সম্পাদকীয়

বহুজাতিক কোম্পানির সেবায় জালিয়াতি অপ্রত্যাশিত

দেশের আর্থিক খাতের প্রায় সব ধরনের প্রতিষ্ঠানে অস্থিরতা ও বিচ্ছৃঙ্খলা চলছে দীর্ঘদিন। এর মধ্যে ব্যাংক প্রতিষ্ঠানগুলো শীর্ষে রয়েছে সন্দেহ নেই। এছাড়া বিমা কোম্পানিগুলো নিয়েও অভিযোগের শেষ নেই। প্রিমিয়াম জমা থেকে শুরু করে বিমা দাবি পরিশোধ পর্যন্ত নানা অনিয়মের কথা শোনা যায়। বিকল্প তেমন কোনো ব্যবস্থা না থাকায় ব্যাংক কিংবা বিমা কোম্পানির কাছেই যান মানুষ। তবে এ ধরনের অনিয়ম-দুর্নীতিতে দেশীয় কোম্পানিগুলো বেশি জড়িত হওয়ায় বহুজাতিক কোম্পানিগুলোয় মানুষের আস্থা বেশি। অথচ বহুজাতিক মেটলাইফ কোম্পানির এজেন্টের বিরুদ্ধে জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে, যা অপ্রত্যাশিত।
গতকালের দৈনিক শেয়ার বিজে ‘ফেনীতে মেটলাইফ এজেন্টের জালিয়াতি’ শিরোনামে একটি বিশেষ প্রতিবেদন ছাপা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার এক প্রবাসীর বিমা পলিসি নিয়ে জালিয়াতি করেছে মেটলাইফের স্থানীয় এজেন্ট। ওই প্রবাসীর কাছ থেকে বিমার কিস্তি বাবদ নেওয়া সব অর্থ তার পলিসির বিপরীতে খোলা হিসেবে জমা না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ওই এজেন্টের বিরুদ্ধে। এমনকি বিমা পলিসির আবেদন করলেও দেওয়া হয়েছে ডিপিএস। বিষয়টি নিয়ে মেটলাইফ কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করলে ঘটনা স্বীকার করে গ্রাহকের সব অর্থ ফেরত দিচ্ছে মেটলাইফ। এ উদ্যোগ প্রশংসনীয় হলেও মেটলাইফের মতো প্রতিষ্ঠানের সেবার এত বড় অনিয়ম কোনোভাবেই প্রত্যাশিত হতে পারে না।
দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে নানা ধরনের অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে দীর্ঘদিন। এক্ষেত্রে বহুজাতিক কোম্পানিগুলো নানা ধরনের নিয়ম-নীতি এবং সঠিক পন্থায় ব্যবসা করায় তাদের প্রতি গ্রাহকের আস্থা বেশি। সে অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যবসা করেও। এক্ষেত্রে মেটলাইফের এজেন্ট যে ধরনের প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছে, তা প্রতিষ্ঠানের সুনাম নষ্ট করবে বৈকি। এজেন্ট নিয়োগ দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটির আরও সতর্কতা অবলম্বনের প্রয়োজন ছিল। খবরেই উল্লেখ করা হয়েছে, যে এজেন্ট জালিয়াতি করেছে, তার বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে সে বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি, যা উদ্বেগজনক।
ওই প্রবাসী গ্রাহক পর্যায়ক্রমে ২০১৬ ও ২০১৭ সালেও বিমার কিস্তিবাবদ এজেন্সির মাধ্যমে সমপরিমাণ অর্থ পরিশোধ করেছেন। অথচ এজেন্সি জমা দিয়েছে দুই কিস্তি। এছাড়া তাকে বিমা পলিসির দলিলও হস্তান্তর করেনি। এক্ষেত্রে মেটলাইফ কর্তৃপক্ষকেও দায়সারা অবস্থান নিতে দেখা গেছে। বহুজাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে এ অবস্থা কাম্য নয়। গ্রাহক সেবা দিতে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। এজেন্ট নিয়োগ দেওয়ার ক্ষেত্রেও আরও সতর্কতা অবলম্বন জরুরি। গ্রাহকের আস্থা কোনো কারণে নষ্ট হলে তা বিমা খাতসহ সব ধরনের আর্থিক প্রতিষ্ঠানে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আমরা মনে করি।

 

 

 

সর্বশেষ..