ফের কমল ব্যাংক খাতের লেনদেন

নিজস্ব প্রতিবেদক: দীর্ঘ মন্দার পর চলতি মাসের শুরুতে উত্থানের পর ফের ব্যাংক খাতের শেয়ারে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। এ কারণে গেল সপ্তাহে ব্যাংক খাতের লেনদেন অনেটা কমেছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) লেনদেন পর্যালোচনায় এ তথ্য জানা গেছে। লভ্যাংশকে কেন্দ্র করে লেনদেন বাড়ার কথা থাকলেও তা আকর্ষণীয় না হওয়ায় এমনটি হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

তথ্যমতে, গেল সপ্তাহে মোট লেনদেনে ব্যাংক খাতের দখলে ছিল ১৩ শতাংশ। আলোচিত সময়ে খাতটির দৈনিক গড় লেনদেন হয়েছে ৮১ কোটি ৭২ লাখ টাকা। আগের সপ্তাহে মোট লেনদেনে ব্যাংক খাতের অংশগ্রহণ ছিল ২১ শতাংশ। ওই সময় খাতটির দৈনিক গড় লেনদেন হয়েছে ১০৯ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক সপ্তাহের ব্যবধানে মোট লেনদেনে ব্যাংক খাতের অংশগ্রহণ কমেছে আট শতাংশ। এর আগে মার্চে শেষদিকে মোট লেনদেনের ব্যাংক খাতের দখলে ছিল ১৯ শতাংশ। ওই সময় খাতটির দৈনিক গড় লেনদেন হয়েছিল ৫৩ কোটি টাকা। তবে মার্চের প্রথমদিকে ব্যাংক খাতের লেনদেন অনেকটা কমে গিয়েছিল, যা গত এক বছরের মধ্যে সর্বনি¤œ। পরবর্তী সময়ে ধীরে ধীরে লেনদেন বাড়তে থাকলেও গেলে এক সপ্তাহে ব্যাংক খাতের লেনদেনে ফের হোঁচট খেল।

রূপালী ব্যাংকের শেয়ার দর গত বৃহস্পতিবার সর্বশেষ ৪৯ টাকায় লেনদেন হয়েছে। দীর্ঘদিন পতনমুখী থাকলে চলতি মাসের শুরুতে লেনদেন ইতিবাচক ধারায় ফিরলে গত ২ এপ্রিল কোম্পানির শেয়ার দর ৫৪ টাকা ৩০ পয়সায় লেনদেন হয়েছে। সপ্তাহের ব্যবধানে কোম্পানিটির শেয়ারদর অনেকটা কমেছে। চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে ন্যাশানাল ক্রেডিট অ্যান্ড কমার্স ব্যাংক (এনসিসি) এর শেয়ার ১৭ টাকায় লেনদেন হয়েছে। গেল সপ্তাহের শেষদিন কোম্পানিটির শেয়ার ১৫ টাকা ৭০ পয়সায় বেচাকেনা হয়েছে। ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার সর্বশেষ ২৭ টাকা ৯০ পয়সায় লেনদেন হয়েছে। অথচ মাসের শুরুতে কোম্পানিটির শেয়ারদর ৩০ টাকায় লেনদেন হয়েছে। রূপালী, এনসিসি এবং ইসলামী ব্যাংকই নয়, বাজারে তালিকাভুক্ত বেশিরভাগ ব্যাংকের শেয়ারদর সপ্তাহের ব্যবধানে কমেছে। এ কারণে পুরো লেনদেন এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। আলোচিত সময়ে একাধিক ব্যাংক লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘ তিন মাসের মন্দায় অধিকাংশ শেয়ারদর কমে গিয়েছিল। চলতি মাসে প্রথম সপ্তাহ থেকে বাজার ঘুরে দাঁড়িয়েছে। এতে মন্দা বাজারে যেসব শেয়ারের দর পতন হয়েছিল সেগুলো ইতিবাচক ধারায় ফিরতে শুরু করেছে। তাছাড়া বর্তমান সময়ে ব্যাংক-বিমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতের লভ্যাংশের মৌসুম চলছে। আর লভ্যাংশকে কেন্দ্র করেও শেয়ারে বিনিয়োগকারীরা আগ্রহী হয়ে উঠে। কিন্তু কখনও কখনও লভ্যাংশ আকর্ষণীয় না হলে শেয়ার লেনদেন আগ্রহ হারায় তারা। এ কারণে লেনদেন নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন তারা।

এ সম্পর্কে পুঁজিবাজার বিশ্লেষক অধ্যাপক আবু আহমেদ শেয়ার বিজকে বলেন, ব্যাংক-বিমা ও আর্থিক খাতের কোম্পানিরগুলোর লভ্যাংশের মৌসুম চলছে। এ সময় যদি কোম্পানিগুলোর লভ্যাংশ বিনিয়োগকারীদের কাছে আকর্ষণীয় না হয় তাতে শেয়ারে আগ্রহ হারায় তারা। এতে লেনদেনে প্রভাব পড়তে পারে।

পিই রেশিও বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গেল সপ্তাহে ব্যাংক খাতের পিই রেশিও ছিল ৯ দশমিক শূন্য পয়েন্টে। এর আগের সপ্তাহে পিই রেশিও ছিল আট দশমিক ৯ পয়েন্টে। বিশ্লেষকরা বলছেন, যতদিন পর্যন্ত পিই রেশিও ১৫-এর ঘরে অবস্থান করে ততদিন বিনিয়োগ নিরাপদ। সেই হিসেবে ব্যাংক খাতের পিই রেশিও নিরাপদ অবস্থানে আছে। উল্লেখ্য পুঁজিবাজারে ব্যাংক খাতের ৩০টি প্রতিষ্ঠান তালিকাভুক্ত।