ফের ‘জেড’ ক্যাটেগরির শেয়ারদরে উল্লম্ফন

নিজস্ব প্রতিবেদক: পুঁজিবাজারে দীর্ঘদিন মন্দা অব্যাহত। গতকাল সূচকের সামান্য উত্থান হলেও বাজারে ‘জেড’ ক্যাটেগরির শেয়ারদরে উল্লম্ফন লক্ষ করা গেছে। এতে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। বাজারে এ অবস্থা অব্যাহত থাকলে বিনিয়োগকারীদের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি আস্থা হারানোর আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তথ্যমতে, গতকাল জেড ক্যাটেগরির ইমাম বাটনের শেয়ার ৩৪ টাকা ৮০ পয়সায় বেচাকেনা হয়। এদিন কোম্পানির শেয়ারদর আগের দিনের চেয়ে ৯ দশমিক ৭৭ শতাংশ বেড়েছে, যা ছিল বাজারে দর বাড়ার সর্বোচ্চ হার। অথচ কোম্পানিটি দীর্ঘদিন লোকসানে রয়েছে। এছাড়া কোম্পানিটি লভ্যাংশ দিতেও ব্যর্থ হয়েছে। আর এ অবস্থায় ইমাম বাটনের দরে উল্লম্ফনে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সংশয় দেখা দিয়েছে।

দর বাড়ার দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে বেক্সিমকো সিনথেটিক্স। কোম্পানিটি ‘জেড’ ক্যাটেগরিতে অবস্থান করলেও টানা দর বেড়ে গত ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে সর্বোচ্চ ১৫ টাকা ৯০ পয়সায় লেনদেন হয়েছে। এরপর অধিকাংশ সময় দরপতন হলেও গতকাল শেয়ারে বেশ উল্লম্ফন দেখা গেছে। গতকাল কোম্পানিটির শেয়ারদর আগের দিনের চেয়ে ৯ দশমিক ৬২ শতাংশ বেড়ে ১১ টাকা ৪০ পয়সায় বেচাকেনা হয়েছে।

দর বাড়ার কারণ সম্পর্কে জানতে ইমাম বাটনের কোম্পানি সচিব মহিউদ্দিন মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, দর বাড়ার কোনো ধরনের মূল্য সংবেদনশীল তথ্য নেই।

একাধিক বিনিয়োগকারীর সঙ্গে আলাপকালে তারা জানান, প্রতিনিয়ত দরপতন হচ্ছে, অথচ কেউ বাজার নিয়ে কোনো ইতিবাচক আশ্বাস দিচ্ছে না। এভাবে চলতে থাকলে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। রনি মণ্ডল নামে একজন বিনিয়োগকারী জানান, শেয়ারদর ওঠানামা করবে, এটা স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। কিন্তু টানা পতন হলে আমাদের সামান্য বিনিয়োগ নিয়ে হতাশ হই। তাই কী কারণে এমনটি হচ্ছে তা নিয়ন্ত্রক সংস্থা থেকে তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। তাছাড়া বাজারের প্রতি আমার মতো সাধারণ ও ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা হতাশ হয়ে পড়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চলতি বছরের শুরু থেকে বাজারে মন্দা অবস্থা বিরাজ করছে। বিশেষ করে ব্যাংকের বিভিন্ন সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে এমনটি হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এর মধ্যে রয়েছে ব্যাংকের ঋণ আমানতের রেশিও কমানোর সিদ্ধান্ত, আমানতের সুদ হার বাড়ানো। এছাড়া ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন সংবাদ সম্মেলন করে জানিয়েছে, বাজারে তারল্য সংকট চলছে। আর এ অবস্থা চলতে থাকলে বাজার দীর্ঘমেয়াদি মন্দা পরিস্থিতিতে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিপরীত দিকে মন্দা বাজারে ‘জেড’ ক্যাটেগরির অর্থাৎ জাঙ্ক শেয়ারের দর বাড়লে বিনিয়োগকারীদের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি আস্থা হারানোর আশঙ্কা রয়েছে। তাই লোভে পড়ে এসব শেয়ারে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগ না করার পরামর্শ দেন তারা।

এ সম্পর্কে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পরিচালক রকিবুর রহমান শেয়ার বিজকে বলেন, দু-একটি পদক্ষেপের কারণে বাজারে নাজুক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। তাছাড়া বর্তমানে পুঁজিবাজার এক মুমূর্ষু সময় পার করছে। যদি সঠিক পদক্ষেপ না নেওয়া হয় তাহলে এ অবস্থা দীর্ঘমেয়াদি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

জানা গেছে, যেসব কোম্পানি দীর্ঘদিন শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশ দিতে ব্যর্থ হয়েছে, উৎপাদন বন্ধ রেখেছে, নিয়মিত এজিএম করছে নাÑসেসব কোম্পানি ‘জেড’ ক্যাটেগরিতে তালিকাভুক্ত।

সোনারগাঁও টেক্সটাইল লোকসানি প্রতিষ্ঠান। কোম্পানিটি শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশ দিতে ব্যর্থ হয়ে ‘জেড’ ক্যাটেগরিতে অবস্থান করছে। গতকাল সোনারগাঁও টেক্সটাইলের শেয়ার সর্বোচ্চ ২১ টাকায় লেনদেন হয়েছে। এদিন কোম্পানির শেয়ার আট দশমিক ২৯ শতাংশ বেড়েছে। এছাড়া মেঘনা কনডেন্স মিল্কের শেয়ারদর সাত দশমিক ৬৩ শতাংশ বেড়ে ৩১ টাকায়, জুট স্পিনার্সের দর সাত দশমিক ৬০ শতাংশ বেড়ে ১৬৯ টাকা ৭০ পয়সায়, কে অ্যান্ড কিউ’র শেয়ারদর সাত দশমিক চার শতাংশ বেড়ে ১৫২ টাকায়, দুলামিয়া কটনের দর ছয় দশমিক ৩৮ শতাংশ বেড়ে ৪৩ টাকা ৩০ পয়সায় এবং বিডি ওয়েল্ডিংয়ের মেঘনা পিইটি’র শেয়ারদর ছয় দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে ২০ টাকা ৯০ পয়সায় লেনদেন হয়েছে।