ফোরজি সিমে গ্রাহককে বোকা বানাচ্ছে অপারেটরগুলো

হামিদুর রহমান: দেশে উন্নত প্রযুক্তির ইন্টারনেট ফোরজি প্রযুক্তি এলটিই (লংটার্ম ইভ্যুলেশন) সেবার লাইসেন্স না পেলেও বিটিআরসির অনুমোদন ছাড়াই ফোরজি নিয়ে প্রচার-প্রচারণা শুরু করেছে মোবাইল ফোন অপারেটরগুলো। পাশাপাশি এ সুযোগে বাড়তি দামে বিক্রি করছে ফোরজি অ্যাক্টিভেটেড সিম। যদিও প্রায় ৯৫ শতাংশ গ্রাহকের ফোরজি সিমের উপযোগী হ্যান্ডসেট নেই।

সরেজমিনে দেখা যায়, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় মোবাইল ফোন অপারেটরগুলো ক্যাম্পেইন করে বিক্রি করছে ফোরজি অ্যাক্টিভেটেড সিম। এসব ক্যাম্পেইনে ফোরজি সিম বিক্রিতে কাস্টমার বুঝে বাড়তি টাকা নিচ্ছে রিটেইলাররা। যদিও অনেক কাস্টমার জানেই না, ফোরজি প্রযুক্তি ব্যবহারের জন্য প্রয়োজন ফোরজি সাপোর্টেড ফোন। অন্যদিকে ফোরজি প্রযুক্তি ব্যবহারের জন্য কোন ধরনের ফোন ব্যবহার করতে হবে, সে সম্পর্কে গ্রাহকরা জানতে চাইলেও কৌশলে সেটি এড়িয়ে টার্গেট পূরণের লক্ষ্যে ভুল ধারণা দিয়ে বিক্রি করছে ফোরজি অ্যাক্টিভেট সিম।

রাজধানীর ফার্মগেট এলাকায় বাংলালিংকের ফোরজি ক্যাম্পেইন থেকে সিম কিনেছেন বাবলু মিয়া। বর্তমানে তিনি ব্যবহার করছেন ‘সিম্ফনি রোয়ার ভি টোয়েন্টি’ নামে একটি অ্যানড্রয়েড ফোন। তিনি বলেন, ‘গ্রামে ভিডিও কলে কথা বলার জন্য আমি যে ফোন ব্যবহার করছি, ওই মডেলের সঙ্গে মিল রেখে আরেকটি ফোন কিনেছি। শুধু ফোরজি অ্যাক্টিভ সিম কেনা বাকি ছিল। তাই সিমটি কিনলাম ১৩০ টাকা দিয়ে। বাংলালিংকের নরমাল ও ফোরজি সিমের মূল্য ১০০ টাকা। রিটেইলাররা বলছেন, এ ফোনে ফোরজি সিমে কথা বলা যাবে।’

মোবাইল ফোন ইমপোর্ট অ্যাসোসিয়েশনের তথ্যমতে, দেশে এখন পর্যন্ত গ্রাহকদের হাতে ফোরজি সাপোর্টেড ফোন আছে মাত্র পাঁচ শতাংশের মতো। আর সারা দেশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা শোরুমগুলোয় ফোরজি সাপোর্টেড ফোন রয়েছে ২০ শতাংশের মতো। অর্থাৎ দেশে ফোরজি ফোনের বাইরে রয়েছে প্রায় ৭৫ শতাংশ মোবাইল ব্যবহারকারী। এদিকে এখন পর্যন্ত থ্রিজি মোবাইলের সংখ্যাও পুরোপুরি কাভার করেনি। তবে এখন আগের চেয়ে স্মার্ট ফোনের চাহিদা বাড়ছে।

এডিশন গ্রæপের জনসংযোগ কর্মকর্তা মাহমুদ আইয়ুব বলেন, ‘ফোনের মূল্য এখন আগের চেয়ে কমে গেছে। আগে প্রতিটি মোবাইল ফোন ইমপোর্টে প্রতিটি পার্টসের জন্য আলাদা আলাদাভাবে এ ট্যাক্স দিতে হতো। যেটি প্রতিটি ফোনের জন্য সরকারকে প্রায় ৫০ শতাংশ ট্যাক্স দিতে হতো। তবে এখন এটি অনেকাংশ কমে গেছে। অর্থাৎ এখন প্রতিটি ফোনের জন্য ১০ শতাংশ ট্যাক্স দিতে হচ্ছে। যে কারণে আমরাও গ্রাহকদেরও কম মূল্যে ফোন দিতে সক্ষম হচ্ছি। বর্তমানে ফোরজি সাপোর্টেড ফোন বেশি ইমপোর্ট হচ্ছে। তবে আমাদের দেশে উন্নত ফোনের চাহিদা বাড়লেও তুলনামূলক অন্যান্য দেশে চেয়ে আমরা অনেক পিছিয়ে।’

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ফোরজি সেবার জন্য চালু করার আগে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে মোবাইল হ্যান্ডসেটগুলোয় ফোরজি প্রযুক্তি সাপোর্ট করার বিষয়টি। যদি গ্রাহকের হ্যান্ডসেটটি স্মার্টফোনও হয় কিন্তু সেটা ফোরজি সাপোর্ট না করে তাহলে হ্যান্ডসেট না থাকলে ব্যবহারকারীরা এ সেবা পাবেন না। বর্তমানে বাংলাদেশে থ্রিজি সেবা গ্রহণের জন্য মাত্র ৩০ শতাংশ ডিভাইসের সক্ষমতা রয়েছে, সেখানে ফোরজি সেবা গ্রহণের সক্ষমতা এক দশমিক পাঁচ শতাংশের কম। এ অবস্থায় ফোরজি সেবা চালু করা কতটা লাভজনক হবে, সেটাও প্রশ্নের সম্মুখীন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্যামসাং মোবাইল বাংলাদেশের সাবেক হেড অব বিজনেস ও সিস্টেমস সলিউশনস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট টেকনোলজিসের (এসএসডি-টেক) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হাসান মেহেদী শেয়ার বিজকে বলেন, ‘দেশে বর্তমানে মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীর মাত্র ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ স্মার্টফোন ব্যবহার করেন। এ ব্যবহারকারীদের বেশিরভাগেরই ফোরজি প্রযুক্তির হ্যান্ডসেট নেই। অর্থাৎ আমাদের দেশের মোবাইল ব্যবহারকারীদের বড় অংশ এখনও থ্রিজি প্রযুক্তি সেবা গ্রহণ করেনি। ফোরজি চালুর ক্ষেত্রে এটা সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশে বর্তমানে ব্যবহারকারীদের ১০ শতাংশের কম স্মার্টফোনে ফোরজি সাপোর্ট করে। কিন্তু ফোরজি সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে গ্রাহককে অবশ্যই ফোরজি সাপোর্টেড মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে হবে।’