সম্পাদকীয়

বঙ্গবন্ধুর দেখানো পথেই এগিয়ে যেতে হবে

আজ ১৫ আগস্ট, জাতীয় শোক দিবস। বাংলাদেশের স্বাধীনতার স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৪তম শাহাদাতবার্ষিকী। ১৯৭৫ সালের এই দিনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। দেশের বাইরে থাকায় প্রাণে বেঁচে যান বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা।
স্বাধীনতার পর একটি যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ যখন পুনর্গঠনের পথে যাত্রা শুরু করে, অর্থনীতিসহ সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিস্থিতি যখন ফিরে আসতে থাকে, ঠিক তখনই দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রকারীরা জাতির জনককে নির্মমভাবে হত্যা করে। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে হত্যা, ক্যু ও ষড়যন্ত্রের রাজনীতি শুরু হয়।
স্বাধিকার ও স্বাধীনতার জন্য বাঙালির লড়াই-সংগ্রামের ইতিহাস কম দীর্ঘ নয়। ব্রিটিশ শাসনাধীনেও অনেক বাঙালি জীবন উৎসর্গ করেন। এ ধারাতেই গত শতকের ষাটের দশকে পাকিস্তানের উত্তপ্ত রাজনীতিতে শেখ মুজিব বাঙালির কিংবদন্তিতুল্য নেতা হিসেবে আবির্ভূত হন। ১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধু ছয় দফা পেশ করেন। একে কেন্দ্র করে বাঙালি জাতির সর্ববৃহৎ ঐক্য গড়ে ওঠে। অভূতপূর্ব জাতীয়তাবাদী আন্দোলন সৃষ্টি এবং তাকে বিজয়ের দিকে নিয়ে যাওয়ার নেতৃত্ব বঙ্গবন্ধুই দিয়েছিলেন। ন্যায়সংগত ও ধারাবাহিক আন্দোলন-সংগ্রামের মাধ্যমে তিনি সমগ্র বাংলার মানুষের মন জয় করতে সক্ষম হয়েছিলেন। এ অঞ্চলের কোটি মানুষকে তিনি দেশপ্রেমে উজ্জীবিত করেছিলেন। তাঁর বলিষ্ঠ নেতৃত্বে এ জাতি ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক স্বাধীনতা অর্জন করে।
স্বাধীনতা অর্জনের পর বঙ্গবন্ধু অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনের সংগ্রামকে ‘দ্বিতীয় মুক্তিযুদ্ধ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছিলেন। সে লক্ষ্যে নানা রূপরেখা ও কর্মপরিকল্পনা ছিল তাঁর। কিন্তু ঘাতকের বুলেট কেবল তাঁকেই থামিয়ে দেয়নি, বাধাগ্রস্ত করেছে দেশের উন্নয়নকেও।
বর্তমান প্রেক্ষাপটে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনের সংগ্রামকে এগিয়ে নিতে জাতির জনকের রূপরেখা ও কর্মপরিকল্পনা বড়ই প্রাসঙ্গিক। শোক প্রকাশের মাধ্যমে আমরা প্রয়াত নেতার আত্মার শান্তি কামনা করি। আমরা মনে করি, তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা প্রকাশের সর্বোত্তম পন্থা হবে তাঁর দেখানো পথেই আত্মনির্ভরশীল ও মর্যাদাবান জাতি গঠনের লক্ষ্যে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত আধুনিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা। নিজ নিজ অবস্থান থেকে দেশপ্রেম ও সততার সঙ্গে কাজ করলে জাতির জনকের স্বপ্নপূরণ মোটেও অসম্ভব নয়।
পাকিস্তান আমলে সরকারি চাকরি থেকে শুরু করে ব্যবসা-বাণিজ্য সর্বত্র বাঙালিদের সুযোগ-সুবিধা সীমিত ছিল। বঙ্গবন্ধু স্বপ্ন দেখেছিলেন এমন এক রাষ্ট্রের, যেখানে সব নাগরিকের উপযুক্ত কর্মলাভের সম-অধিকার থাকবে, থাকবে না আর্থসামাজিক বৈষম্য। বিভিন্ন কারণে উপযুক্ত কর্মসৃজনে রাষ্ট্র এখনও সক্ষমতার পরিচয় দিতে পারেনি, আর্থসামাজিক বৈষম্যও রয়ে গেছে। এসব সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠতে বঙ্গবন্ধুর দেখানো পথেই এগিয়ে যেতে হবে। আমাদের উচিত, শোকের এ দিনে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ থেকে সাহস ও শক্তি সঞ্চয় করা। তবেই সম্ভব সুখী-সমৃদ্ধ সোনার বাংলা গড়ে তোলা।

 

সর্বশেষ..



/* ]]> */