দুরে কোথাও

বাংলাদেশের কয়েকটি প্রাচীন মসজিদ

বাংলাদেশে মোগল আমলের বিভিন্ন স্থাপনা ধ্বংস হয়ে গেলেও এখনও টিকে আছে অনেক নিদর্শন। এর মধ্যে প্রাচীন মসজিদগুলো অন্যতম। বাংলাদেশে অবস্থিত কয়েকটি ঐতিহ্যবাহী মসজিদের দেখা মিলেছে। আজ কয়েকটির পরিচিতি তুলে ধরা হলো।

বাবা আদম মসজিদ
মুন্সীগঞ্জের দরগাবাড়ি গ্রামে ১৪৮৩ খ্রিষ্টাব্দে বাবা আদম মসজিদটি নির্মিত হয়। এ মসজিদ চত্বরে রয়েছে বাবা আদমের (র.) মাজার। ছয় গম্বুজবিশিষ্ট মসজিদটির দৈর্ঘ্য ৪৩ ফুট ও প্রস্থ ৩৬ ফুট। বর্তমানে বাবা আদম মসজিদটি বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতরের তত্ত্বাবধানে রয়েছে।

দারাসবাড়ি মসজিদ
চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে দারাসবাড়ি মসজিদ অবস্থিত। ১৪৯৩ সালে নির্মাণের পর মসজিদটি ফিরোজপুর জামে মসজিদ নামে পরিচিত ছিল। মসজিদটি দীর্ঘদিন মাটিচাপা ছিল, যা গত শতাব্দীর সত্তরের দশকে উম্মোচন করা হয়।
ছোট সোনা মসজিদ
চাঁপাইনবাবগঞ্জে আরও একটি ঐতিহাসিক মসজিদ রয়েছে। এ মসজিদও ১৪৯৩ সালে নির্মিত হয়। শিলালিপি থেকে জানা যায়, মসজিদের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন ওয়ালি
মোহাম্মদ। উত্তর-দক্ষিণে ৮২ ফুট লম্বা ও পূর্ব-পশ্চিমে ৫২ দশমিক পাঁচ ফুট চওড়া মসজিদটি সম্পূর্ণ সোনালি রঙে ঢাকা ছিল। তাই একে ‘গৌড়ের রত্ন’ বলা হতো।

বাঘা মসজিদ
রাজশাহী সদর থেকে ৪১ কিলোমিটার দূরে বাঘা উপজেলায় ঐতিহাসিক বাঘা মসজিদটি অবস্থিত। ১৫২৩ সালে আলাউদ্দিন শাহের ছেলে সুলতান নুসরাত শাহ এ মসজিদটি নির্মাণ করেন। ২৫৬ বিঘা জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত মসজিদে ১০টি গম্বুজ রয়েছে। ২২ দশমিক ৯২ মিটার দৈর্ঘ্য ও ১২ দশমিক ১৮ মিটার প্রস্থের বাঘা মসজিদে রয়েছে চারটি কারুকার্যময় মেহরাব। এ মসজিদের পাশে একটি মাজার শরিফ রয়েছে।

কুসুম্বা মসজিদ
নওগাঁর মান্দা উপজেলার কুসুম্বা গ্রামে অবস্থিত কুসুম্বা মসজিদ। এটি বাংলাদেশের একটি প্রাচীন স্থাপনা। ১৫৫৪ সালে নির্মিত মসজিদটির দৈর্ঘ্য ৫৮ ফুট, প্রস্থ ৪২ ফুট। কুসুম্বা মসজিদের ছাদে দুই সারিতে ছয়টি গম্বুজ রয়েছে। আফগানী শাসনামলে জনৈক সুলায়মান নামক একজন ব্যক্তি এ মসজিদটি নির্মাণ করেন।

চাটমোহর শাহি মসজিদ
পাবনার চাটমোহর উপজেলায় অবস্থিত চাটমোহর শাহি মসজিদ। ১৫৮১ সালে মাসুম খাঁ কাবলি নামের সম্রাট আকবরের জনৈক সেনাপতি চাটমোহর শাহি মসজিদ নির্মাণ করেন। একসময় এ মসজিদ প্রায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতর এটিকে পুনর্নির্মাণ করে।

হাজীগঞ্জ ঐতিহাসিক বড় মসজিদ
চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে অবস্থিত শৈল্পিক কারুকার্যময় হাজীগঞ্জ ঐতিহাসিক বড় মসজিদটি আয়তনের দিক দিয়ে উপমহাদেশের বড় মসজিদগুলোর মধ্যে অন্যতম। ১৩৩৭ বঙ্গাব্দে হাজী আহমদ আলী পাটোয়ারী হাজীগঞ্জ ঐতিহাসিক বড় মসজিদ প্রতিষ্ঠা করেন। এর আয়তন ২৮ হাজার ৪০০ বর্গফুট।

আতিয়া মসজিদ
টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলায় অবস্থিত আতিয়া বা আটিয়া মসজিদ। এ মসজিদের প্রধান কক্ষের ওপর একটি এবং বারান্দার ওপর ছোট তিনটি গম্বুজ রয়েছে। জানা যায়, আফগানের সাঈদ খান পন্নি ১৬০৯ সালে মসজিদটি নির্মাণ করেন। ২২৮ বছর পর অর্থাৎ ১৮৭৩ সালে মসজিদটি ঝুঁকিপূর্ণ হলে সংস্কার করা হয়। শেষ সংস্কার করা হয় ১৯০৯ সালে।

ফুলচৌকি মসজিদ
রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার ফুলচৌকি গ্রামে মসজিদটির অবস্থান। গ্রামের নামেই এর নামকরণ করা হয়েছে। ১৮২২ খ্রিষ্টাব্দে নির্মিত এ মসজিদটির কোনো সংস্কার করার প্রয়োজন পড়েনি। এর দৃষ্টিনন্দন কারুকাজ এখনও আগের মতোই সুন্দর। মসজিদের প্রবেশদ্বারে একটি ফুলবাগান ছিল। বর্তমানে স্থানীয়রা সে জায়গাটি কবরস্থান হিসেবে ব্যবহার করছে।

সর্বশেষ..