বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ রক্ষায় সময়মতো ব্যবস্থা নিন

 

গতকাল শেয়ার বিজের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্রহ্মপুত্র নদের ৭৮ কিলোমিটার দীর্ঘ বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের ৫০ কিলোমিটারই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এর আশপাশের অধিবাসীরা বর্ষা মৌসুম সামনে রেখে শঙ্কার মধ্যে দিনাতিপাত করছেন। অথচ দীর্ঘদিন ধরেই বাঁধটির বিষয়ে অবগত থাকা সত্ত্বেও কর্তৃপক্ষ স্থায়ী কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। যখন ভাঙন দেখা গেছে, তখন সেগুলো সাময়িকভাবে মেরামতের চেষ্টাই কেবল করা হয়েছেÑযেটা একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়।
ব্রহ্মপুত্র নদের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের এ দশা অবশ্য একটি উদাহরণ মাত্র। বাংলাদেশে এমন বাঁধের সংখ্যা অনেক। এগুলোর আশপাশে অসংখ্য মানুষের বসবাস। সেখানেই তারা জীবিকার অবলম্বনগুলো খুঁজে নেয়। কিন্তু প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে তাদের একটি বড় অংশ বন্যার কবলে পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। গত বছরের বন্যার সময়ও আমরা তা দেখেছি। কৃষিকাজসহ আশপাশের অধিবাসীদের কিছু কর্মকাণ্ডও বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কারণ। তবে সময় থাকতে বাঁধগুলো ভালোভাবে সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ করা গেলে এমন পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব বৈকি।
বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধগুলো প্রতি বছরই বর্ষায় কোনো না কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তখন এগুলো বালির বস্তা, বাঁশ-কাঠ বা মাটি দিয়ে সাময়িকভাবে সংস্কারের চেষ্টা করা হয়। স্থায়ী ব্যবস্থা নিতে দেখা যায় কমই। এতে অর্থ ব্যয়ও হয়ে পড়ে একরকম অর্থহীন। ব্রহ্মপুত্র নদের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধটির এমন দশা হওয়ার পর তা রক্ষায় ৩০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে বলে পানি উন্নয়ন বোর্ড জানাচ্ছে। তবে প্রকল্পটি এখনও দরপত্র প্রক্রিয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ। ইতোমধ্যে বৃষ্টি শুরু হয়েছে। ভরা বর্ষা শুরু হতে বেশি বাকি নেই। এ অল্প সময়ে বাঁধটি পুরোপুরি সংস্কার করা সম্ভব বলে মনে হয় না। দেশে এ ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া জটিল আর সময়সাপেক্ষও। এছাড়া এসব প্রকল্প কোনোভাবে শেষ করা হলেও পরে তার রক্ষণাবেক্ষণ হয় না। বাঁধগুলো যত ভালোভাবেই তৈরি হোক, তা সঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করা না গেলে বেশিদিন টিকবে না। বাঁধসহ নানা অবকাঠামো নির্মাণ নিয়েও বড় প্রশ্ন রয়েছে। অনেক স্থানে বাঁধ নির্মাণের কিছুদিনের মধ্যেই তা ধসে পড়তে দেখা যায়। নদী দখল করে সংকুচিত করে ফেলাও বাঁধগুলো বেহাল হওয়ার অন্যতম কারণ।
মোট কথা, এ ধরনের বাঁধ নির্মাণে সময়মতো পদক্ষেপ নিতে হবে। সাময়িক ব্যবস্থা এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ ঘটাতে পারবে না। কোনো কারণে বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হলে পরবর্তী বর্ষা মৌসুম শুরুর আগেই এ বিষয়ে স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি তা রক্ষণাবেক্ষণে দৃষ্টি দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে আমলাতান্ত্রিক জটিলতাও কমিয়ে আনা প্রয়োজন। প্রয়োজনে বাঁধ নির্মাণ কৌশলেও পরিবর্তন আনতে হবে। অন্যথায় বাঁধগুলো রক্ষা এবং তা কাজে লাগানো কঠিন হয়ে পড়বে। আর এতে সাধারণ মানুষই ক্ষতিগ্রস্ত হবে বেশি। আমরা চাই, সরকার এখন থেকেই এ-সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করুক।