প্রচ্ছদ প্রথম পাতা

বঙ্গবন্ধু সেতু ২১ বছরে নির্মাণব্যয়ের ১৪১% টোল আদায়

ইসমাইল আলী: বঙ্গবন্ধু সেতু উদ্বোধন করা হয় ১৯৯৮ সালের জুনে। সেতুটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছিল তিন হাজার ৭৪৫ কোটি ৬০ লাখ টাকা। আর সদ্যসমাপ্ত অর্থবছর পর্যন্ত এ সেতু থেকে টোল আদায় হয়েছে পাঁচ হাজার ২৭৮ কোটি ৮৯ লাখ টাকা। অর্থাৎ ২১ বছরে সেতুটি থেকে টোল আদায় হয়েছে নির্মাণব্যয়ের প্রায় ১৪১ শতাংশ।
সেতু বিভাগের তথ্যমতে, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বঙ্গবন্ধু সেতু থেকে টোল আদায় হয়েছে ৫৭৫ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। সেতুটিতে এটি টোল আদায়ের সর্বোচ্চ পরিমাণ। এর আগের অর্থবছর এ সেতু থেকে টোল আদায় হয়েছিল ৫৪৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা। অর্থাৎ সদ্যবিদায়ী অর্থবছরে বঙ্গবন্ধু সেতুতে টোল আদায় বেড়েছে প্রায় পাঁচ দশমিক ৮০ শতাংশ বা ৩১ কোটি ৫৪ লাখ টাকা।
এর আগে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে বঙ্গবন্ধু সেতুতে টোল আদায় হয়েছিল ৪৮৬ কোটি ৫২ লাখ টাকা। আর ২০১৫-১৬ অর্থবছরে আদায় হয়েছিল ৪০৪ কোটি ৮৮ লাখ টাকার টোল। অর্থাৎ চার বছরে বঙ্গবন্ধু সেতুতে টোল আদায় বেড়েছে ১৭০ কোটি ৪৬ লাখ টাকা।
এদিকে ২০১১-১২ অর্থবছরে প্রথমবারের মতো বঙ্গবন্ধু সেতুতে টোল আদায় ৩০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যায়। সে বছর সেতুটিতে টোল আদায় হয় ৩০৬ কোটি ২৩ লাখ টাকা। পরের অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৩২৭ কোটি ৯৮ লাখ টাকা। ২০১৩-১৪ অর্থবছরে টোল আদায় কিছুটা কমে দাঁড়ায় ৩২৫ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রভাবে সেবার তিন মাস সেতুতে যান চলাচল কমে যাওয়ার প্রভাবে টোল আদায় হ্রাস পেয়েছিল।
যদিও ২০১৪-১৫ অর্থবছর থেকে টোল আদায়ে আবারও গতি আসে। সে অর্থবছর সেতুটিতে টোল আদায় বেড়ে হয় ৩৫১ কোটি ১৪ লাখ টাকা। আর ২০১৫-১৬ অর্থবছরে টোল প্রথমবার ৪০০ কোটি টাকা অতিক্রম করে। এছাড়া ২০০৭-০৮ অর্থবছরে সেতুটির টোল আদায় প্রথম ২০০ কোটি টাকা ছাড়ায়। আর ১০০ কোটি টাকা ছাড়ায় ২০০২-০৩ অর্থবছরে।
জানতে চাইলে সেতু বিভাগের সিনিয়র সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম শেয়ার বিজকে বলেন, বঙ্গবন্ধু সেতুতে গাড়ি চলাচলের পরিমাণ গত কয়েক বছর ধরে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত অর্থবছরে সেতুতে রেকর্ড পরিমাণ গাড়ি চলাচল করে। এর ফলে টোল আদায় বেড়েছে। এছাড়া নতুন একটি প্রতিষ্ঠানকে বর্তমানে সেতুতে টোল আদায়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তারা টোল আদায়ে নতুন প্রযুক্তি স্থাপন করেছে। এতে সেতুতে টোল ফাঁকি দেওয়া পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। এর প্রভাবেও টোল আদায় বেড়েছে।
উল্লেখ্য, বর্তমানে সেতুর টোল আদায় করছে কমিউটার সিস্টেম নেটওয়ার্ক (সিএনএস)। সেতু কর্তৃপক্ষ সূত্র জানিয়েছে, বঙ্গবন্ধু সেতু ব্যবহার করে উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের প্রায় ২৬টি
জেলায় বিভিন্ন পরিবহন যাতায়াত করে। সেতু উদ্বোধন হওয়ার পর থেকে নিয়মিত টোল আদায় করা হয়।
সূত্রমতে, বছরের অন্যান্য সময়ের তুলনায় দুই ঈদে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে গাড়ির চাপ বেড়ে যায়। এতে ঈদুল ফিতর উপলক্ষে গত জুনে সেতুটিতে টোল আদায় হয় রেকর্ড ৫৪ কোটি ২৪ লাখ টাকা। আর ঈদুল
আজহার সময় গত বছর আগস্টে টোল আদায় হয়েছিল ৫২ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। টোল আদায়ের এ ধারা অব্যাহত থাকলে চলতি অর্থবছরে তা ৬০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বর্তমানে বঙ্গবন্ধু সেতুতে মোটরসাইকেলে টোল আদায় করা হয় ৪০ টাকা, হালকা যানে (প্রাইভেট কার, জিপ, পিকআপ ও মাইক্রোবাস) ৫০০, ছোট বাসে ৬৫০, বড় বাসে ৯০০, ছোট ট্রাকে ৮৫০, মাঝারি ট্রাকে এক হাজার ১০০ ও বড় ট্রাকে এক হাজার ৪০০ টাকা হারে।
যদিও ২০১৭ সালে টোলের নতুন হার অনুমোদন করে সরকার। এছাড়া মূল্যস্ফীতি বিবেচনায় প্রতি বছর পাঁচ শতাংশ হারে টোল বাড়ানোর প্রস্তাবও অনুমোদন করা হয়। পরে টোল বৃদ্ধির প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো হয়েছিল। তবে প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন না পাওয়ায় তা কার্যকর হয়নি।
নতুন হার কার্যকর হলে টোলের পরিমাণ দাঁড়াবে মোটরসাইকেলে ৫৫ টাকা, হালকা যানে ৭০০, ছোট বাসে ৯০০, বড় বাসে এক হাজার ২৫০, ছোট ট্রাকে এক হাজার ২০০, মাঝারি ট্রাকে এক হাজার ৫৫০ ও বড় ট্রাকে দুই হাজার টাকা। এর বাইরে চার এক্সেল পর্যন্ত ট্রেইলারে চার হাজার এবং এর বেশি হলে প্রতি এক্সেলের জন্য অতিরিক্ত এক হাজার ৫০০ টাকা হারে টোল দিতে হবে।

 

সর্বশেষ..