ফ্যাশনোলজি সামিট প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের উম্মোষ

নিজস্ব প্রতিবেদক: পোশাকের অভ্যন্তরে বিজলিবাতি যুক্ত করে নানা বর্ণের আলোর বিকিরণ নতুন কিছু নয়। তবে পোশাকের সঙ্গে সফটওয়্যার সংযুক্ত করে প্রোগ্রামেবল আলোর মাধ্যমে সিগন্যাল সরবরাহের প্রযুক্তি নিয়ে এসেছে স্পেনের কনস্ট্যানজা নামের একটি ব্র্যান্ড। একটি পোশাক থেকে অন্যটির দূরত্ব বাড়তে বা কমতে থাকলে আলোর রং বদলে যেতে থাকে। এর মাধ্যমে একজন সহজেই তার সঙ্গীর অবস্থান বুঝতে পারবেন। ফ্যাশনের সঙ্গে প্রযুক্তির এ সমন্বয় স্পোর্টস কিংবা নিরাপত্তার প্রয়োজনে ব্যবহার করা যেতে পারে।

স্প্যানিশ ব্র্যান্ড কনস্ট্যানজার মতো নেদারল্যান্ডস, আমস্টারডাম, প্যারিস, ব্রিটেন ও ভারত থেকে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের উদ্যোক্তারা তাদের উদ্ভাবনী পণ্যসম্ভার নিয়ে হাজির হয়েছিলেন ঢাকায়।

গতকাল রাজধানীর বসুন্ধরা আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে (আইসিসিবি) অনুষ্ঠিত হয় ফ্যাশনলজি সামিটে এসব পণ্যের প্রদর্শনী। তৈরি পোশাক খাতের উন্নয়নের লক্ষ্যে উদ্ভাবন ও প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে এ সামিট আয়োজন করে বাংলাদেশ অ্যাপারেল এক্সচেঞ্জ (বিএই)। দিনব্যাপী এ সামিটে ১১টি দেশের শীর্ষ ১৭ বিশেষজ্ঞ অংশ নিয়ে তাদের অভিজ্ঞতা ও ধারণা উপস্থাপন করেন।

বস্ত্র ও ফ্যাশন শিল্পের বর্তমান ও ভবিষ্যতের মধ্যে সেতুবন্ধ তৈরির লক্ষ্যে বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো আয়োজিত হলো এ ফ্যাশনোলজি সামিট। আয়োজনের টাইটেল স্পন্সর হিসেবে ছিল প্যাসিফিক জিন্স। এছাড়া সিন্দাবাদ ডটকম, সিঅ্যান্ডএ ফাউন্ডেশন, নেদারল্যান্ডস সরকারসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এতে পৃষ্ঠপোষকতা করে।

বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, বিজিএমইএর সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান, মাইক্রোসফট বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সোনিয়া বশির কবির, আইবিএম রিসার্চের গবেষক বিকাশ রায়কর, বিশ্বব্যাংকের কৌশলগত উপদেষ্টা ও গার্মেন্ট (আরএমজি) বিশেষজ্ঞ ডেভিড বার্নবাম প্রমুখ সামিটের বিভিন্ন সেশনে বক্তব্য রাখেন।

এ উদ্যোগ সম্পর্কে বাংলাদেশ অ্যাপারেল এক্সচেঞ্জের (বিএই) প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী মোস্তাফিজ উদ্দিন বলেন, ‘আমরা উদ্ভাবনী মানসিকতার একটি দল তৈরি করতে চাই, যারা প্রযুক্তি ব্যবহার করে বাংলাদেশকে আগামী প্রজন্মের পোশাক তৈরি ও বিপণনের কেন্দ্রে পরিণত করতে পারবে। এজন্য পোশাক ও ফ্যাশন শিল্পে প্রযুক্তি এবং ডিজিটাইজেশন-সংক্রান্ত ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও ধারণাগুলোকে একই প্ল্যাটফর্মে এনে দিয়েছি। এখন দেশের উদ্যোক্তারা এসে তাদের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে পারে।’

দেশের প্রথম প্রজন্মের উদ্যোক্তাদের অনেকেই উদ্ভাবন, হাই ভ্যালু পণ্য সৃষ্টি কিংবা নিজস্ব সাপ্লাই ও ভ্যালু চেইন তৈরিতে আগ্রহ দেখাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন ডেনিম খাতের এ শীর্ষ উদ্যোক্তা।

তিনি বলেন, ‘এমন আয়োজনের জন্য প্রায় সব বড় উদ্যোক্তার কাছে গিয়েও কোনো আর্থিক সহযোগিতা পাইনি। পুরো আয়োজনের প্রায় সব ব্যয় নিজেকে বহন করতে হচ্ছে। সবাই মিলে এমন একটি আয়োজন নিয়মিত করা গেলে বাংলাদেশের পরিবেশ ও প্রতিশ্রুতির বিষয়টি তুলে ধরা সম্ভব হতো।’

দিনব্যাপী এ সামিটে অংশ নিয়ে চারটি আলাদা সেশনে বক্তব্য রাখেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলেন, ডিজিটাল ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতির বদৌলতে পোশাক ও ফ্যাশন শিল্প এক ব্যাপক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। শিল্প ও ভোক্তার আকাক্সক্ষায় ব্যাপক পরিবর্তন লক্ষ করা যায়। এ অবস্থায় একটি ব্র্যান্ড সৃষ্টি করে তা টিকিয়ে রাখতে হলে প্রতিনিয়ত ক্রেতার দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনগুলোর সঙ্গে তাল মিলিয়ে নতুনত্ব আনতে হবে।

সামিটে ভবিষ্যতের কারখানায় অটোমেশন, রোবটের ব্যবহার ও সাইবার নিরাপত্তার মতো বিষয়ে আলোচনা হয়। এছাড়া চাহিদা সৃষ্টি ও বাজারজাতকরণ এবং ক্রেতার পরিবর্তনশীল প্রত্যাশার সঙ্গে সমন্বয় করে বিশ্বের বিভিন্ন উদ্যোগের পর্যালোচনা করা হয়।

আমাজনের মতো বিশাল প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে নানা উদীয়মান ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কৌশল নিয়ে আলোচনা করেন তাদের প্রতিনিধিরা। এছাড়া ফ্যাশনে প্রকৌশল ও নান্দনিকতার সংমিশ্রণ নিয়েও কথা বলেন অতিথিরা।