বাণিজ্য সংবাদ

বগুড়ায় নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি নাভিশ্বাস সাধারণ মানুষের

পারভীন লুনা, বগুড়া: দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতির কারণে অসহায় হয়ে পড়েছেন বগুড়ার মধ্যবিত্ত ও নিন্মআয়ের মানুষ। বাজারে গিয়ে নিত্যপণ্য কিনতে হিসাব মেলাতে পারছেন না তারা। পণ্যের মূল্য বেশি জেনেও বাজারে ঢোকার পর কোনো দোকানে পণ্যের মূল্য কম পাওয়া যায় কি না এমন আশায় পুরো বাজার ঘুরে বেড়াচ্ছেন অনেকে।
পবিত্র রমজান উপলক্ষে সরকারের পক্ষ থেকে বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নিলেও বাজার মনিটরিং সেলের অভাবে অতিরিক্ত মুনাফালোভী সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীরা রমজান এলেই হু হু করে নিত্যপণ্যের মূল্য বাড়িয়ে দেয়। এবারও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। শাকসবজি কাঁচামাল, মাছ-মাংসের পাশাপাশি ইফতারের জন্য ফলমূল ও মুখরোচক খাবারের দামও আকাশছোঁয়া। ফলে বাজারে গিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়তে হচ্ছে মধ্যবিত্ত ও নিন্মআয়ের মানুষদের।
ক্রেতারা জানান. রমজানের আগের দিন হঠাৎ করে বাজার থেকে কলা উধাও হয়ে যায়। সচরাচর কলার দাম ২০ থেকে ২৫ টাকা হালিতে থাকলেও রোজার শুরু থেকে দাম বেড়ে আকার ভেদে ৪০ থেকে ৫০ টাকা হয়ে যায়। বর্তমানে কিছুটা কমে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা হালিতে চলে এসেছে। রমজানের কারণে হালি প্রতি কলা ক্রেতাদের কিনতে হচ্ছে ১০-১৫ টাকা বেশিতে।
এদিকে রমজানের কারণে অন্যান্য ফলমূলের প্রায় প্রতিটির দাম কেজি প্রতি বেড়েছে ৫০ থেকে ১০০ টাকা। বিশেষ করে আপেলের দাম কেজিতে ১৫০ টাকা থেকে প্রকার ভেদে ২২০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। একটু ভালো মানের আপেলের দাম বিক্রেতারা ২৩০ টাকার নিচে নামাচ্ছে না। এছাড়া বাজারে খেজুর প্রকার ভেদে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা, আনার ২২০ থেকে ৩০০ টাকা, আঙ্গুর ২০০ থেকে ২৪০ টাকা, তরমুজ ৬০ থেকে ৭০ টাকা, পেয়ারা ৯০ থেকে ১০০ টাকা, ডাব প্রতি পিছ ৪০ থেকে ৭০ টাকা এবং আনারস প্রতি পিছ ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকরিজীবী রিফাত আল মাহমুদ ও শাকিল হোসাইন জানালেন, ইফতারের জন্য ফল কিনতে এসেছি। দাম খুব চড়া। উপায় নেই খেতে হবে তাই কিনছি। ইফতারের সময় ভাজাপোড়া খাবারের চেয়ে ফলমূল খাওয়াটাকেই শ্রেয় মনে করি।
সেকেন্দার কাজী ফল ভাণ্ডারের স্বত্বাধিকারী জানালেন, আমাদের বেশি দামে কিনতে হয়েছে তাই একটু বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। এ মুহূর্তে আপেলের মৌসুম না তাই এ ফলের দামটাও বেশি। মৌসুমি ফল আম ও লিচু বাজারে নামতে শুরু করেছে মাত্র, নতুন বাজারে নামা ফলের দাম একটু বেশিই হয়।
অপর দিকে বগুড়ার বিভিন্ন মাংসের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, কেজি প্রতি মাংসের মূল্য বেড়েছে ৫০ থেকে ৭০ টাকা। শুধু রমজানকে কেন্দ্র করেই মাংসের এ মূল্যবৃদ্ধি এবং সামনে ঈদের সময় মাংসের মূল্য আরও বাড়তে পারে বলে শঙ্কিত অনেকে।
খান্দার বাজারে মাংস কিনতে আসা হারুন অর রশিদ জানালেন, অনেক দিন থেকে গরুর মাংস কিনি না। কিছুদিন আগে মাংস ৪৮০ থেকে ৫০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হতো। তখনও মাংসের দাম বেশি মনে হতো। এখন মাংসের দাম ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকা। আমাদের গরিবদের জন্য মাংস খাবার কথা ভুলে যেতে হবে। কিনতে এসেছিলেন আধা কেজি মাংস কিন্তু দাম বেশি এখন ২৫০ গ্রাম নিয়ে যাব চিন্তা করছি। কসাইরাও মাংস কিনতে চাইলে হাড্ডি দেয়, চর্বি দেয়।
এদিকে মুখরোচক ইফতারের দামে এবার তেমন হেরফের হয়নি। তাই মুখরোচক ইফতার ক্রেতাদের মধ্যে তেমন ক্ষোভ নেই। তবে তীব্র দাবদাহের কারণে ইফতার গত কয়েক বছরের তুলনায় এখন পর্যন্ত বিক্রি কম হচ্ছে এবং ক্রেতাদের চাহিদা মতোই খাবার তৈরি করছেন বলে জানান ইফতার বিক্রেতারা।

সর্বশেষ..