ফেব্রুয়ারিতে হাজার কোটি টাকা কম রাজস্ব আদায়

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজ

সাইদ সবুজ, চট্টগ্রাম: গত কয়েক মাসের ধারাবাহিকতায় বিদায়ী মাসেও রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজ। ফেব্রুয়ারি মাসে চট্টগ্রাম কাস্টমসের রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল চার হাজার ৩৪০ কোটি টাকা। এর বিপরীতে আহরণ হয় তিন হাজার ৩৫২ কোটি টাকা, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৯৮৮ কোটি টাকা বা ২২ দশমিক ৭৬ শতাংশ কম। আর ফেব্রুয়ারিতে রাজস্ব আহরণ প্রবৃদ্ধির হার দাঁড়ায় পাঁচ দশমিক ৪৭ শতাংশ।
চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজের তথ্যমতে, দেশে রাজস্ব আহরণের সবচেয়ে বড় প্রতিষ্ঠানটি চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল ৩৭ হাজার ৭৬ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। এর বিপরীতে সংস্থাটি আট মাসে রাজস্ব আদায় করে ২৮ হাজার ৮৭৫ কোটি ৬৪ লাখ টাকা, যা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা থেকে আট হাজার ২০০ কোটি ৯৪ লাখ টাকা বা ২২ দশমিক ১২ শতাংশ কম। তবে আট মাস শেষে গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে রাজস্ব আদায়ে প্রবৃদ্ধির হার দাঁড়ায় ছয় দশমিক ৩৪ শতাংশ।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত অর্থবছরের আট মাসে (জুলাই-ফেব্রুয়ারি) রাজস্ব আদায়ের পারফরম্যান্স চলতি বছরের তুলনায় ভালো ছিল। ওই অর্থবছরে আট মাসে প্রবৃদ্ধির হার ছিল ১৫ দশমিক ১৪ শতাংশ। সে সময় রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ ছিল ২৭ হাজার ১৫৩ কোটি ৯২ লাখ টাকা।
এদিকে চলতি অর্থবছরের ফেব্রুয়ারিতে রাজস্ব আহরণের পরিমাণ ছিল চার হাজার ১৬৪ কোটি টাকা, যা গত মাসের তুলনায় ৮১২ কোটি টাকা বেশি। যদিও জানুয়ারি মাসেও লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছিল রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানটি। সে মাসে লক্ষ্যমাত্রা থেকে ১৬ দশমিক ৯০ শতাংশ পিছিয়ে ছিল।
এ বিষয়ে কাস্টমস কমিশনার কাজী মোস্তাফিজুর রহমান শেয়ার বিজকে বলেন, রাজস্ব আহরণে ছয়-সাত শতাংশ প্রবৃদ্ধি থাকলে স্বাভাবিক বলা যেতে পারে। তবে আমরা আরও উন্নতি করতে চাই। নতুন দায়িত্ব নেওয়ার পর সবগুলো ডিপার্টমেন্টকে ঢেলে সাজিয়ে রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধির পরিকল্পনা নিয়েছি। আশা করি অর্থবছর শেষে কাক্সিক্ষত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সমর্থ হবে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজ।
এদিকে গত আট মাসের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের অন্যান্য মাসের তুলনায় নভেম্বর ও ডিসেম্বরে সবচেয়ে কম রাজস্ব আদায় হয়। নভেম্বরে আদায়ে এক দশমিক ৮৪ শতাংশ ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধি হয়। আর ডিসেম্বরে আরও শোচনীয় অবস্থা ছিল। সে মাসে প্রবৃদ্ধির হার ছিল তিন দশমিক ৭৪ শতাংশ ঋণাত্মক, যা নিকট-অতীতে দেখা যায়নি।
চট্টগ্রাম কাস্টমস বলছে, জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নভেম্বর-ডিসেম্বরে দেশে আমদানি-রফতানির পরিমাণ অনেক কমে যায়। ফলে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় রাজস্ব আদায়ও কম হয়েছে। তবে অন্যান্য মাসে তুলনামূলক ভালো রাজস্ব আদায় করে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। এ আট মাসের মধ্যে সেপ্টেম্বরে সবচেয়ে বেশি রাজস্ব আহরিত হয়েছিল। সে মাসে প্রবৃদ্ধির হার ছিল ২৮ দশমিক ২৫ শতাংশ।