প্রচ্ছদ শেষ পাতা

বছরে ১৩০০ কোটি টাকা ব্যয় বাড়বে গ্রাহকের

কলরেটের ওপর সম্পূরক শুল্ক বৃদ্ধি

নিজস্ব প্রতিবেদক: ২০১৯-২০ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত বাজেটে কল রেট ও ইন্টারনেট ভলিউম কেনায় সম্পূরক শুল্ক পাঁচ শতাংশ বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে মোবাইল ফোন গ্রাহকদের বছরে এক হাজার ৩০০ কোটি টাকা বাড়তি ব্যয় হবে। গতকাল রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে অপারেটরদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব মোবাইল টেলিকমিউনিকেশন অপারেটরস অব বাংলাদেশের (অ্যামটব) বাজেট-উত্তর এক সংবাদ সম্মেলনে মোবাইল ফোন অপারেটরগুলো এ কথা জানায়।
তারা বলেন, ‘মোবাইল ফোনে কথা বলবে বা ইন্টারনেট ব্যবহারে মূল্য বৃদ্ধির পাশাপাশি সিমের ওপর যে অতিরিক্ত ট্যাক্স বসানো হয়েছে সবকিছু মিলে গ্রাহকদের পাশাপাশি অপারেটরগুলোর লোকসান অনেকাংশই বৃদ্ধি পাবে। বিশেষ করে ছোট অপারেটরগুলোর লোকসান আরও বাড়বে। বাজেটে মোবাইল সিম বা রিমকার্ড ব্যবহারের মাধ্যমে সেবার বিপরীতে সম্পূরক শুল্ক পাঁচ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১০ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। সম্পূরক শুল্ক পাঁচ শতাংশ বাড়ালে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে কেউ যদি ১০০ টাকার সেবা নিতে চান, তাহলে ৭৮ দশমিক ২৭ টাকার সেবা নিতে পারবেন। ২২ দশমিক ৭২ টাকা যাবে সরকারের পকেটে। এছাড়া সিমের ওপর কর দ্বিগুণ বাড়িয়ে ২০০ টাকা এবং মোবাইল কোম্পানির আয়ের ওপর টার্নওভার ট্যাক্স শূন্য দশমিক ৭৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে দুই শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। নতুন বাজেটে আমদানি শুল্ক বাড়ানোর প্রস্তাব আসায় বাড়তে যাচ্ছে স্মার্টফোনের দাম।
ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রয়াসের প্রতিবন্ধকতার বিবেচনায় সরকারকে টেলিযোগাযোগ খাতে প্রস্তাবিত বাজেট পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছে অ্যামটব। সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির মহাসচিব এসএম ফরহাদ বলেন, প্রস্তাবিত নতুন শুল্ক নীতিমালা বর্তমান ও নতুন গ্রাহকদের ওপর নতুন করে অতিরিক্ত খরচের বোঝা বাড়াবে।
তিনি বলেন, ‘মোবাইল ইন্ডাস্ট্রি সরকারের জন্য রাজহাঁস, এটি সোনার ডিম দেয়। বাজেট বক্তৃতায় রাজহাঁস থেকে পালক তোলার কথা বলা হয়েছে, রাজহাঁস যেন ব্যথা না পায়। এ খাত ছয় দশমিক দুই শতাংশ জিডিপিতে অবদান রাখছে। সরকার যে ঘোষণা দিয়েছে পালক তুলে শুধু ব্যথা দেওয়া নয়, মরণ দশা হয়েছে। এই রাজহাঁসকে সরকার যেন কোলে করে রাখে, যেন বেশি রেভিনিউ দিতে পারে।’
এসএম ফরহাদ বলেন, ‘দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্যি মোট আয়ের ওপর ন্যূনতম কর দুই শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। অবিবেচনাপ্রসূত হারে করহার বৃদ্ধি ও নতুন করে সম্পূরক শুল্ক আরোপ ফোরজি নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ ও ফাইভ-জি নেটওয়ার্ক স্থাপনের পুরো প্রক্রিয়াটিকেই হুমকির মুখে ফেলবে।’
আয়ের সঞ্চিতির ওপর আরোপিত ১৫ শতাংশ হারে করারোপ করায় তা পুঁজিবাজারে নিবন্ধিত বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় করপোরেট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে জানিয়ে ফরহাদ বলেন, ‘নতুন করে আরোপিত এই করের বোঝা কমিয়ে আনতে প্রতিষ্ঠানগুলো ন্যূনতম রিজার্ভে অতিরিক্তি লভ্যাংশ প্রদানে বাধ্য করবে, যা ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ কমিয়ে আনবে। আয়ের সঞ্চিতির ওপর করারোপ মূলত প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর দ্বৈত করারোপ করবে। যেহেতু ইতোমধ্যেই নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানগুলো ৪২ দশমিক পাঁচ শতাংশ হারে করপোরেট কর দিয়ে আসছে, নতুন করে আরোপিত করের ফলে প্রতিষ্ঠানগুলোকে অতিরিক্ত ১৫ শতাংশ কর প্রদান করতে হবে।’
সরকার দেশের অর্থনীতি ও ডিজিটাল বাংলাদেশের অবকাঠামোর মেরুদণ্ড হিসেবে বিবেচিত টেলিযোগাযোগ খাতকে সহায়তা করার স্থলে বরং প্রস্তাবিত কর ও শুল্ক কাঠামো আরোপের মাধ্যমে এ খাতটিকেই পঙ্গু করে দেবে বলে মনে করে অ্যামটব।
এসএম ফরহাদ বলেন, ‘বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) টেলিযোগাযোগ খাতের অবদান ছয় দশমিক দুই শতাংশের অধিক হলেও এ বিষয়টি সম্পূর্ণ রূপে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে প্রস্তাবিত বাজেটে। বর্তমানে টেলিযোগাযোগ খাতে পুরো বিশ্বের মাঝে বাংলাদেশে সর্বোচ্চ কর-ভারের বিষয়টি এখন সর্বজনবিদিত।’
অ্যামটব মহাসচিব বলেন, ‘মোবাইল সেবা খাতে পাঁচ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপের ফলে তা ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনে জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণকেই বাধাগ্রস্ত করবে। এছাড়া নতুন সিমকার্ড ও প্রতিস্থাপনের ওপর আরোপিত শুল্ক ১০০ থেকে ২০০ টাকা বৃদ্ধি করায় নতুন গ্রাহকদের খরচের বোঝা দ্বিগুণ হবে। এই খাতটি দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে ডিজিটাল বাংলাদেশের অংশ করে গড়ে তুলতে কাজ করে যাচ্ছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে প্রস্তাবিত বাজেটে সিমকার্ডের ওপর আরোপিত শুল্ক দ্বিগুণ করা ও অতিরিক্ত সম্পূরক শুল্ক আরোপ টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের গতিকে বাধাগ্রস্ত করবে।’ দেশের টেলিযোগাযোগ খাতকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সরকার প্রস্তাবিত বাজেট পুনর্বিবেচনা করবে বলে আশাবাদী মোবাইল অপারেটরদের সংগঠন অ্যামটব।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে রবির ম্যানেজিং ডিরেক্টর অ্যান্ড সিইও মাহতাব উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘আমাদের কোনো দাবি মানা হয় না, আরও বেশি ট্যাক্স ইমপোজ করা হয়েছে। অনেকে বলে প্রফিট করি কিন্তু দেখাই না, তবে কোনো অডিটে বের হয়নি আমরা টাকা পাচার করছি। আমাদের পাশে কেউ নেই কথা বলার, একমাত্র প্রেস (সংবাদমাধ্যম) ছাড়া।’
এ বছরের মতো ধাক্কা আগে কোনো বছরে হয়েছে কি না, রবির মার্জারের পর অনেক লস দিতে হয়েছে, এবার বছরের শুরুতে প্রফিট করা শুরু হয়েছিল, এভাবে চলতে থাকলে ররি আর প্রফিটে যেতে পারবে না লসে ঠেলে দেবে বলে জানান মাহতাব।
বাংলালিংকের চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স অফিসার তাইমুর রহমান বলেন, ‘যে ট্যাক্স এসেছে ছোট অপারেটর আরও বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে, সিমের ওপর যে অতিরিক্ত ট্যাক্স বসানো হয়েছে বড় প্রভাব ফেলবে।’
গ্রামীণফোনের হেড অব রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স সাদাত হোসেন ও টেলিটকের উপমহাব্যবস্থাক সাইফুল আলম সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

ট্যাগ »

সর্বশেষ..