ফের কঠোর হওয়ার নির্দেশ বিএসইসির

পরিচালকদের ৩০ শতাংশ শেয়ার ধারণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত যেসব কোম্পানির উদ্যোক্তা পরিচালকদের সম্মিলিতভাবে ন্যূনতম ৩০ শতাংশ শেয়ার ধারণ করতে ব্যর্থ তাদের বিষয়ে ফের কঠোর অবস্থানে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এ বিষয়ে দেশের উভয় স্টক এক্সচেঞ্জ ও সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেডকে (সিডিবিএল) দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দিয়েছে সংস্থাটি।

বিএসইসির চেয়ারম্যান ড. এম খায়রুল হোসেন স্বাক্ষরিত নির্দেশনাটি গত ১১ মার্চ দুই স্টক এক্সচেঞ্জ ও সিডিবিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বরাবর পাঠানো হয়েছে। এর আগে এক নির্দেশনায় ন্যূনতম শেয়ার ধারণে ব্যর্থ কোম্পানির পরিচালকদের শেয়ার ব্লক মার্কেটে কেনা-বেচায় কমিশনের অনুমোদন নিতে বলা হয়।

উল্লেখ্য, ২০১১ সালের ২২ নভেম্বর কোম্পানির পরিচালকদের ন্যূনতম শেয়ার ধারণ-সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা জারি করে বিএসইসি। ওই নির্দেশনায় বলা হয়, পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত সব কোম্পানির উদ্যোক্তা বা পরিচালককে নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের ন্যূনতম দুই শতাংশ শেয়ার ধারণ করতে হবে। একই সঙ্গে উদ্যোক্তা-পরিচালকদের সম্মিলিতভাবে ৩০ শতাংশ শেয়ার ধারণে বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয় ওই নির্দেশনায়।

গত ৬২২তম কমিশন সভায় তালিকাভুক্ত কোম্পানির পরিচালকদের প্রত্যেকের (স্বতন্ত্র পরিচালক ব্যতীত) পরিশোধিত মূলধনের দুই শতাংশের নিচে শেয়ার ধারণকারীদের শাস্তির আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এছাড়াও তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর ২১৯ জন পরিচালক ন্যূনতম শেয়ার ধারণে ব্যর্থ। অন্যদিকে সম্মিলিতভাবে ৩০ শতাংশ শেয়ার উদ্যোক্তা-পরিচালকদের নেই ৭৮টি কোম্পানির। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় ওই কমিশন সভায়।

এ প্রসঙ্গে ডিএসইর সাবেক প্রেসিডেন্ট ও বর্তমান পরিচালক রকিবুর রহমান শেয়ার বিজকে বলেন, কোন কোম্পানির মালিকানায় পরিচালকদের অংশগ্রহণ বেশি থাকলে কোম্পানির প্রতি তাদের আগ্রহ ও দায়িত্ববোধও বেশি থাকে। তাই এটির বিষয়ে সব পক্ষকে কঠোর হওয়া উচিত।

সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মতে, তালিকাভুক্ত বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ারের অধিকাংশই সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে থাকায় বাজারে শেয়ারের চাহিদা কমে যাচ্ছে। ফলে প্রকৃত শেয়ারমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তারা। প্রত্যেক পরিচালকের হাতে দুই শতাংশ  ও সম্মিলিতভাবে ৩০ শতাংশ শেয়ার থাকার কথা থাকলেও আইনটি মানছে না অনেক কোম্পানির পরিচালক।

বিএসইসি সূত্রে জানা গেছে, যেসব কোম্পানি বিএসইসির নির্দেশনাকে উপেক্ষা করছে ক্রমান্বয়ে এনফোর্সমেন্ট বিভাগের মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে কোনো শিথলতা আরোপ করা হবে না বলে জানা গেছে।

২০০৯ ও ২০১০ সালে চাঙ্গা পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির অনেক উদ্যোক্তা-পরিচালক হাজার হাজার কোটি টাকার শেয়ার বিক্রি করে দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে পরবর্তীতে ২০১১ সালের ২২ নভেম্বর উদ্যোক্তা-পরিচালকদের ন্যূনতম শেয়ার ধারণের শর্ত বেঁধে দিয়ে নির্দেশনা জারি করে বিএসইসি। এ নির্দেশনাটি জারির পর থেকেই বিভিন্ন কোম্পানি, বিশেষ করে ব্যাংকের পরিচালকরা ন্যূনতম শেয়ার ধারণের শর্ত থেকে ব্যাংকগুলোকে অব্যাহতি দেয়ার দাবি জানান। সে সময় কয়েকটি ব্যাংকের পরিচালক বিএসইসির বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে মামলাও করেন। মামলায় হেরে গিয়ে পর্ষদের সদস্যপদও ছাড়তে হয়ছ সংশ্লিষ্ট ব্যাংক পরিচালকদের।