বাণিজ্য সংবাদ

বাংলাদেশের উন্নয়নে রয়েছে দুই বড় চ্যালেঞ্জ

আইসিসি বাংলাদেশের সভায় মাহবুবুর রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক: আইসিসি বাংলাদেশের সভাপতি মাহবুবুর রহমান বলেছেন, বাংলাদেশের উন্নয়নের পথে দুটো বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এর মধ্যে একটি হচ্ছে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং অন্যটি হচ্ছে অসমতা দূরীকরণ সংক্রান্ত। যদি দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির এ ধারা অব্যাহত থাকে, সবার মধ্যে এর সুষম বণ্টন নিশ্চিত করতে হবে। গতকাল রাজধানী এক হোটেলে আইসিসি বাংলাদেশের ২৪তম বার্ষিক সাধারণ সভায় নির্বাহী বোর্ডের প্রতিবেদন উপস্থাপনকালে তিনি এসব কথা বলেন।
সভায় আইসিসিবি সভাপতি বলেন, নিয়মকানুন আগে থেকে বোঝা না যাওয়ার কারণে ব্যবসায়ীরা নানা ধরনের অনিশ্চয়তায় ভোগেন। এর ফলে প্রপারটি রাইটস অনিশ্চিত হয়, বিনিয়োগ সংকুচিত হয়। ফলশ্রুতিতে ব্যবসায় অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। বড় ও ছোট ফার্মগুলোর চেয়ে মাঝারি ফার্মগুলো বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং পলিসি বাস্তবায়নে অসংগতি দেখা দেয়। এতে করে কর্মসংস্থানের প্রবৃদ্ধি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বাংলাদেশের রেগুলেটরি পদ্ধতির সংস্কারের জন্য সরকারের ভেতরেই একটি কারিগরি রেগুলেটরি ওভারসাইট বডি গঠন করা দরকার।
কতটুকু লক্ষ্য অর্জিত হবে এটা নির্ভর করে কত দ্রুত বাংলাদেশ চ্যালেঞ্জেসসমূহ সমাধান করতে পারে। বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন যে বিদেশি এবং স্থানীয় বিনিয়োগকে বাড়াতে হবে এবং অচিরেই অর্থনৈতিক জোনের কার্যক্রম শুরু করতে হবে, বলেন মাহবুবুর রহমান।
তিনি বলেন, ২০২১ সালের মধ্যে উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশে এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উচ্চ আয়ের দেশে পরিণত হওয়ার লক্ষ্যে বাংলাদেশের ব্যাপক বিনিয়োগ প্রয়োজন হবে ফিজিক্যাল ক্যাপিট্যাল, হিউম্যান ক্যাপিট্যাল এবং ইনভেশনের ক্ষেত্রে। অর্থনৈতিক খাত, বিজনেস রেগুলেশনের সংস্কার প্রয়োজন এবং অবকাঠামো খাতের বৈসাদৃশ্য দূর করতে হবে।
বিশ্বব্যাংক ডেভেলপমেন্ট আপডেট প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে বাংলাদেশে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ এখনও অপ্রতুল। বিভিন্ন চ্যালেঞ্জকে মোকাবিলা করার জন্য বিশেষত বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য এবং রফতানি বহুমুখীকরণের জন্য উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন বলে বিশ্বব্যাংকের আপডেটে বলা হয়। মন্দ ঋণ বৃদ্ধির বিষয়ে আপডেটে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। ঋণদান, দুর্বল ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও দুর্বল করপোরেট গভর্ন্যান্সের কারণে মন্দঋণ বেড়েছে। ঋণ পুনর্নির্ধারণ এবং রাইট অফসও বেড়েছে, যার ফলে ব্যাংগুলোর ওপর চাপ আরও বেড়েছে, আইসিসিবি সভাপতি উল্লেখ করেন।
অর্থনৈতিক খাতের স্থিরতা এবং শৃঙ্খলা আনয়নের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের রেগুলেশনের স্বায়ত্তশাসন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঝুঁকিভিত্তিক তত্ত্বাবধান, ঋণ পুনর্নির্ধারণ গাইডলাইন আরও জোরদারকরণ, এডহক ঋণ পুনর্নির্ধারণ বন্ধ করা ইত্যাদি নিশ্চিত করতে হবে, বলেন আইসিসি বাংলাদেশ সভাপতি।
সভায় কাউন্সিলে আইসিসি বাংলাদেশের নির্বাহী বোর্ড রিপোর্ট এবং অডিটেড ফাইনান্সিয়াল স্টেইটমেন্ট ২০১৮ গৃহীত হয়।

সর্বশেষ..



/* ]]> */