বদলগাছীতে স্মার্টকার্ডের নামে প্রতারণা

শেয়ার বিজ প্রতিনিধি, নওগাঁ: নওগাঁর বদলগাছীতে স্মার্টকার্ড দেওয়ার নামে প্রতারণা করে গ্রামবাসীর কাছ থেকে আঙুলের ছাপ ও জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি সংগ্রহ করা হয়েছে। ছয় দিনে দুই ব্যক্তি উপজেলার বিলাশবাড়ী ইউনিয়নের হাজীপুর গ্রামের চার শতাধিক মানুষের কাছ থেকে এসব তথ্য সংগ্রহ করেন। পরে প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে গ্রামের কয়েকজন বদলগাছী থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। প্রতারকচক্র থেকে জনগণকে সতর্ক করতে উপজেলা
নির্বাচন অফিস থেকে এলাকায় মাইকিং
করা হয়েছে।
জানা যায়, গত ২৬ জুন উপজেলার হাজীপুর গ্রামে মোটরসাইকেলযোগে দুই ব্যক্তি এসে নিজেদের নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ের লোক বলে পরিচয় দেন। তারা গ্রামবাসীকে বলেন, সরকার থেকে স্মার্টকার্ড দেওয়া হবে। এ জন্য আঙুলের ছাপ ও জাতীয় পরিচয়পত্রে ফটোকপি লাগবে। এ কথা বলে ওই গ্রামের চার শতাধিক মানুষের আঙুলের ছাপ ও জাতীয় পরিচয়পত্রে ফটোকপি সংগ্রহ করেন। আঙলের ছাপ নিতে ওই প্রতারকচক্র দুটি আলাদা ট্যাব ব্যবহার করে। তিন দিন পর গ্রামের হাফিজুর রহমান বাবু বিষয়টি বদলগাছী উপজেলা নির্বাচন অফিসকে অবগত করেন। নির্বাচন কর্মকর্তা মুঠোফোনে ওই দুই ব্যক্তির সঙ্গে কথাও বলেন। কিন্তু নির্বাচন কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে পৌঁছার আগেই সেখান থেকে চলে যান। পরে প্রতারণার বিষয়টি ফাঁস হয়। এ নিয়ে গ্রামবাসীর মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
গ্রামের জিয়াউর রহমান, রশিদুল ও তোজাম্মেলসহ কয়েকজন জানান, সরকার থেকে স্মার্টকার্ড দেওয়ার নামে তাদের আঙুলের ছাপ ও জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি সংগ্রহ করে ওই প্রতারকচক্র। বিষয়টি নির্বাচন অফিসে জানালে তারা সটকে পড়ে। এগুলো নিয়ে তাদের অপরাধমূলক কোনো কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়ানো হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা শফি উদ্দীন শেখ জানান, বিষয়টি জানার পর চক্রটিকে আটকাতে বলেছিলাম কিন্তু তারা পালিয়ে যায়। ওই দুই ব্যক্তির একজন মুঠোফোনে তাকে জানিয়েছেন তার নাম মামুন। বাড়ি বগুড়ার কাহালুতে। নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ের নজরুল ইসলাম তাদের পাঠিয়েছেন বলে জানান। এলাকাবাসীকে সচেতন করতে মাইকিং করা হয়েছে।
বদলগাছী থানার ওসি জালাল উদ্দীন জানান, বিষয়টি নিয়ে হাজীপুর গ্রামের কয়েকজন ভুক্তভোগী থানায় জিডি করেছেন। চক্রটি সংগৃহীত আঙুলের ছাপ ও জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর দিয়ে মুঠোফোনের সিম তুলে তা দিয়ে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিষয়টির খোঁজ -খবর করা হচ্ছে।