স্পোর্টস

‘ফেভারিট’ অস্ট্রেলিয়ার সামনে আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশ

ক্রীড়া ডেস্ক: বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন। চলতি বিশ্বকাপেও রয়েছে ফর্মের তুঙ্গে। পয়েন্ট টেবিলেও আধিপত্য অস্ট্রেলিয়ার। স্বাভাবিকভাবেই আজ বাংলাদেশের বিপক্ষে ‘ফেভারিট’ অ্যারন ফিঞ্চের দল। তবে ব্যাপারটি নিয়ে মোটেও চিন্তিত নয় টিম টাইগার্স। ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে উল্টো এ ম্যাচে ভালো কিছু করে দেখাতে আত্মবিশ্বাসী মাশরাফি বিন মুর্তজার দল।
নটিংহ্যামে আজ বাংলাদেশ সময় বিকাল ৩টা ৩০ মিনিটে বিশ্বকাপে নিজেদের ষষ্ঠ ম্যাচে নামবে বাংলাদেশ। এর আগে দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে এ টুর্নামেন্টের পথচলাটা দারুণ হয়েছিল টাইগারদের। মাঝে নিউজিল্যান্ড ও ইংল্যান্ডের কাছে হেরে কিছুটা হতাশা ভর করেছিল স্টিভ রোডসের শিষ্যদের। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বৃষ্টির কারণে মাঠে নামতে না পারায় যা আরও বেড়েছিল মাশরাফিদের। তবে দুদিন আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজের দেওয়া ৩২২ রানের চ্যালেঞ্জ দাপুটের সঙ্গে জিতে আবারও আত্মবিশ্বাস ফিরে পেয়েছেন সাকিব আল হাসান-তামিম ইকবালরা।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দাপুটে জয়ের পর অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর আত্মবিশ্বাসটা বেশি করে জন্মেছে বাংলাদেশ শিবিরে। গত পরশুই তো টন্টন ছেড়ে নটিংহ্যামে যাওয়ার উদ্দেশে বাসে ওঠার সময় ব্যাপারটি নিয়ে মাশরাফি বলেন, ‘আশা আছে… দেখা যাক।’
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ ওয়েস্ট ইন্ডিজের চেয়ে বেশ কঠিনই হবে। কেননা নতুন বলে মিচেল স্টার্ক ও প্যাট কামিন্স বেশ ভোগাতে পারে টাইগারদের। পুরোনো বলেও দারুণ বিপজ্জনক তারা। তবে গত কয়েক ম্যাচে পেসারদের সামলানোর পর অস্ট্রেলিয়া চ্যালেঞ্জের জন্যও প্রস্তুত দল। জানিয়েছেন সাকিব আল হাসান, ‘গত চার ম্যাচেই আমরা সেরাদের কাতারে থাকা ফাস্ট বোলারদের খেলেছি। সব ম্যাচেই আমাদের প্রতিপক্ষে অন্তত এমন দুজন বোলার ছিল, যারা ১৪০ কিলোমিটার ছাড়ানো গতিতে বল করে। আমরা যথেষ্টই ভালো মানিয়ে নিয়েছি।’
এবারের বিশ্বকাপে ব্যাট হাতে দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছেন সাকিব আল হাসান। এরই মধ্যে এ বাঁহাতি দুটি হাফসেঞ্চুরি ও দুটি সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন। শুধু তাই নয়, এ টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকও। আজ সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে চান তিনি। এদিকে অজিদের বিপক্ষে ভালো কিছুর আশায় এ বাঁহাতি আস্থা রাখছেন সতীর্থদের ওপর।
দল হিসেবে বাংলাদেশ বেশ স্কিলড এবং সব চ্যালেঞ্জের জবাব দিতে সামর্থ্য আছে। অজিদের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে এমনটাই মনে হয়েছে সাকিবের, ‘অস্ট্রেলিয়ার পেস নিয়ে আমাদের দুর্ভাবনা নেই। আমরা ইংল্যান্ড-ওয়েস্ট ইন্ডিজকে খেলেছি। ১৪০-১৫০ কিলোমিটার গতিতে বল করা পেসার ছিল দুই দলেই। আমাদের স্রেফ মৌলিক বিষয়গুলো ঠিক রাখতে হবে। দল হিসেবে আমরা বেশ স্কিলড এবং সব চ্যালেঞ্জের জবাব দেওয়া সামর্থ্য যথেষ্ট আছে।’
এখন পর্যন্ত ওয়ানডে লড়াইয়ে অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের দেখা হয়েছে ২০ বার। কিন্তু সেখানে এক জয়ের বিপরীতে ১৮ বারই হেরেছে টাইগাররা। একটি ম্যাচ হয়েছে পরিত্যক্ত। তবে আজ অতীত পরিসংখ্যান নিয়ে মোটেও চিন্তিত নয় মাশরাফির দল। তাদের লক্ষ্য নটিংহ্যামে অজিদের হারিয়ে নতুন কিছুর জš§ দেওয়া।
নটিংহ্যামে খেলা বলেই বেশ উচ্ছ্বসিত তামিম ইকবাল। ইংল্যান্ডের ঘরোয়া টি-টোয়েন্টিতে এখানেই খেলেছেন এ বাঁহাতি ২০১১ সালে। শহরটিও তার বেশ পছন্দ। ভালো লাগার পরিধি এবার আরও বাড়বে। সে আশায় রয়েছেন তামিম, ‘জিততে পারলে
খুবই ভালো লাগবে। কাজটা অনেক কঠিন, ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারানোর তুলনায় অনেক অনেক কঠিন। তবে অসম্ভব নয়। বিশ্বাস রাখতে হবে আমাদের। তারপর মাঠে দেখা যাবে।’
দক্ষিণ আফ্রিকা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারানোর পর থেকেই সবাই বিশ্বাস করছেন আজ অজিদের বিপক্ষে কিছু একটা করবে বাংলাদেশ। সেই কিছু একটা নিশ্চয়ই জয়। যা ছিনিয়ে নিতে সর্বোচ্চটা দিতে তৈরি টিম টাইগার্স।

 

 

 

সর্বশেষ..



/* ]]> */