প্রথম পাতা

ফেনীতে মেটলাইফ এজেন্টের জালিয়াতি

শাহাদাত হোসেন তৌহিদ, ফেনী: ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার এক প্রবাসীর বিমা পলিসি নিয়ে জালিয়াতি করেছে মেটলাইফের স্থানীয় এজেন্ট। ওই প্রবাসীর কাছ থেকে বিমার কিস্তি বাবদ নেওয়া সব অর্থ তার পলিসির বিপরীতে খোলা হিসাবে জমা না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ওই এজেন্টের বিরুদ্ধে। আবার বিমা পলিসির আবেদন করলেও গ্রাহককে দেওয়া হয়েছে ডিপিএস। বিষয়টি নিয়ে মেটলাইফ কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করেছেন ওই প্রবাসী গ্রাহক। অভিযোগের সত্যতা পেয়ে মুচলেকা দিচ্ছে মেটলাইফ। এরই মধ্যে ওই গ্রাহকের কাছ থেকে নেওয়া সব অর্থ ফেরত দেওয়ার বিষয়ে তাকে চিঠি দিয়েছে মেটলাইফ। কিন্তু যে এজেন্ট এ জালিয়াতি করেছে, তার বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে সে বিষয়ে কিছু উল্লেখ নেই ওই চিঠিতে।
ফেনীর সোনাগাজীর দক্ষিণ-পূর্ব চর চান্দিয়া এলাকার মুহাম্মদ জসিম উদ্দীন নামের ওই প্রবাসী গ্রাহক তার অভিযোগে উল্লেখ করেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে ওমানে থাকেন। ২০১৫ সালের জুলাইয়ে দেশে ফরিদ উদ্দীন শাহীন এজেন্সির ম্যানেজার ফরিদ উদ্দীন শাহীনের মাধ্যমে চার লাখ টাকার জীবন বিমা পলিসি গ্রহণ করেন। যার বার্ষিক কিস্তি ৪৯ হাজার টাকা। ২০১৫ সালের কিস্তির জন্য এই পরিমাণ অর্থের একটি চেক দিয়ে তিনি ফের বিদেশ চলে যান। এভাবে পর্যায়ক্রমে ২০১৬ ও ২০১৭ সালেও বিমার কিস্তিবাবদ ওই এজেন্সির মাধ্যমে সমপরিমাণ অর্থ পরিশোধ করেন। অথচ এজেন্সি জমা দিয়েছে দুই কিস্তি। কিস্তি দিয়ে এলেও তাকে বিমা পলিসির দলিল হস্তান্তর করেনি এজেন্সি। দলিল চাইলে তালবাহানা করতে থাকে বলে জানান ওই গ্রাহক।
পরে গত বছরের ২০ সেপ্টেম্বর তিনি দেশে এসে এজেন্সির কাছে পলিসির দলিল চাইলে তারা ই-মেইলে সংযোজিত কিছু কাগজ দেয়। যাতে দেখা যায়, বিমা পলিসির সময় পূরণ করা ফরম বাদ দিয়ে গ্রাহকের স্বাক্ষর জাল করে তার নামে মাসিক ৫০ হাজার টাকা কিস্তির ১২ বছর মেয়াদি ডিপিএস করে রাখা হয়েছে।
অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, মাসে তার পুরো রোজগারও ৫০ হাজার টাকা নয়। সেখানে মাসে ৫০ হাজার টাকার ডিপিএস চালানো অবাস্তব বিষয়। এ ধরনের উদ্ভট বিনিয়োগ প্রস্তাব বাতিল করে বার্ষিক ৪৯ হাজার টাকার বিমা পলিসি পুনরায় চালু করার জন্য অনুরোধ জানান জসিম উদ্দীন।
এদিকে গ্রাহকের এ অভিযোগ তদন্ত করে মেটলাইফ কর্তৃপক্ষ। এতে এজেন্সির জালিয়াতির প্রমাণ পেয়েছে বহুজাতিক এ বিমা কোম্পানিটি। এমন পরিস্থিতিতে জসিম উদ্দীনের কাছ থেকে নেওয়া সব অর্থ ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে মেটলাইফ। যদিও জসিম উদ্দীন বিমা চালু রাখতে চান। কিন্তু কোম্পানির তার অর্থ ফেরত দিয়ে দিতে চায়। সম্প্রতি এ বিষয়ে জসিম উদ্দীনকে চিঠি দেয় মেটলাইফ কর্তৃপক্ষ।
প্রতিষ্ঠানটির অভিযোগ তত্ত্বাবধানকারী কর্মকর্তা ফেরদৌস রহমান স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে জানানো হয়, জসিম উদ্দীনের অভিযোগের সত্যতা মিলেছে। তাই তারা সব অর্থ ফেরত দেবে। কিন্তু যে এজেন্সি তার নামে জালিয়াতি করল তাদের বিষয়ে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সে বিষয়ে কিছু উল্লেখ করা হয়নি।
এ বিষয়ে জানতে ফেরদৌস রহমানের ব্যক্তিগত সেলফোন নম্বরে বেশ কয়েকবার ফোন করা হলেও তিনি ধরেননি।
জসিম উদ্দীন জানান, বিষয়গুলো নিয়ে অভিযোগ করার পর থেকে প্রায় দুই মাস অনেক তথ্য আদান-প্রদান হয় ই-মেইলের মাধ্যমে। গত ৬ মার্চ মেটলাইফের ঢাকা অফিস থেকে একটা ফোন আসে। তখন দেখি অভিযোগ তত্ত্বাবধানকারী কর্মকর্তাও শাহীনের সুরেই কথা বলছে। তাদের অনুরোধ করলাম অফিসিয়ালি মেইলের মাধ্যমে আমার অভিযোগ নিষ্পত্তি করে দিতে, যা বলা তাই হলো। ৭ মার্চ ই-মেইলের মাধ্যমে জানিয়ে দিল আপনার জন্য কিছুই করতে পারলাম না। পরে এপ্রিলের শুরুর দিকে চিঠি দিয়ে জালিয়াতির বিষয়টি স্বীকার করে মেটলাইফ।
ট্যাগ »

সর্বশেষ..



/* ]]> */