রতিষ্ঠানের পরিচালকদের কাছে ন্যূনতম দুই শতাংশ শেয়ার না থাকায় তারা বছরের পর বছর শেয়ারহোল্ডারদের নামমাত্র লভ্যাংশ প্রদান করে আসছেন। আর এটা তারা করছেন মূলত বিনিয়োগকারীদের ঠকানোর জন্য। তাদের শেয়ার নেই বলে প্রতিষ্ঠানের প্রতি তাদের কোনো মমতা নেই। আর দুই শতাংশ শেয়ার না থাকায় নিয়ম অনুযায়ী পরিচালক থাকতে পারেন না। তাই তাদের সরিয়ে দিয়ে যাদের নির্দিষ্ট পরিমাণ শেয়ার রয়েছে, তাদের পরিচালনা পর্ষদে আসা উচিত। মূলত এ কারণেই রিট আবেদন করি।’

ডিএসইর তথ্যমতে, ফু-ওয়াং ফুড ২০০০ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। কোম্পানির উদ্যোক্তা পরিচালকদের কাছে চার দশমিক ৭৬ শতাংশ শেয়ার রয়েছে। ফু-ওয়াং ফুডের পরিচালনা পর্ষদে রয়েছেন সংসদ সদস্য এএম নাইমুর রহমান, আরিফ আহমেদ চৌধুরী, কামাল কান্তি মণ্ডল, বিপ্লব চক্রবর্তী, খাজা তোফাজ্জল হোসেন।

এদের মধ্যে চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করা বাংলাদেশ দলের সাবেক ক্রিকেটার ও সরকারদলীয় সংসদ সদস্য এএম নাইমুর রহমান, যিনি স্বাধীন পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। তার হাতে কোনো শেয়ার নেই। এদিকে ফু-ওয়াং ফুডের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্বে থাকা আরিফ আহমেদ চৌধুরীর হাতে রয়েছে ৪.৪৯২ শতাংশ শেয়ার, কামাল ক্রান্তি মণ্ডলের কাছে রয়েছে ০.০০৫ শতাংশ শেয়ার, বিপ্লব চক্রবর্তীর কাছে রয়েছে ০.০৩৪ শতাংশ শেয়ার, তোফাজ্জল হোসেনের কাছে কোনো শেয়ারই নেই। অর্থাৎ সিকিউরিটিজ আইন অনুযায়ী, কোম্পানিটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরিফ আহমেদ চৌধুরী ছাড়া অন্য সবারই পরিচালনা পর্ষদে থাকার যোগ্যতা নেই।