শোবিজ

ফ্রান্সের সিনেমায় বাংলাদেশি ফাহিমের জীবনসংগ্রাম

শোবিজ ডেস্ক; ইচ্ছাশক্তি, অধ্যাবসায় আর দৃঢ়তা থাকলে মানুষ তার নিজেকে নিয়ে যেতে পারে সাফল্যের চূড়ায়। তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত বাংলাদেশি তরুণ ফাহিম মোহাম্মদ। তাকে এক দশক আগেও বাংলাদেশ থেকে সুদূর ফ্রান্সে গিয়ে অবৈধভাবে পালিয়ে
থাকতে হয়েছে, অথচ এক দশকের ব্যবধানে সেই ফ্রান্সেই তার জীবনী নিয়ে নির্মিত হচ্ছে সিনেমা ‘ফাহিম’। ইতোমধ্যে সিনেমাটির ট্রেলার প্রকাশিত হয়েছে। সিনেমাটি ট্রেলার
প্রকাশের পর শুধু ফ্রান্সের দর্শক নয়, বাংলাদেশি দর্শকের কাছে পৌঁছে গেছে সেই খবর। সিনেমাটি নিয়ে নিজেদের আগ্রহের কথা সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করেছেন। এখন
শুধু মুক্তির অপেক্ষায়। সিনেমাটি নির্মাণ করেছেন পিয়ের-ফ্রাঁসোয়া মার্তা-লাভাল। এতে নাম ভূমিকায় অভিনয় করেছেন প্রবাসী আহমেদ আসাদ। আগামী অক্টোবরে ১৬ তারিখে ফ্রান্সে মুক্তি পাবে।
প্রসঙ্গত, ২০০০ সালে ডেমরায় তার জন্ম। ২০০৮ সালের অক্টোবর মাসে ফাহিমের বাবা নূরে আলম ছেলেকে নিয়ে ফ্রান্সে যান। এরপর স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কাছে রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনা করলে ঠাঁই হয় একটি আশ্রয়শিবিরে। সেখানে সরকারি মাসোহারা আর টুকটাক কাজকর্ম করে কাটে তাদের দিন। তবে ২০১০ সালে রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন প্রত্যাখ্যাত হলে ফ্রান্স ছেড়ে চলে যেতে বলা হয়। কিন্তু তারা সেটা না করে পালিয়ে বেড়াতে থাকেন। আর পালানোর মধ্যে একদিন একটি দাবা টুর্নামেন্টে অংশ নিয়ে এক দাবা প্রশিক্ষকের নজরে পড়েন তিনি। সেই প্রশিক্ষকের উদ্যোগে প্যারিসের একটি দাবা ক্লাবে তার প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয় এবং পাল্টে যেতে থাকে তাদের জীবন। আর থাকার জন্য ফাহিম ও তার বাবা ক্লাবসংলগ্ন খালপাড়ে তাঁবু গেড়ে বসবাস শুরু করেন। পরে বিভিন্ন দাতব্য প্রতিষ্ঠান ও দাবা ফেডারেশনের বদান্যতায় থাকার ব্যবস্থা হয় তাদের। একদিকে টিকে থাকার সংগ্রাম, অন্যদিকে দাবা খেলা। ২০১২ সালের এপ্রিলে অনুষ্ঠিত ফ্রান্সের অনূর্ধ্ব-১২ জাতীয় দাবা প্রতিযোগিতায় ফাহিম চ্যাম্পিয়ন হয় ও বিশ্ব জুনিয়র দাবায় চ্যাম্পিয়ন হয়ে সংবাদপত্রের শিরোনামে ঠাঁই করে নেন তিনি। এরপর তাকে নিয়ে ফ্রান্সের পত্রপত্রিকায় অনেক আলোচনা হতে থাকে। শুধু ফ্রান্সের সংবাদ মাধ্যম নয় বাংলাদেশের মিডিয়াতেও বেশ আলোচনা হয়েছে। পরে ফ্রান্সের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ফ্রাঁসোয়া ফিয়ঁ’ও ওই বিতর্কে অংশ নিয়ে বলেন যে, ফাহিমের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হবে। এরপর মে মাসে ফাহিম ও তার বাবাকে ফ্রান্সের থাকার সাময়িক অনুমতি দেওয়া হয়। আর তার বাবাকে প্যারিসের ক্রিটেই এলাকায় দেওয়া হয় চাকরি। শেষ পর্যন্ত দাবা খেলেই ফ্রান্সের স্থায়ী নাগরিকত্ব লাভ করেন তারা। ২০১৪ সালে তার জীবনী নিয়ে প্রকাশিত হয় একটি বই ‘অ্যা ক্ল্যানডেস্টাইন কিং’। এ বইটি অবলম্বন করেই নির্মিত হয়েছে ‘ফাহিম’ সিনেমাটি। দাবা দিয়ে ফ্রান্সের মানুষের মন জয় করার কাহিনী আর ফাহিম ও তার বাবার ব্যক্তিগত সংগ্রামের গল্পই উঠে আসবে এ সিনেমাতে।

 

সর্বশেষ..