বন্দরকেন্দ্রিক উন্নয়ন ভাবনার সময় এখনই

জাফর আলম: প্রকৃতির আশীর্বাদে জালের মতো ছড়ানো নদী আর অপার সমুদ্র সম্ভাবনায় পুষ্ট বাংলাদেশ। নৌ-চলাচল উপযোগী ছয় হাজার কিলোমিটার নৌপথের পাশাপাশি ৭১০ কিলোমিটার দীর্ঘ উপকূলরেখা রয়েছে আমাদের। চট্টগ্রাম ও মোংলা, দুটি আন্তর্জাতিক সমুদ্র বন্দর আছে। এসব বন্দরের মাধ্যমে মোট বাণিজ্যের আয়তন ভিত্তিতে ৮৭ শতাংশ এবং মূল্যমান ভিত্তিতে ৯৭ শতাংশ সম্পাদন হচ্ছে। জাতীয় প্রবৃদ্ধির সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত এসব বন্দরের সাফল্য। জাতীয় প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে হলে বন্দরের প্রবৃদ্ধি অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে।
২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত বিশ্বের কাতারে উন্নীত হওয়ার লক্ষ্য সামনে রেখে এগিয়ে চলেছে বাংলাদেশ। এ অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনে অবতীর্ণ হতে পারে দেশের উপকূলীয় সম্ভাবনা এবং বন্দর খাত। চট্টগ্রাম বন্দরের সম্প্রসারণের জন্য তৈরি কৌশলগত মহাপরিকল্পনায়ও আগামী দিনে দেশের কনটেইনার প্রবৃদ্ধি সম্পর্কে ভবিষ্যদ্বাণী করে বলা হয়েছে, ২০৪৩ সাল নাগাদ আমাদের বন্দরের কনটেইনার হ্যান্ডলিং চাহিদা হবে ১২৪ মিলিয়ন টন কার্গো এবং ১০ মিলিয়ন টিইইউ।
বাংলাদেশের বর্তমান প্রবৃদ্ধি সাত দশমিক ২৮ শতাংশ এবং সাক্ষরতার হার ৭২ ছাড়িয়ে। জিডিপি অতিক্রম করেছে ২৭৩ বিলিয়ন ডলার, গড় আয়ুষ্কাল বেড়ে হয়েছে ৭২ বছর। ইন্টারনেট কানেক্টিভিটিতে সার্ক দেশগুলোয় শীর্ষে রয়েছে বাংলাদেশ। দেশের প্রায় ৫০ শতাংশ নাগরিক ২৪ ঘণ্টা সংযুক্ত থাকতে পারছেন ইন্টারনেটের সঙ্গে।
চট্টগ্রাম বন্দরের অব্যাহত প্রবৃদ্ধি থেকে ধারণা করা যায়, শিগগিরই দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম ব্যস্ত বন্দর হিসেবে আত্মপ্রকাশ ঘটবে তার। এর আছে অনন্য ভৌগোলিক অবস্থানের সুবিধা যাকে কাজে লাগিয়ে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যে এবং চীনের হিন্টারল্যান্ডেও বন্দরসেবা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব। এ দুটি দেশেরও আগ্রহ রয়েছে এ ব্যাপারে।
বন্দরকেন্দ্রিক উন্নয়ন অভিযানকে সহায়তা দিতে ইতোমধ্যে অনেকগুলো প্রকল্প চালু হয়েছে বা চালু হতে যাচ্ছে শিগগিরই। এগুলো হচ্ছেÑ
ক. বর্তমান জেনারেল কার্গো বার্থের স্থলে কর্ণফুলী কনটেইনার টার্মিনালে ব্যাকআপ সুবিধাসহ নির্মাণ হবে দুই হাজার ৩০০ মিটার দীর্ঘ বার্থ এবং বড় প্রকল্পগুলোয় সহায়তা দেওয়ার জন্য একটি ভারী ইকুইপমেন্ট জেটি।
খ. ৭৫০ মিটার জেটিসহ পতেঙ্গা কনটেইনার
টার্মিনাল নির্মাণ।
গ. পিপিপির আওতায় এক কিলোমিটার দীর্ঘ জেটিসহ লালদিয়া মাল্টিপারপারাস টার্মিনাল।
ঘ. বে টার্মিনাল চট্টগ্রাম বন্দরের প্রাধিকারভুক্ত প্রকল্প। ২০২১ সালের ভেতর প্রথম পর্ব এবং ২০২৫ সালের ভেতর দ্বিতীয় পর্বের কাজ শেষ হবে। এর দৈর্ঘ্য হবে ২০০-২৫০ মিটার এবং ড্রাফট ১২ মিটার।
ঙ. মিরসরাই এসইজেডের সুবিধার্থে সীতাকুণ্ডু-মিরসরাই টার্মিনাল নির্মাণ।
চ. সমুদ্র ভ্রমণ এবং উপকূলীয় পর্যটনের অংশ হিসেবে উপকূলীয় বিনোদন সুবিধা বাড়ানো হবে নির্মিতব্য টার্মিনাল ও জেটিগুলোর মাধ্যমে।
ছ. মূল ভূখণ্ডের পাশাপাশি বন্দরের সঙ্গে যোগাযোগ উন্নয়নে দুই স্তরের বহুমাত্রিক ছয় দশমিক ১৫ কিলোমিটার পদ্মা সেতু নির্মাণ।
জ. কর্ণফুলী নদীর তলদেশে তিন দশমিক পাঁচ কিলোমিটার দীর্ঘ টানেল নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে, যা বিগ-বি বেল্টকে (ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার)
সংযুক্ত করবে।
ঝ. বিদ্যমান সড়কপথে যানজট কমানো এবং ঢাকা-চট্টগ্রামের মধ্যে বাণিজ্যপ্রবাহ গতিশীল করার লক্ষ্যে একটি নতুন এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ করা হচ্ছে।
ঞ. ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলওয়ে ডাবল ট্র্যাক, আখাউড়া-লাকসাম বিদ্যমান রেললাইনের আধুনিকায়ন এবং দ্বিতীয় একটি রেললাইন নির্মাণ।
ট. কক্সবাজার-দোহাজারী-গুনদুম রেলসংযোগের মাধ্যমে পর্যটনের সুযোগ বৃদ্ধিসহ মহেশখালী ও মাতারবাড়ী ঘিরে শিল্পগুচ্ছ এবং আগামীতে মিয়ানমার ও চীনের সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধি।
ঠ. ঢাকা এবং পায়রা বন্দরের মধ্যে ২৪০ কিলোমিটার রেললাইন নির্মাণের লক্ষ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর।
ড. ৪৫২ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ে নির্মিত হচ্ছে ৬৭ দশমিক সাত কিলোমিটার মোংলা-খুলনা ব্রডগেজ রেলসংযোগ প্রকল্প, যা নেপাল ও ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের পণ্য পরিবহন সহজ করবে।
ঢ. দেশজুড়ে শতাধিক ইজেড, এসইজেড ও ইপিজেড নির্মাণের পরিকল্পনা করেছে সরকার। এ রূপকল্প থেকে গঠন করা হয়ে বাংলাদেশ ইকোনমিক জোন অথরিটি (বেজা)। সংস্থাটি জমি অধিগ্রহণ, কর ও ব্যবসা প্রক্রিয়া সহজীকরণের লক্ষ্যে কাজ করছে। ওপেন ডোর পলিসির আওতায় এর লক্ষ্য দেশি-বিদেশি সব ধরনের বিনিয়োগ আকর্ষণ করা।
ণ. মাতারবাড়ীতে বহুমুখী সমুদ্রবন্দর সুবিধাসহ কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র নির্মিত হচ্ছে।
ত. জ্বালানি খাতে পাঁচটি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের জন্য ১১ হাজার ৭৬১ একর ভূমি, এলএনজি, এফএসআরইউ (ফ্লোটিং স্টোরেজ রিগ্যাস্টিফিকেশন ইউনিট), এসপিএম (সিঙ্গল পয়েন্ট মুরিং), গোন্ডারামা পাওয়ার প্লান্ট প্রভৃতির জন্য ৮০০ একর ভূমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে।
বন্দরকেন্দ্রিক উন্নয়নে চ্যালেঞ্জ
উন্নয়ন একটি বহুমুখী প্রক্রিয়া ও কার্যক্রম। এর সঙ্গে রয়েছে বহুপক্ষের সংশ্লিষ্টতা। অতএব দেশের উন্নয়ন সুষ্ঠু এবং সুষম করতে চাইলে এ উন্নয়ন অভিযাত্রায় অংশগ্রহণকারী সব পক্ষের পক্ষে সুসমন্বয় থাকা অপরিহার্য। উন্নয়ন পরিকল্পনায় সব পক্ষের মধ্যে এই সমন্বয় প্রতিষ্ঠা করাই আমাদের সামনে এ মুহূর্তের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। আমাদের উৎপাদনমুখী শিল্পাঞ্চলের সঙ্গে নৌ-পরিবহন শিল্পের সিনার্জি থাকা জরুরি। উদাহরণস্বরূপ, পণ্য প্রস্তুতকারী হিন্টারল্যান্ডের সঙ্গে আমাদের বন্দরগুলোর গড় দূরত্ব ২০০ থেকে ৩০০ কিলোমিটার। বন্দরের কাছাকাছি শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলা গেলে এই লজিস্টিক ব্যয় অনেক কমিয়ে আনা সম্ভব। ঢাকা থেকে পণ্য পরিবহনে সড়ক কিংবা রেলপথের চেয়ে নৌপথের ব্যয় বহুলাংশে কম হলেও ব্যবসায়ীদের মাঝে এখনও জনপ্রিয় হয়ে উঠতে পারেনি নৌপথ। এক্ষেত্রে সরকারেরও রয়েছে পূর্ণ সদিচ্ছা। নৌপথ ব্যবহারে ব্যবসায়ীদের আগ্রহ বাড়াতে পানগাঁওয়ের ট্যারিফ কোনো কোনো ক্ষেত্রে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত কমানো হয়েছে। জাহাজ মালিক এবং এমএলওরাও ফ্রেইট রেট এবং ইনল্যান্ড হলেজ চার্জ কমিয়ে দিয়েছে আরও প্রায় ৫০ শতাংশ।
কনটেইনার পরিবহনে রেলের দক্ষ ব্যবহার আরও বাড়ানো সম্ভব। বর্তমানে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী কনটেইনারের ৯৫ শতাংশ পরিবাহিত হচ্ছে সড়কপথের মাধ্যমে, রেলপথে হচ্ছে মাত্র চার শতাংশের মতো। এ প্রবণতা বদলাতে কমলাপুর আইসিডির জনপ্রিয়করণের পাশাপাশি ঢাকা নগরের অভ্যন্তরে সড়কপথে পণ্য পরিবহন কমাতে গাজীপুরের ধীরাশ্রমে একটি আইসিডি নির্মাণ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। পোশাকশিল্প, পাট ও পাটজাত পণ্য, চামড়া এবং সার শিল্পের সঙ্গে বন্দরের শক্তিশালী যোগাযোগ থাকা আবশ্যক। এছাড়া যেসব প্রকল্পের কাজ অনতিবিলম্বে বাস্তবায়ন প্রয়োজন, তার মধ্যে রয়েছে চট্টগ্রাম বন্দরের এক কিলোমিটার ভেতরে সিজিপিওয়াইএ-এর এক বর্গকিলোমিটার অব্যবহৃত জমিতে একটি অফডক কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণ, খানপুর আইসিটি নির্মাণ, আখাউড়া-লাকসাম ডাবল ট্র্যাক রেলওয়ে নির্মাণ, ঢাকা-চট্টগ্রাম এক্সপ্রেসওয়ে ও মহেশখালী-মাতারবাড়ীসহ বে টার্মিনালের সঙ্গে সড়ক ও রেলসংযোগ প্রতিষ্ঠা। তবে এসব কাজে নামার আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিটি পক্ষ, যেমন বাংলাদেশ রেলওয়ে, সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগ এবং বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের মধ্যে কার্যকর সুসমন্বয় নিশ্চিত করা অপরিহার্য।
এসইজেড, স্মার্ট সিটি ও উপকূলীয় জীবনমান উন্নয়ন
আমরা নদীমাতৃক এবং পলিজমিনসমৃদ্ধ কৃষিনির্ভর একটি দেশ। নদ-নদী আর সবুজে মোড়ানো এ দেশে খাদ্যশস্য, পাট ও পাটজাত দ্রব্য, চা প্রভৃতি কৃষিজাত পণ্য চিরকাল আমাদের প্রধান উৎপাদন। উনিশ ও বিশ শতকের মাঝে শিল্পোৎপাদনের প্রাথমিক অবকাঠামো তৈরি হয়েছে আমাদের এখানে। পরে কৃষির পাশাপাশি পোশাক এবং অন্যান্য শ্রমঘন শিল্পের ব্যাপক বিকাশ ঘটে। শিক্ষার প্রসার ঘটে। তৈরি পোশাকশিল্প আবির্ভূত হয় জাতীয় প্রবৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে। জিডিপিতে বর্তমানে কৃষির অবদান ১৫ এবং শিল্প খাতের অবদান প্রায় ৩০ শতাংশ। পাশাপাশি জিডিপির আরেকটি বড় উৎস বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কর্মরত প্রায় এক কোটি বাঙালির পাঠানো রেমিট্যান্স।
বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার ২৮ শতাংশ বা প্রায় তিন কোটির ওপর মানুষ বসবাস করছেন ১৯টি উপকূলীয় জেলায়, যা দেশের মোট আয়তনের ৩২ শতাংশ। বন্দরকেন্দ্রিক উন্নয়ন ভাবনার গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ এই উপকূলীয় সম্ভাবনার সদ্ব্যবহার করা, এর মধ্য দিয়ে এখানকার জনগণের জীবনমান উন্নয়ন। উপকূলীয় অঞ্চলে নতুন বন্দর নির্মাণের পাশাপাশি চীন আর ভারতের অনুরূপ, বন্দরের নিকটবর্তী শিল্পাঞ্চল এবং স্মার্ট সিটি গড়ে তোলা সম্ভব। এসব প্রকল্পে বিপুল মানুষের কর্মসংস্থান হবে, যার সুবাদে মানবসম্পদ সূচক থাকবে ঊর্ধ্বমুখী। পর্যটন খাতে বিনোদন সুবিধা, ইকো ট্যুরিজম এবং সমুদ্র বিহার হতে পারে আয়ের শক্তিশালী উৎস। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের লক্ষ্যে বন্দর, নৌপথ এবং সংযোগ প্রকল্পগুলো পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি), ডিজাইন-বিল্ড-ফাইন্যান্স-অপারেট-অ্যান্ড-ট্রান্সফার (ডিবিএফওটি), এফডিআই কিংবা বিশ্বব্যাংক বা এডিবি ঋণ কর্মসূচির আওতায় সম্পাদিত হতে পারে। বন্দরগুলোকে গুচ্ছ শিল্পাঞ্চল হিসেবে গড়ে তোলা যেতে পারে, জ্বালানি গুচ্ছ (কয়লা, এলএনজি প্রভৃতি), বাল্ক গুচ্ছ (স্টিল, সিমেন্ট) এবং ম্যানুফ্যাকচারিং, যেমন তৈরি পোশাকশিল্প, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ কিংবা চামড়া শিল্প।
বন্দরকেন্দ্রিক উন্নয়নের এখনই উত্তম সময়
বাংলাদেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে বন্দরকেন্দ্রিক উন্নয়ন ভাবনা একটি ৩৬০ ডিগ্রি সমাধান। উন্নত দেশে উন্নীত হতে চাইলে আমাদের প্রবৃদ্ধি আটের কোটায় পৌঁছাতে হবে দ্রুততম সময়ে। এ কারণে সামগ্রিক উৎপাদনে গতিশীলতা আনতে আন্তরিক সচেষ্ট রয়েছে সরকার ও সংশ্লিষ্ট সবাই। এমনকি ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠা বঙ্গোপসাগরের ভূরাজনৈতিক অবস্থানও এই বন্দরকেন্দ্রিক উন্নয়ন প্রক্রিয়া তথা দেশের অর্থনীতির দ্রুত বিকাশে ভূমিকা রাখবে।
এ উদ্যোগকে সার্থক করতেই অনিবার্য বন্দরকেন্দ্রিক উন্নয়ন। বিরাজমান বন্দর আধুনিকায়নের পাশাপাশি পরিবহন অবকাঠামো এবং হিন্টারল্যান্ড সংযোগ বাড়ানোটাই এ ভাবনার মূল স্তম্ভ। জাতীয় প্রবৃদ্ধি বাড়াতে, শিল্পায়ন বাড়াতে এবং উন্নয়ন এগিয়ে নিতে বন্দর খাতকে এখনই আমাদের সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করতে হবে। দীর্ঘমেয়াদি সুফল পেতে চাইলে বন্দরকে কেন্দ্রে রেখে প্রতিটি উন্নয়ন পরিকল্পনা করতে হবে। পরিকল্পনায় গুরুত্ব দিতে হবে পরিবেশ সুরক্ষার বিষয়টি এবং একই সঙ্গে উন্নয়নসংশ্লিষ্ট প্রতিটি বিভাগের মধ্যে নিখুঁত সমন্বয় নিশ্চিত করতে হবে। বিচ্ছিন্ন বিন্দুগুলো জোড়া দিয়ে একটি অর্থবহ রেখা দৃশ্যমান করে তুলতে হবে।
আগামী দিনের জন্য উৎপাদনমুখী সমাজ বিনির্মাণে বন্দরকেন্দ্রিক উন্নয়ন এগিয়ে নেওয়ার এখনই উত্তম সময়। (শেষ)

সদস্য (প্রশাসন ও পরিকল্পনা)
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ