সারা বাংলা

ফেব্রুয়ারিতে বাড়ছে চট্টগ্রাম ওয়াসার পানির দাম দাম না বাড়ানোর দাবি ক্যাবের

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম ওয়াসার ৫০তম বোর্ড সভায় আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে আবাসিক ও অনাবাসিক খাতে পানির দাম গ্রাহকপ্রতি ইউনিট ৯ দশমিক ৪৫ থেকে ৯ দশমিক ৯২ পয়সায় বাড়ানো হচ্ছে। দাম বাড়ানোর প্রতিবাদ জানিয়ে অবিলম্বে এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে দেশের ক্রেতা-ভোক্তাদের স্বার্থ সংরক্ষণকারী জাতীয় প্রতিষ্ঠান কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)। পানির দাম বৃদ্ধির আগে পানির প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা ও গ্রাহকের মতামত নিতে গণশুনানির দাবি জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে ক্যাব।
বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারীরা হলেন: ক্যাব কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এসএম নাজের হোসাইন, ক্যাব চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাধারণ সম্পাদক কাজী ইকবাল বাহার ছাবেরী, ক্যাব মহানগর সভাপতি জেসসিন সুলতানা পারু, সাধারণ সম্পাদক অজয় মিত্র শংকু, যুগ্ম সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম, ক্যাব চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা সভাপতি আবদুল মান্নান প্রমুখ।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, চট্টগ্রাম ওয়াসার ৫০তম বোর্ড সভায় আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে আবাসিক ও অনাবাসিক খাতে পানির মূল্য গ্রাহকপ্রতি ইউনিট ৯ দশমিক ৪৫ থেকে ৯ দশমিক ৯২ পয়সায় (পাঁচ শতাংশ) বাড়ানো হয়েছে। কিন্তু ওয়াসার পানির দাম বৃদ্ধির আগে পানির প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা, সিস্টেম লসের নামে পানি চুরি ও অপচয় বন্ধ করা, ভৌতিক বিল ও অতিরিক্ত বিলের নামে গ্রাহক হয়রানি সাধারণ ভোক্তাদের জন্য অসহনীয় এবং অসন্তোষের কারণ হতে পারে। অন্যদিকে দাম বাড়ানোর আগে গ্রাহকসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ও বিশেষজ্ঞদের মতামত নেওয়ার জন্য গণশুনানির আয়োজন করা হলেও ওয়াসা গ্রাহকের কোনো মতামত না নিয়ে একতরফাভাবে দাম বাড়ানোর প্রক্রিয়া অন্যায্য ও ভোক্তা স্বার্থবিরোধী এবং অগ্রহণযোগ্য। দাম বাড়ানোর প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও সহজতর হওয়া উচিত। বোর্ড সভা ও মন্ত্রণালয়ের আদেশে দাম না বাড়িয়ে গ্রাহক ও এ খাতে সব স্টেকহোল্ডারের মতামত নিয়ে এবং যাবতীয় বিষয়াদি বিবেচনায় এনে দাম নির্ধারণ করা উচিত। একই সঙ্গে গ্রাহকের বিলগুলো মাঠ পর্যায়ে সুষ্ঠু তদারকির আওতায় এনে মিটার ও বিলের সঙ্গে সমন্বয়ের জন্য নিয়মিত মনিটরিং করা দরকার।
ওয়াসার পানির দাম বাড়ানোর খবরে উদ্বেগ প্রকাশ করে বিবৃতিতে ক্যাব উল্লেখ করে, ওয়াসার সরবরহ করা পানির ৮৮ শতাংশ গ্রাহক হচ্ছেন আবাসিক। আর ওয়াসা দিনে চাহিদার মাত্র ৪২ শতাংশ পানি সরবরাহ করতে পারে। যার কারণে নগরীর অধিকাংশ এলাকায় পানির জন্য এখনও হাহাকার অবস্থা। আর চট্টগ্রাম ওয়াসা পানির প্রাপ্যতা নিশ্চিত না করে নতুন নতুন প্রকল্পের কথা বলে নগরবাসীকে বারবার বিভ্রান্ত করছে এবং দাম বাড়ানোর কথা বলে প্রকারান্তরে ওয়াসার অভ্যন্তরে পানি চুরি, অপচয় ও মিটার রিডারদের কারসাজিকে উসকে দিচ্ছে। নগরীর অধিকাংশ এলাকায় যেখানে পানির জন্য হাহাকার চলছে, সেখানে নগরবাসীর পানির সমস্যা সমাধান না করে নতুন করে পানির দাম বাড়ানোর প্রস্তাব কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
নেতারা আরও বলেন, ক্যাব দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছিল পানির অপচয় রোধ, সরবরাহ লাইনে ত্রুটি, লিকেজ, পানি চুরি বন্ধ, বিলিং ব্যবস্থার ত্রুটি দূর না করে, সিস্টেম লস বন্ধ না করে উৎপাদন খরচ বাড়ার অজুহাতে ভোক্তাদের ওপর পানির দাম বাড়ানোর প্রস্তাব কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। নতুন করে পানির দাম বাড়ায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির মাত্রাকে আরও বাড়িয়ে দেবে। বিষয়টি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
অন্যদিকে গ্যাস কোম্পানির মিটার রিডাররা যেভাবে কোটি কোটি টাকার মালিক, সেরকম ওয়াসার মিটার রিডাররাও কোটি কোটি টাকার মালিক। তারা কিছু গ্রাহকের সঙ্গে চুক্তিতে বিল করছেন, যার দায়ভার সিস্টেম লসের নামে সবাইকে বহন করতে হচ্ছে। তাই গ্রাহক পর্যায়ে বিলগুলো ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দিয়ে নিয়মিতভাবে মিটার ও বিলের মধ্যে সমন্বয় এবং তফাৎ পরীক্ষা ও মাঠ পর্যায়ে বিলিং পদ্ধতি তদারকির আওতায় আনা দরকার।
নেতারা আরও বলেন, ক্যাব পানির অপচয় রোধ, সেবা সার্ভিসের অব্যবস্থাপনা রোধে গ্রাহকের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টি, গ্রাহকসেবার মান ও অনিয়ম রোধে ত্রিপক্ষীয় গণশুনানির আয়োজন করা, গ্রাহক হয়রানি রোধে তাৎক্ষণিক প্রতিকারের জন্য ডিজিটাল হেলপ লাইন চালু ও হেলপ ডেস্ক আধুনিকায়ন, দাম বাড়ানোসহ সেবার মান উন্নয়নে নীতিমালায় ভোক্তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার দাবি জানালেও মন্ত্রণালয় ও ওয়াসা কর্তৃপক্ষ এ পর্যন্ত কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করেনি। যা বর্তমান বিশ্বে সুশাসন ও ন্যায্য ব্যবসার পরিপন্থি এবং একটি আদর্শ সেবা সংস্থার মডেলেরও পরিপন্থি।

সর্বশেষ..