হোম সম্পাদকীয় বন্ধ হোক অপারেটরদের প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড

বন্ধ হোক অপারেটরদের প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড


Warning: date() expects parameter 2 to be long, string given in /home/sharebiz/public_html/wp-content/themes/Newsmag/includes/wp_booster/td_module_single_base.php on line 290

গতকাল ‘বিভিন্ন অফারে প্রতারণা মোবাইল ফোন অপারেটরদের’ শিরোনামে শেয়ার বিজে প্রকাশিত খবর একটি পরিচিত সমস্যাকে তুলে ধরেছে। মোবাইল ফোন ব্যবহার করেনÑএমন অধিকাংশ মানুষ প্রায়ই অপারেটরদের প্রতারণার শিকার হচ্ছেন, যা অপ্রত্যাশিত। নেটওয়ার্ক কোম্পানিগুলোর কৌশলের ফাঁদে পড়ে আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি বিড়ম্বনায়ও পড়ছেন তারা। অথচ চলমান সমস্যা নিরসনে এখনও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ গৃহীত হয়নি।

মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীদের অনেকেই নিরক্ষর, স্বল্পশিক্ষিত বা বৃদ্ধÑযারা নানারকম অফারে আগ্রহী নন বা অপারেটরদের কৌশল বুঝতে অক্ষম। ফলে ভুলবশত বা নিজের অজান্তেই প্রতি মাসে আর্থিক ক্ষতি গুনতে হচ্ছে তাদের। সেক্ষেত্রে কাস্টমার সার্ভিসে ফোন করে বা গিয়ে অভিযোগ করাও সম্ভব হয় না অনেকের পক্ষে। অভিযোগ প্রক্রিয়া খরচসাধ্য হওয়ায় সমস্যাগুলো এড়িয়ে যান একশ্রেণির গ্রাহক। অনেক সময় প্যাকেজ অফারের ভাষায় ইচ্ছাকৃত অস্পষ্টতা রাখা হয়। ফলে গ্রাহক না বুঝেই অপ্রয়োজনীয় অফার নিয়ে বসেন বা অফার চালু হয়ে গেলেও টের পান না। শিক্ষিত ও সচেতন গ্রাহকও যে অভিযোগ করে সব ক্ষেত্রে সমাধান পাচ্ছেন, তা নয়। এসব বিষয় নেটওয়ার্ক কোম্পানিগুলোর বিবেচনায় আনতে হবে। তাদের ব্যবসায়িক নৈতিকতা ভুলে গেলে চলবে না। প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে দীর্ঘ মেয়াদে গ্রাহকের আস্থা ধরে রাখা যায় নাÑএটিও তাদের অনুধাবন করা উচিত।

বর্তমানে নেটওয়ার্ক কোম্পানিগুলোর প্রচারণা লক্ষ করলে ফোনকলের চেয়ে ইন্টারনেট প্যাকেজের ব্যবসাই তাদের জন্য বেশি লাভজনক বলে মনে হয়। দফায় দফায় বিভিন্ন প্যাকেজের সঙ্গে ফ্রি ডেটা অফার সংবলিত বার্তা পাঠানোর মাধ্যমে গ্রাহককে প্রলুব্ধ করার প্রতিযোগিতা চলছে। এটি গ্রাহকের জন্য বিরক্তিকরও বটে। অথচ বারবার অভিযোগ করা হলেও নেটওয়ার্ক কোম্পানিগুলো এসব বিষয় আমলে নিচ্ছে না। গ্রাহকের এ ভোগান্তির দায় রেগুলেটরি অথরিটির ওপরও বর্তায়। তাদের মূল দায়িত্বই হলো গ্রাহকের স্বার্থহানি হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখা ও কোম্পানির দৌরাত্ম্য নিয়ন্ত্রণ। স্পষ্টতই বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) এ কাজে সফলতা দেখাতে পারেনি। বিশেষত কোম্পানিগুলোর ভ্যালু অ্যাডেড সার্ভিসের (ভাস) সব কার্যক্রমই নিয়ন্ত্রণহীন। এ সুযোগে একদিকে তারা গ্রাহকের কাছ থেকে বাড়তি মুনাফা হাতিয়ে নিচ্ছে, অন্যদিকে সরকারকে বঞ্চিত করছে রাজস্ব থেকে।

অবশ্য ইতোমধ্যে ভাস প্রোভাইডার নিবন্ধনের উদ্যোগ নিয়েছে বিটিআরসি, যা আশাব্যঞ্জক। এ পর্যায়ে গ্রাহকবান্ধব ভাস নীতিমালা প্রণয়ন করে নিয়ন্ত্রক সংস্থার কড়া নজরদারির মাধ্যমে গ্রাহকের অধিকার নিশ্চিত করা হবে বলে আমরা আশা করবো। গ্রাহককেও সচেতন হয়ে উঠতে হবে। গণমাধ্যমও এ-বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করতে পারে। মোবাইল ফোন অপারেটরদের চাতুর্যপূর্ণ কর্মকাণ্ড জনসমক্ষে তুলে ধরে কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা তার দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে। তবে প্রধান দায়িত্ব নিতে হবে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসিকে।