ফেবিয়ান গ্রুপ

দেশের স্বনামধন্য শিল্পপরিবার ফেবিয়ান গ্রুপ। ১৯৮৯ সালে পথচলা শুরু এই গ্রুপটির। তৈরি পোশাকশিল্পের নানা ধরনের পণ্য তৈরি ও সরবরাহের মধ্য দিয়ে এর যাত্রা শুরু হয়।
সমাজসেবক ও স্বপ্নদ্রষ্টা মো. তাজুল ইসলাম এমপি প্রতিষ্ঠা করেছেন ফেবিয়ান গ্রুপ। এই গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিষদের নেতৃত্বে রয়েছেন তিনি। তার পরিশ্রম, অধ্যবসায় ও নেতৃত্বের ফসল গ্রুপটি। তিনি মনে করেন, নিজে ভেবে কাজ করলে প্রতিষ্ঠানের ব্যাপক প্রসার ঘটে, উন্নতি হয়। তিনি চান দেশে অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠুক। এতে দেশ ও দশের লাভ হয়। কেননা শিল্পের প্রসার ঘটার পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হয় ও দেশের দারিদ্র্যবিমোচন হয়, যার প্রভাব পড়ে জাতীয় অর্থনীতিতে। এর মধ্য দিয়ে উন্নতির শিখরে পৌঁছায় দেশ। প্রসঙ্গত, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় কমিটির সভাপতি তিনি।
১৯৯৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে
মো. তাজুল ইসলাম লাকসাম-মনোহরগঞ্জ আসন থেকে এমপি নির্বাচিত হন। ২০০৮ সালে এই আসনে দ্বিতীয়বারের মতো নির্বাচিত হন তিনি। লাকসাম-মনোহরগঞ্জের উন্নয়নে তিনি নিবেদিতপ্রাণ। নির্বাচনী এলাকার সমস্যা সমাধানে তিনি আন্তরিক। তাকে এখানকার উন্নয়নের কান্ডারি বলা যায়। তার সমাজসেবা, সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড, সভা-সমাবেশে বক্তৃতা প্রভৃতি তাকে খ্যাতিমান করে তুলেছে।
গ্রুপটির তথ্য অনুযায়ী, দেশের প্রথম জিপার প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান ফেবিয়ান গ্রুপ। অন্যান্য পণ্যের মধ্যে রয়েছে সুতা, বোতাম ও লেবেল। গ্রুপটি পলিয়েস্টার ও এমব্রয়ডারি এই দুই ধরনের সুতা তৈরি করে থাকে। এই সুতা শুধু কাপড়ের প্রয়োজনেই নয়, ফার্নিশিংসহ গাড়ি সাজানোর সামগ্রী তৈরিতেও ব্যবহার করা হয়। মেটাল, স্নাপ প্রভৃতি ধরনের বোতাম তৈরি করে থাকে গ্রুপটি।
গুণগতমানে সেরা ফেবিয়ান গ্রুপের সব পণ্য। কাঁচামাল থেকে উৎপাদন ও সরবরাহÑসব ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বজায় রাখা হয় এখানে। শুধু তা-ই নয়, পরিবেশবান্ধব বলে গ্রুপটির সুনাম রয়েছে। নিজস্ব গবেষণাগার রয়েছে তাদের। পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর এমন সব ধরনের পদ্ধতি এড়িয়ে চলা হয় এখানে। বিষাক্ত রাসায়নিক দ্রব্যের ব্যবহার করা হয় না। পানির অপচয় রোধের জন্য এফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্লান্ট (ইটিপি) স্থাপন করা হয়েছে গ্রুপটির সব কারখানায়। কারখানাগুলোর পয়োনিষ্কাশনব্যবস্থা বেশ উন্নত।
সুদক্ষ ও অভিজ্ঞ কর্মীদের সমন্বয়ে গঠন করা হয়েছে গ্রুপটির জনবল। কর্মীদের জন্য নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা হয়েছে। তাদের দক্ষ করে তুলতে নানা সময়ে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়। কারখানায়
ব্যবহার করা যন্ত্রপাতিতে কোনো ত্রুটি রয়েছে কি না, তা নিয়মিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। এর রক্ষণাবেক্ষণের জন্য দক্ষ জনবল রয়েছে। ঝুঁকি কিংবা দুর্ঘটনা এড়িয়ে চলতে তারা বেশ যতœবান। আলোচনার মাধ্যমে সব সেকশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা নিয়মিত অধীনস্থ কর্মীদের সুবিধা-অসুবিধা জানার চেষ্টা করেন। যথাসময়ে কর্মীদের বেতন-ভাতাদি বুঝিয়ে দেওয়া হয়। বছরের বিভিন্ন সময়ে বোনাস ও ভাতা দেওয়া হয়। কাজের বেলায় কোনো বৈষম্য নেই এই গ্রুপের কোনো প্রতিষ্ঠানেÑসবার আগে কাজকেই প্রাধান্য দেওয়া হয়। বয়স, ধর্ম, শারীরিক প্রতিবন্ধকতা, রাজনৈতিক মতপার্থক্য প্রভৃতিকে গুরুত্ব না দিয়ে তাদের কাজকেই বিবেচনা করা হয় এখানে। নারী কর্মীদের হয়রানির ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স নীতি মেনে চলে ফেবিয়ান গ্রুপ। তাছাড়া শিশুশ্রম নিষিদ্ধ এই গ্রুপে। ১৮ বছরের কম বয়সীদের নিয়োগ দেওয়া হয় না। বাধ্যতামূলক শ্রম এখানে বরদাশত করা হয় না। জোর করে কোনো কর্মীকে ওভারটাইম কিংবা সাপ্তাহিক ছুটির দিনে কাজে বাধ্য করা হয় না। এখানে আরামপ্রদ ও নিরাপদ কর্মক্ষেত্র নিশ্চিত করা হয়েছে। তাই কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা এই গ্রুপের কর্মপরিবেশ নিয়ে বেশ সন্তুষ্ট।
উত্তর আমেরিকার যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের কয়েকটি দেশে রফতানি হয় ফেবিয়ান গ্রুপের উৎপাদিত পণ্য। ক্রেতাদের মধ্যে রয়েছে সিঅ্যান্ডএ, ক্যামিউ, ক্যারিফোর, ডিফ্যাক্টো, ইডব্লিউএম, গুল্ডেনফেনিগ, এইচঅ্যান্ডএম, আইকিয়া, জিনস ফ্রিজট, কিয়াবি, কেমার্ট, কোটন, লা হলে, ম্যাটালন, নেক্সট, এনকেডি, ওকাইডি, অর্কেস্ট্রা, রেগাটা, সিয়ার্স, সোলস, টম টেইলর, ভোগেল, নটিকা, স্প্রিংফিল্ড, লিভাইস, মার্কস অ্যান্ড স্পেনসার, ডিজেল, এনকেডি প্রভৃতি।
প্রতিষ্ঠাতার কর্মদক্ষতা ও দূরদর্শিতার কারণে স্বল্প সময়ের মধ্যে শীর্ষস্থানীয় গ্রুপে পরিণত হয়েছে ফেবিয়ান গ্রুপ। বাজার মনিটরিং ও গবেষণার কারণে অন্যদের তুলনায় এগিয়ে আছে তারা, একই সঙ্গে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও দক্ষ জনশক্তি ব্যবহার করে উৎপাদিত পণ্যের গুণগত মান ধরে রাখছে। ভূমিকা রাখছে দেশ ও অর্থনীতির কল্যাণে।

রতন কুমার দাস