বছরে শতকোটি টাকার ব্যবসা ব্যয় বৃদ্ধির শঙ্কা

বন্দরে ইলেকট্রনিক সিল বিধিমালা

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম: বন্দরের আমদানি-রফতানি পণ্য পরিবহনে সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয় ‘ইলেকট্রনিক সিল ও লকসেবা বিধিমালা ২০১৮’ জারি করে। এতে পণ্য লোড-আনলোডে ডিজিটাল সেবার নামে প্রতিটি আমদানি-রফতানি পণ্য পরিবহনে প্রথম ৪৮ ঘণ্টায় ৬০০ টাকা, পরবর্তী প্রতি ঘণ্টায় ৫০ টাকা হারে হাজার টাকা বাড়তি খরচ করতে হবে। ফলে বছরে কয়েক শত কোটি টাকার ব্যবসা ব্যয় বাড়বে বলে শঙ্কা প্রকাশ করছেন চট্টগ্রামের আমদানিকারকরা। তারা মনে করেন, এতে দেশের ব্যবসা ব্যয় আরও এক দফা বৃদ্ধি পাবে।
এ অপ্রত্যাশিত ব্যয় রোধে অর্থ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সব দফতরে এ বিষয়ে চিঠি দিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন চেম্বার। চিঠিতে ব্যবসা-বিনিয়োগ পরিপন্থি এ বিধিমালা বাতিলের অনুরোধ জানিয়েছেন চেম্বার সভাপতি খলিলুর রহমান।
চেম্বার সভাপতি বলেন, বন্দর ও আইসিডিতে আমদানি-রফতানির পণ্য আসা-যাওয়ার বেলায় এযাবৎ চুরি বা শুল্ক ফাঁকির ঘটনা হয়েছে বলে জানা যায় না। জাহাজ কোম্পানি বুলেট সিল করেই আমদানি-রফতানি পণ্যবাহী কন্টেইনার পরিবহন করে, যা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। প্রস্তাবিত সেবা পৃথিবীর কোথাও আছে বলে জানি না।
আমদানিকারকরা বলেন, বিধিমালা অনুযায়ী সময়ক্ষেপণ এবং বন্দরে কন্টেইনার, কাভার্ডভ্যান বা ট্রাকজট বাড়বে। এতে চলমান পরিবহন সমস্যা আরও ভয়াবহ হবে এবং রফতানি প্রবাহ বহুলাংশে ধীরগতির হয়ে যাওয়ায় বিনিয়োগের পরিবেশ বিনষ্ট হবে।
সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা না করে গৃহীত বিধিমালা সরকারের চলমান ব্যবসাবান্ধব ও ব্যয়হ্রাস নীতির পরিপন্থি, যা বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে সরকারি নীতির সঙ্গে মানায় না। তাই অনতিবিলম্বে ব্যবসা-বিনিয়োগ পরিপন্থি এ বিধিমালা বাতিলের নির্দেশ প্রদানের জন্য বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি।