বন্ধ হওয়ার পথে নীলফামারী জাদুঘর

তৈয়ব আলী সরকার, নীলফামারী: নীলফামারী জাদুঘরটি (মিউজিয়াম) স্থানস্বল্পতা, জনবল সংকট ও অর্থাভাবে বন্ধ হতে বসেছে। ১৯৫৮ সাল থেকে জেলা প্রশাসকের পরিত্যক্ত একটি কক্ষে শত বছরের পুরোনো কষ্টিপাথরের মূর্তি, তালপাতায় লেখা রামায়ণ, মহাভারত ও হারিয়ে যাওয়া পুঁথিসহ মূল্যবান প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন নিয়ে পরিচালিত হয়ে আসছে জাদুঘরটি। নীলফামারীবাসী জাদুঘরটিকে জাতীয়করণ করে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষার দাবি জানিয়েছেন।
১৯৫৮ সাল থেকে জাদুঘরটির কার্যক্রম শুরু হলেও এটি পরিপূর্ণতা লাভ করে ১৯৮৩ সালে। শহরের জেলা প্রশাসক চত্বরে এসডিওর একটি পরিত্যক্ত ঘরে অস্থায়ীভাবে জাদুঘরটি স্থাপন করা হয়। জাদুঘরটির প্রতিষ্ঠাতা এটিএম মজিবর রহমান বলেন, ২০০০ সালে এটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন তৎকালীন জেলা প্রশাসক এবিএম কামরুল ইসলাম।
তিনি বলেন, আমার স্বপ্ন ছিল প্রাচীনকালের হারিয়ে যাওয়া ঐতিহাসিক (জিনিস) নিদর্শনগুলো জাদুঘরে ধরে রেখে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা। কিন্তু অর্থনৈতিক অভাব ও জনবল সংকটের কারণে এটা সম্ভব হয়ে ওঠেনি।
জাদুঘরে ছয় হাজার বছরের প্রচীন মরমর পাথর, টরেটক্কা মেশিন, কেরোসিনচালিত ফ্যান, তালপাতার পুঁথি, প্রথম দিককার জিপগাড়ি, প্রাচীন যুগের হারিকেন, ৬০ কেজি ওজনের পানির বোতল, রংপুরের মহারাজা জিএল রায়ের চাদর, প্রাচীন যুগের তালা, হাজার বছরের শালকাঠের সাম্পান নৌকা, ১৯৫৭ সালের আওয়ামী লীগের ব্যানার ও ছয় দাঁতবিশিষ্ট জিহ্বা-সংযুক্ত শানপাথরের মূর্তিসহ আরও অনেক প্রাচীন জিনিসপত্র রয়েছে।
এছাড়া প্রথম খলিফা হজরত আবু বক্কর সিদ্দিক (র.)-এর হস্তলিপি, আরবি, ফার্সি ও বাংলা লেখায় ভূমির দানপত্র, অখণ্ড ভারতের ম্যাপ, রাজকীয় জরির পোশাক প্রভৃতি সংরক্ষিত আছে।
জাদুঘরের কেয়ারটেকার রতন কুমার রায় বলেন, জাদুঘরটি রক্ষাণাবেক্ষণের জন্য তিন স্টাফ আছেন। এর মধ্যে অফিস সহকারী একজন, কেয়ারটেকার একজন ও প্রধান দায়িত্বে রয়েছেন একজন। তারা সবাই বিনা বেতনে স্ব-উদ্যোগে ২০০০ সাল থেকে কাজ করে আসছেন।
জাদুঘরের প্রতিষ্ঠাতা এটিএম মজিবুর রহমান বলেন, প্রসার ও প্রচারের অভাবে নীলফামারীর প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত জাদুঘরটির কথা অনেকেই জানে না। জাদুঘরটি অন্যস্থনে সরিয়ে নিয়ে গেলে অসংখ্য দর্শনার্থী হবে।
এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক নাজিয়া শিরিন বলেন, সদর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও সফল সাবেক সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূরের সহযোগিতায় জাদুঘরটি জাতীয়করণ করার পরিকল্পনা রয়েছে। ইতোমধ্যে এটি স্থানান্তরের জন্য নীলফামারীর বিনোদন কেন্দ্র নীল সাগর (বিন্নাদিঘি) পারে প্রতিষ্ঠিত করার প্রক্রিয়া চলছে। জেলায় বিনোদনের অনেক ব্যবস্থা থাকলেও প্রাচীন এই জিনিসপত্র সংরক্ষণের তেমন কোনো ব্যবস্থা নেই। তাই জাদুঘরটি সংরক্ষণের জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এ ব্যাপারে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।