বস্ত্র খাতে ঝুঁকছেন বিনিয়োগকারীরা

মুস্তাফিজুর রহমান নাহিদ: পুঁজিবাজারের সবচেয়ে শক্তিশালী ব্যাংক খাতে দৈন্য দশা চলছে দীর্ঘদিন থেকে। একযোগে কমছে এই খাতের প্রায় সব প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর। ভালো নেই বিমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অবস্থাও। অন্যান্য খাতের অবস্থাও তাই। এ অবস্থায় নিজেদের পোর্টফলিওতে পরিবর্তন আনছেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান ছেড়ে তারা ঝুঁকছেন অন্য খাতের শেয়ারে। এই দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে বস্ত্র খাত।
পুঁজিবাজারসংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, জুন ক্লোজিংয়ের কারণে অন্য খাত ছেড়ে বস্ত্র খাতের দিকে ঝুঁকছেন বিনিয়োগকারীরা। লভ্যাংশ মৌসুমে তারা এ খাত থেকে মুনাফা তুলতে চান। তাদের অভিমত, বস্ত্র খাতের প্রতি আগ্রহী হওয়ার কারণ ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শেয়ারে বিনিয়োগ করে তারা লাভবান হতে পারছেন না। পক্ষান্তরে গত বছর এসব খাত থেকে সন্তোষজনক লভ্যাংশ পাননি বিনিয়োগকারীরা। সেই তুলনায় বস্ত্র খাত থেকে ভালো রিটার্ন পেয়েছেন তারা। এ বছর সেই প্রত্যাশায় বিনিয়োগের ক্ষেত্র হিসেবে বস্ত্র খাতকে বেছে নিয়েছেন।
সংশ্লিষ্টদের মতে, বস্ত্র খাতে বিনিয়োগ বাড়ার আরেকটি উল্লেখযোগ্য কারণ হচ্ছে এই খাতের অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারদর অনেক কম। এসব শেয়ার থেকে লভ্যাংশ নিয়ে বেশি মুনাফা করা যায়, যে কারণে এসব শেয়ারদর বাড়ছে।
প্রাপ্ত তথ্যমতে, সম্প্রতি বস্ত্র খাতে লেনদেন প্রতিদিনই বাড়ছে। ডিএসইতে লেনদেন হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে বেশিরভাগ সময়ই এগিয়ে থাকছে এ খাত। গতকালও এর ব্যতিক্রম ছিল না। গতকাল মোট লেনদেনের ২১ শতাংশ ছিল এই খাতের অবদান। এই খাতের তালিকাভুক্ত ৫০ কোম্পানির মধ্যে দর বৃদ্ধি পায় ৩২টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের। পক্ষান্তরে দর কমে ১৫টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের। বাকি প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ারদর অপরিবর্তিত ছিল। আগের কার্য দিবসে এই খাতের অবদান ছিল মোট লেনদেনের ২৪ শতাংশ।
এই খাতে বিনিয়োগ প্রসঙ্গে শহিদুল ইসলাম নামে এক বিনিয়োগকারী বলেন, বস্ত্র খাতের অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারদর অনেক কম। সে অনুযায়ী বিগত বছরগুলোর লভ্যাংশ প্রদানের হার সন্তোষজনক। সামনে এসব কোম্পানির লভ্যাংশ প্রদানের মৌসুম। তাই অন্য খাত থেকে অর্থ তুলে এনে বস্ত্র খাতে বিনিয়োগ করেছি। কারণ স্বল্প দরে শেয়ারে বিনিয়োগে তুলনামূলকভাবে ঝুঁকি কম।
এদিকে বিষয়টি নিয়ে কথা বললে তারা ব্যাংক খাতের অস্থিরতাকে দায়ী করেন। তাদের অভিমত, পুঁজিবাজারে ব্যাংক এবং আর্থিক খাতের অবদান ৩০ শতাংশ। কিন্তু দীর্ঘদিন থেকে এই খাতে অস্থিরতা চলছে, যে কারণে এসব খাতে বিনিয়োগ করে আস্থা পাচ্ছেন না ভুক্তভোগীরা। তাই এ খাত ছেড়ে তারা অন্য খাতে ঝুঁকছেন।
এ প্রসঙ্গে মডার্ন সিকিউরিটিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক খুজিস্তা-নূর-ই নাহারিন শেয়ার বিজকে বলেন, সাত-আট মাস ধরে ব্যাংক খাতে এক ধরনের অস্থিরতা কাজ করছে। এখানে বিনিয়োগ করে লাভের চেয়ে লোকসানি হচ্ছেন বেশিরভাগ বিনিয়োগকারী। যে কারণে তারা এই খাত ছেড়ে বস্ত্র প্রকৌশলসহ অন্যান্য খাতে ঝুঁকছেন, যার প্রভাবে এসব খাত চাঙা হচ্ছে। তিনি বলেন, বিনিয়োগকারী ভিন্ন ভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন খাতে বিনিয়োগ করতে ভালোবাসেন। সে কারণে আমরা মাঝেমধ্যে একেকটি খাতের উত্থান লক্ষ করি। গত বছর যেমন আমরা ব্যাংকের উত্থান দেখেছিলাম।
তবে বস্ত্র খাতের শেয়ারদর বৃদ্ধি নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্যও করেছেন কেউ কেউ। তাদের অভিযোগ এ খাতে দুর্বল এবং স্বল্প মূলধনি কোম্পানির সংখ্যা বেশি, যে কারণে কারসাজিকারীরা সহজেই এসব কোম্পানির শেয়ার নিয়ে গেম করতে পারে।
এ প্রসঙ্গে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সিকিউরিটি হাউজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, বর্তমানে এ খাতের কিছু কোম্পানিতে কারসাজিকারীদের দৌরাত্ম্য বেড়েছে, যে কারণে এসব শেয়ারদর ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে।