ফেনীর ছয় লেন ফ্লাইওভার উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী  

 

শেয়ার বিজ প্রতিনিধি, ফেনী: ‘বিশ্ব এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। মানুষের যাত্রাপথ সহজ করতে সরকার নানা পরিকল্পনা নিয়েছে। ফেনীর মহিপালের এ ফ্লাইওভারটিও এর একটি। মহিপালে যানজট ছিল বিরাট সমস্যা। যানজট নিরসনে এ ফ্লাইওভার করা হয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল বৃহস্পতিবার গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ফেনীর মহিপালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ছয় লেন ফ্লাইওভার উদ্বোধন করতে গিয়ে এ কথা বলেন। উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে গণভবনে উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সেনাপ্রধান আবু বেলাল মোহাম্মদ শফিউল হক, সড়ক পরিবহন ও মন্ত্রণালয়ের সচিব নজরুল ইসলাম প্রমুখ।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশে যাত্রী বাড়ছে, যানবাহন বাড়ছে, গাড়িও বাড়ছে। ভবিষ্যতেও বাড়বে। এটা মাথায় রেখেই আমরা এ ফ্লাইওভার নির্মাণ করেছি। এ ফ্লাইওভার ঘিরে মানুষের দ্রুত যাতায়াত বৃদ্ধি পাবে। ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে। এলাকার মানুষের অর্থনৈতিক উন্নয়ন সাধিত হবে। মানুষের সুদিন ফিরবে। এছাড়া দুর্ঘটনাও কমে যাবে।’

এ উপলক্ষে ফেনী জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে সভার আয়োজন করা হয়। জেলা প্রশাসক মনোজ কুমার রায়ের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন নিজাম উদ্দিন হাজারী এমপি। বক্তৃতা করেন ফেনী সদর উপজেলা সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি জাহানারা বেগম সুরমা, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার আবদুল মান্নান, পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মনিরুজ্জামান, ফেনীর পুলিশ সুপার এসএম জাহাঙ্গীর আলম সরকার, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আজিজ আহম্মদ চৌধুরী প্রমুখ।

উদ্বোধনের পরপরই ফ্লাইওভারটি যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়। এদিকে স্বপ্নের এ ফ্লাইওভারটির উদ্বোধনকে ঘিরে সকাল থেকে হাজার হাজার মানুষ উড়ালসেতুর দক্ষিণ-পূর্ব প্রান্তে জড়ো হতে থাকে। দুপুর সাড়ে ১২টায় উদ্বোধন ঘোষণার পরপরই গাড়ি ও মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা নিয়ে আনন্দে-উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠে এলাকাবাসী।

এর আগে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ফেনীতে সাংবাদিকদের জানান, এ ফ্লাইওভারের নির্মাণকাজ নির্ধারিত সময়ের ছয় মাস আগেই সম্পন্ন হয়েছে। মহিপাল ফ্লাইওভার ছয় লেনের হলেও সেতুর নিচের দুই পাশে আরও চার সার্ভিস লেন চালু থাকবে। এটি চালু হলে যানজট নিরসন হবে, ঢাকা-চট্টগ্রাম জাতীয় মহাসড়কে চলাচলকারী যাত্রীদের ভোগান্তি কমবে এবং এক থেকে দেড় ঘণ্টা সময় বাঁচবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, ২০১৫ সালের ১ এপ্রিল প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। এর দৈর্ঘ্য ৬৬০ মিটার ও প্রস্থ ২৪ দশমিক ৬২ মিটার। এ প্রকল্পে মোট ব্যয় হয়েছে ১৮১ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন বিভাগ ও মেসার্স আবদুল মোনেম লিমিটেড প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করে।